অপরাধী লেখক_অন্তর অন্তিম_পর্ব

 অপরাধী লেখক_অন্তর অন্তিম_পর্ব

অপরাধী
লেখক_অন্তর
অন্তিম_পর্ব
,
,
,
মেয়েটার দিকে তাকালাম মেয়েটার দিকে তাকিয়েই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো।কারন যে আমাকে সরি বলল সে আর কেউই না রিদিকা।

–রিদিকা তুমি!(আমি)

–অন্তর তুমি, তুমি এখানে কি করতেছো??(রিদিকা)

–আমি, আমি তো এখানে একটা কাজে আসছিলাম কিন্তু তুমি এখানে কি করো!(আমি)

— আন্টি আমাকে এখানে নিয়ে আসছে।আর আমি তোমাকেই কল দিতাম!অন্তর তোমার মামা নাকি এক্সিডেন্ট করছে আর আজকে সকালে আন্টি তা জানতে পেয়ে কান্না কাটি শুরু করে দেয় পরে ছুটাছুটি করতে থাকে হস্পিটালে আসার জন্য,সে একাই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায় আন্টি একা বলে পরে আমিও আন্টির সাথে চলে আসি।(রিদিকা)

–মানে, কি বলতেছো তুমি,তার মানে যার সাথে ধাক্কা খেলাম সেটা আম্মুছিলো!আর কে বলছে মামার এক্সিডেন্টের কথা!কার থেকে খবরটা শুনলো আম্মু!(আমি)

–তা আমি জানি না, তবে আন্টি সকাল বেলা বাড়ির আঙ্গিনায় বের হয়ে গেছিলো পরে বাহির থেকে এসেই কান্না কাটি করতে থাকে।পরে রুম থেকে পার্স নিয়ে এসে সোজা বেরিয়ে যেতে লাগে।তবে তুমি কি এক্সিডেন্টের কথা জানতে??(রিদিকা)

–সেটা পরে বলবো আর আব্বু কোথায়?আব্বুকি বাড়িতেই ছিলো??(আমি)

–না আংকেল অফিসে গেছিলো!(রিদিকা)

আমি রুম থেকে কান্নার আওয়াজ পাচ্ছি,সাথে সাথে রুমের দরজা দিয়েই উকি মেরে দেখতে লাগলাম, দেখলাম আম্মু মামাকে ধরে কান্না করেই যাচ্ছে!আম্মু কি করেই এই প্রতারকের জন্য চোখের পানি ফেলছে আমি তা বুঝে উঠতে পারছি না।

–রিদিকা আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি তুমি আম্মুর দিকে খেয়াল রাখিও (আমি)

বলেই আমিও হাটতে নিবো তখনি আমি আর এগুতে পারলাম না কারন যে দিক দিয়ে বের হবো ঠিক সেই দিক থেকেই আব্বুকে আস্তে দেখলাম,শুধু তা-ই নয়,আব্বুর পিছন বরাবর দেখে তো আরো সক কারন আব্বু শুধু একাই আসতেছে না বরং আব্বু পিছন বরাবর থেকে আমি আপু ও দুলাভাইকেও আসতে দেখতেছি,আর তাদের আসা দেখেই আমার পা আর নড়ছে না পুরাই আটকে গেলো!সাথে সাথে আমিও রিদিকার দিকে ঘুড়ে দাড়ালাম।

–কি হলো থেমে গেছো যে!(রিদিকা)

–রিদিকা আমার ঠিক পিছন বরাবর দেখো!সবই বুঝতে পারবে!(আমি)

বলতেই রিদিকা আমার পিছনে দেখলো।

–আংকেল আসতেছে, আর একমিনিট তার সাথে একটা ছেলে একটা মেয়েও আসতেছে! (রিদিকা)

–রিদিকা আব্বুর সাথে যে মেয়েও ছেলেকে দেখতেছো তারা আর কেউ না আমার আপু ও দুলাভাই।(আমি)

–কিহহ,(রিদিকা)

–হ্যা, রিদিকা প্লিজ কিছু একটা করে আমাকে এখান থেকে বের করার ব্যবস্থা করো(আমি)

–এক কাজ করো, আমি তাদের অন্য দিকে মনোযোগ দেওয়াচ্ছি!তুমি আস্তে করে পাশ কেটে চলে যাইও!(রিদিকা)

বলেই রিদিকা আব্বুর কাছে চলে গিয়ে কথা বলতে লাগে রিদিকা কথার খেয়ালে আব্বু ও আপুদের তার প্রতি মনোযোগ দেওয়ালো!আর আমিও পাশ কেটে যেতে লাগি।

–আরে আপনি,এই যে দাড়ান!(পিছন থেকে)

কথাটা শুনতেই থেমে গেলাম,পিছনে তাকিয়ে দেখি মামাকে OT তে নেওয়ার সময় যে দুজন ওয়াড বয়ছিলো তাদের মধ্যের একজন। মানে হচ্ছেটা কি আমার সাথে, মানে ভাগ্য করতেছে কি,আমি চাচ্ছি সকল থেকে আড়ালে থাকতে কিন্তু ভাগ্য লেগেই আছে সকলের কাছে ধরা খাওয়াতে!

আর সেই ওয়াড বয়টা আমার কাছেই চলে আসে আর এই আমাকে ডাকাটা দেখে আব্বু আপু ও দুলাভাই আমার দিকেই তাকিয়ে আছে,

–আরে আরে আপনি কই যান?যাকে বাচালেন সেই ব্যক্তি আপনাকে দেখার জন্য কোতহল হয়েই আছে,সেই আপনাকে দেখতে চায় আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চায়,(ওয়াড বয়)

–না মানে, আমার একটু তাড়া আছে, আমি পরে দেখা করে নিবো!(আমি)

–না, আপনাকে অনেকবার বলা হইছে দেখা করতে কিন্তু আপনি সেই লোকটার সাথে দেখা করেনি তাই সেই লোকটা আমাকে রিকোয়েষ্ট করছে আপনাকে যেখানেই পাইনা কেন সোজা ধরে উনার কাছে নিয়ে যেতে!তাই চলুন আমার সাথে!(ওয়াড বয়)

পড়ে গেলাম মাইনার চিপায়, আব্বু আপু ভাইয়া আমার দিকেই তাকিয়ে আছে আর এই দিকে ওয়াড বয়ও লেগেই আছে আমার পিছে, সে আমাকে জোর পূবক টেনে নিয়ে যেতে লাগে।হয়তো সালা কিছু পাইছে তাই এমনটা করতেছে আর আমিও এখন তারে কিছু করতে পারবো না কারন কিছু করতে নিলেই আব্বু আপু ভাইয়া দেখে ফেলছে,

আমাকে ধরে নিয়ে ডাইরেক্ট রুমে ডুকালো আমি দেখলাম মামাও আম্মুকে ধরে কান্না করেই যাচ্ছে!

–আপুরে আমাকে ক্ষমা করে দেরে তুই,আমি লোভে পড়ে অন্ধ হয়ে গেছিলাম তাই তোদের বাড়ি থেকেই তোরে বের করে দি,শুধু তাই নয়রে তোর ছেলের সাথেও আমরা খুব খারাপ ব্যবহার করি,তার একমাত্র কারন হচ্ছে এই জঘন্য মহিলাটা(মামা মামীকে৷ দেখিয়ে)

দেখলাম কথাটা শুনেই মামীও মাথা নিচু করে কান্না করতে লাগে।

–আপু আমি তোর আদরে বড় হইছি,আমি সব সময় চাইতাম তোর সাথে মিশে থাকতে কিন্তু আপু আমি এক ডাইনিকেই বিয়ে করি যার জন্য আমাকে ফল ভোগ করতে হলো,এই ডাইনিটা আমাকেই আমার আপন মানুষগুলো থেকেই দূর করে দিলো,শুধু তাই নয়,বিশ্বাস কর আপু আমার লোভে পড়ার একমাত্র কারনই হচ্ছে এই ডাইনিটা আর নিজে যেমন ডাইনি হইছে তার বড় ছেলেটাও একই রকম বানিয়েছে সে, আর আমি মনে করি আমি যা কৃতকর্ম করলাম তার ফল সরূপই আমার এই অবস্থা হলো,আপু আমাকে তোর কাছে রাখবি আমি এই ডাইনির সাথে আর থাকতে চাই না, এ আমার সব শেষ করে দিছে।আর আজ থেকে এই দূশ্চরিত্র মহিলাটার সাথে সকল সম্পর্ক শেষ করলাম (মামা )

মামীও কথা গুলো শুনে কান্না করেই যাচ্ছে।

–আমি এই মহিলাকে তালাক দিবোই,এর মতো ডাইনি যার ঘরে থাকে সেই ঘরের সুখ শান্তি ধূলয় মিশে যায়।(মামা)

–আমাকে ক্ষমা করে দাও তুমি,আমার অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে, আমিও লোভের পড়েই এমনটা করছি,আমি মনে করতাম টাকা পয়সা গাড়ি বাড়ি থাকলেই সুখী হওয়া যায়, তাই এমনটা করলাম,তুমি আমাকে ছেড়ে দিও না তুমি ছাড়া আমার আর কেউই নেই, বিয়ের পরে একজন স্ত্রীর কাছে তার স্বামিই সব হয়ে থাকে,তোমার আশ্রয় থেকে আমাকে বঞ্চিত করিও না, আর আপু আমাকেও ক্ষমা করে দিন।আমিও নিজের ভুলটুকু পারছি আপু,আমাকে দূরে ঠেলে দিবেন না! (মামী আম্মুর পায়ে ধরে কান্না করা অবস্থায়)

জিনিসটা দেখেই বেশ ভালোই লাগতেছে, যে তাদের মধ্যে যে ভুল টুকু বুঝতে পারলো,হয়তো আম্মুর এখানে আসা দেখে ও মামার প্রতি আম্মুর ভালোবাসাই তাদের মধ্যে থাকার খারাপ জিনিস গুলো দূর করে দিলো,আমিও দাড়িয়েই আছি,তখনি রুমে আব্বু ভাইয়া আপু ও রিদিকা ডুকলো!রিদিকা আমার দিকে অবাক ভাবেই চেয়ে আছে।

–এই লিপি করিস কি,উঠ তুই,তুই তো আমার বোনই হোস,তোরা তোদের ভুলটা বুঝতে পারছিস তাই অনেক তোদের জন্য আমার মনে কোনো কষ্ট নেই,কারন আমি জানতাম তোরা শয়তানের ধোকায় পড়েই এই সব করছিস তাই আল্লাহর কাছে তোদের জন্য দোয়া করতাম যেন তোরা তোদের ভুল টুকু বুঝতে পারিস,আর ভাই লিপি ক্ষমা চাইছে তাকে একটা সুযোগ দে,তুই(আম্মু)

–না আপু,এই ডাইনির ক্ষমা নেই,আমি একে ক্ষমাই করবো না, এ ক্ষমার যোগ্য না! (মামা)

–দেখ, সে তার ভুল টুকু বুঝতে পারছে, আর যে তার ভুলের জন্য অনুতপ্ত তাকে ক্ষমা করেই দেওয়া উচিত!(আম্মু)

এরই মধ্যে মামা আব্বুকে দেখেই খাট থেকে উঠে যেতে লাগে,আর কষ্ট করে উঠেই আব্বুর পায়ে ধরে বসে

–দুলাভাই আমাকে ক্ষমা করে দেন আপনি,আমি সত্যিই অনেক বড় অপরাধী,আর আজ এই অপরাধীর এই অবস্থা একমাত্র কারন হচ্ছে রুহের বদ দোয়ায়,দুলা ভাই খুব বড় ভুল করছি,আমাকে যা খুশি শাস্তি দেন,কিন্তু আমাকে ক্ষমা করেই দিয়েন,(মামা কান্না করা অবস্থায়)

আব্বুও সাথে সাথে মামাকে ধরে উঠায়,আর সোজা জড়িয়ে ধরে,

–যাক অবশেষে তোর মধ্যে থাকা শয়তানটা চলে গেলো,আমার আর কোনো কষ্ট নেই, তোর সুধরে যাওয়া দেখেই আমার সব কষ্ট অভিযোগ চলে গেলো!(আব্বু)

যাক অবশেষে তাদের মধ্যে যে সমস্যা ছিলো যে ভেজাল ছিলো সবই মিটে গেলো।

–স্যার আপনাকে যে ছেলেটা হস্পিটালে এনে আপনার চিকিৎসা করায় ও রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়,আবার এসে এসে আপনার খেয়াল রাখতো এটাই সেই ছেলেটা!(ওয়াড বয়)

মামা ও বাকিরা আমার দিকে তাকায়,এতে আমার কিছুটা uneasy feel হচ্ছিলো!

–ধন্যবাদ বাবা তোমাকে, আমার জীবন্টা বাচানোর জন্য,আজ তোমার জন্যই আমার আপন মানুষগুলোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার মতো তোফিক পেলাম(মামা)

–আল্লাহ তোমাকে বাচিয়ে রাখুক বাবা,আজ তোমার জন্য আমার ভাইটা বেচে আছে,কতো সৌভাগ্যবান তোমার মা বাবা যে এমন একটা ছেলেকে জন্ম দিছে যে কিনা এক অপরিচিত মানুষকে বিপদে দেখে পাশে এসে দাঁড়ায়! তোমার মা বাবা কে আল্লাহ জেন সব সময় সুখে রাখুক(আম্মু)

আম্মুর কথাগুলো শুনে চোখে প্রায় পানি চলেই আসছে কিন্তু পড়তে দিচ্ছি না! খুব কষ্ট করেই আটকে রাখলাম, আর দেখলাম রিদিকাও আমার দিকেই তাকিয়ে আছে,আর আমাকে দেখছে!

–বাবা তোমার নাম কি,আর তোমার মুখের মাস্কটা খুলো,তোমার চেহারাটা দেখতে ইচ্ছা করতেছে আমাদের (মামা)

–হ্যা বাবা একটু মাস্কটা সরাও দেখি তোমার চেহারাটা!(আম্মু)

–আরে এখন করোনার সময় তাই মাস্ক না খোলাটাই ভালো,আর আমার নাম দিয়ে কি করবেন,আমি আপনাকে বাচালাম ঠিকি তার মানে এই না যে আমার সম্পকে আপনাদের জানাবো,আমরা যেহুতু অপরিচিত তাই অপরিচিত থাকাটাই ভালো,আর আপনাকে বাচানোটা আমার কর্তব্য ছিলো,(আমি একদম ঠান্ডা গলায়)

–আচ্ছা আমি যাই আমার কিছু গুরুত্বপূর্ন কাজ আছে, সেটা মেটাতে হবে!ভালো থাকবেন আপনারা (আমি ঠান্ডা গলায়)

–এক মিনিট দাড়ান আপনি!নড়বেন না আপনার জায়গা থেকে।

দেখলাম কথা আপু বলে আর সে ডাইরেক্ট আমার সামনে এসেই দাঁড়ায়,কিছুক্ষন আমার দিকেই দেখে সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগে,বেপারটা দেখেই সেখানে থাকা সকলেই অবাক হয়ে যায়।আর আমাদের দিকেই অবাক চোখেই তাকিয়ে আছে সবাই!

–এই নাসরিন, কি করতেছিস তুই,এক অচেনা ছেলেকে সকলের সামনে এভাবে জড়িয়ে ধরলি, তোর স্বামিও উপস্থিত,এখানে,ছাড় ছেলেটাকে!(আম্মু)

–নাসরিন এভাবে অসভ্যের মতো ছেলেটাকে ধরে আছিস কেন,ছাড় একে!আর একে ধরে কান্না করতেছিস কেন তুই!দেখ ছেলেটাকে ছাড় বলতেছিস!(আব্বু)

–এ কোনো অচেনা ছেলে না! শুধু অচেনা সেজে দাঁড়িয়ে আছে এই ছেলেটা!(আপু)

–আমি জানতাম এটাকে তুই চিনিস, নাসরিন ছি,নিজের স্বামি থাকার পরেও পর পুরুষকে কিভাবে ধরলি,(আম্মু)

বলতেই আপু হুট করেই আমার মুখ থেকে মাস্কটা টান দিয়ে বের করে নেয়,আর আমার চেহারা দেখেই আপু ও রিদিকা ছাড়া বাকি সবাই অবাক হয়ে গেলো!

–আম্মু আব্বু দেখো ভালো করে আর বলো এ কি পরপুরুষ? !আর,তুই কি মনে করছিস তুই আমাকে ফাকি দিয়ে এখান থেকে চলে যাবি তাই না।আমি তোকে বাহিরেই দেখে আমার কিছুটা সন্দেহ হলো তোর উপর,কি করে পারিস তুই এভাবে অচেনা সেজে থাকতে হ্যা। কিভাবে পারিস তুই আমাদের থেকেও নিজেকে দূরে রাখতে!(আপু)

বাকিরা আমাকে দেখেই ভুত দেখার মতো চেহারার ভঙ্গিমা করে রাখছে!শুধু আম্মু আব্বু রিদিকা ও আপু ছাড়া!

আম্মু আব্বু সাথে সাথে আমার কাছে ছুটে আসে,আর দুজনেই আমাকে শক্ত করে ধরে। আর কান্না অনবরত কান্না করে দেয় তারা দুজনেই।

–আম্মু কি হইছে তুমি কান্না করতেছো কেন,এটা তো পরপুরুষ তাহলে এখন তোমরাই বা কেন তাকে জড়িয়ে ধরলে??(আপু)

কিন্তু কোনো কথা না বলেই তারা অনবরত কান্না করেই যাচ্ছে।

–আব্বুরে আমাদের একা করে কই চলে গেছিলি তুই,কিভাবে পারলি তুই আমাদের থেকে দূরে থাকতে??(আম্মু জড়িয়ে ধরে)

–কিরে বাবা তুই কেন আমাদের ছেড়ে গেলি,আমাদের জন্য কি তোর মায়া পড়ে না!তুই জানিস না তোর আম্মু তোর জন্য পাগলের মতো হয়ে গেছে তোকে না পেয়ে সে সব সময় আধ মরার মতো থাকতো,তুই কি করে পারলি আমাদের ছেড়ে থাকতে!(আব্বু জড়িয়ে ধরা অবস্থায়)

দুজন থেলেই আমি নিজেকে সরিয়ে নিলাম

–আপনাদের থেকে দূরে থাকাটা অতোটা সহজ ছিলো না কিন্তু পারতে হলো আমাকে।থাকতে হলো আপনাদের থেকে দূরে।আর সামনেও তাই হবে!(আমি)

–আব্বু তুই আমাদের আপনি কেন বলতেছি! (আম্মু)

–তো আর কি বলতাম, যেটা শুনতে চাচ্ছেন আপনারা সেটা মনে হয় না আমার মুখ থেকে আর শুনা যাবে।(আমি)

–এই বাবা এমন করে বলতেছিস কেন তুই,আর দূরে থাকতে হবে মানে!(আব্বু)

–এমন করে বলবো না তো কেমন করেই বলবো,যেটা সত্যি সেটাই বলতেছি,আমার মুখ থেকে ঐ শব্দ গুলো আর শুনতে পারবেন যেগুলো আপনারা শুনতে চাচ্ছেন, আর হ্যা এতো দিন যেহুতু আপনাদের ছাড়া দিন কাল কাটাতে পারলাম ইনশাআল্লাহ আগামীতেও পারবো!(আমি একটা হাসি দিয়ে)

–ভাই প্লিজ আমি তোর কাছে হাত জোর করে ক্ষমা চাচ্ছি প্লিজ সব দোষ আমার,আমার দোষের ভাগিদার আম্মু আব্বুকে বানাইসা তুই,(আপু)

–আমি তাদের আপনার দোষের ভাগিদার বানাচ্ছি না,আমি আলাদা হয়েই থাকতে চাই এই সকল ফেমেলি ড্রামা আমার দেখতে ভালো লাগে না।আমি নিজেকে নিয়েই থাকতে চাই,কেউকেই চাই না শুধু নিজেকেই নিয়ে একাই থাকতে চাই!আপনাদের মতো মানুষদের সাথে একত্রে থাকতে চাই না!(আমি)

–অন্তর আমি জানি তুই কেন এই কথা গুলো বলতেছিস,আম্মু এই শয়তানটার মনের আমাদের জন্য ক্ষোপ জমে আছে, আগেও এর সাথে আমার কথা হইছিলো,আম্মু আমাদের উপর রেগেই সে এমনটা বলতেছে!(আপু)

–যদি আপনারা তাই ভাবেন তাহলে ভালো, মোট করা আমি আপনাদের সাথে নেই,আমি আমার রাস্তা বানিয়ে রাখছি আমি আমার রাস্তায় চলে যাবো!কথা শেষ তাই কথা বাড়িয়ে লাভ নেই হা হা হা।(আমি)

–আব্বুরে এমনটা বলিস না, তুই আমার ৭ রাজার ধন,তোকে ছাড়া আমরা খুব কষ্টে আছিরে,(আম্মু)

–অন্তর, তুই যদি আব্বু আম্মুর থেকে ছুটেই যেতি তাহলে কেন আম্মু আব্বুর খেয়াল রাখছিস!কেন তাদের যত্ন নিছিস!(আপু)

–অন্তর!ভাইয়া ও আপু তো কোনো দোষ করে নাই!দোষ তো আমিই করছি তাহলে আমার মতো একটা শয়তানকে বাচালি তুই!রাগ থাকলে আমার উপরেই থাকাটা সাভাবিক ছিলো কিন্তু ভাইয়া ও আপুর উপর কেন রেগে আছিস,(মামা)

–আপনাদের প্রশ্ন গুলোর উত্তর গুলো শুনুন।আপনাদের উপরে আমার দায়িত্ব আছে,সেটাই পালন করলাম,হ্যা জানি আপনি আমাদের উপর অনেক অন্যায় করছেন (আমাকে উদ্দেশ্য করে)কিন্তু কারো ক্ষতি করার মনোভাব আমার মধ্যেই নেই আর আপনারা যা করছেন আমিও তাই করলে আপনাদের মধ্যে আর আমার মধ্যে পার্থক্য কোথায়!আর তাছাড়া আপনারা আমার আপন মানুষ আর কোনো কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করা উচিত,কিন্তু আপন মানুষদের পাশে দাড়াতেই হবে, আজ যদি বসে থাকতাম তাহলে একদিন তার জন্য জবাব দিতে হতো, তাই আপনাদের উপর যে দায়িত্ব আছে তা পালন করলাম,আপনারা খারাপ হোন ভালো হোক,যাই হোন না কেন আপন তো,আর আপন মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো প্রতিটা মানুষেরই কর্তব্য। তাই আপনাদের বিপদে পাশে দাড়ালাম,যেহুতু আপনাদের বিপদ কেটে গেছে তাই আমিও এবার সরে যাবো আপনাদের থেকে!(আমি)

–দেখ বাবা, এমনটা বলিস না, তুই আমাদের শেষ সম্বল!তোর বোন এখন পরের বাড়ির বউ হয়ে গেছে আর একটা পরিবারে একমাত্র ছেলেই সেই পরিবারের শেষ সম্বল হয়ে থাকে! আশ্রয় টুকু হয়ে থাকে তার বাবা মায়ের, দেখ আমাদের দূরে ঠেলে দিস না বাবা!(আব্বু)

–হা হা হা কিছু করার নেই, আমি অনেক আগেই সিধান্ত নিয়ে নিছি তাই আমার সিধান্ত থেকে আমি পিছু হাটছি না, আর কথা রইলো শেষ সম্বলের একদিন এই শেষ সম্বলটা পরিবার থাকা কালিন এতিমের মতো বসোবাস করছে, এই সম্বলের কিছু মানুষের উপর আস্তাছিলো কেউ বিপদে পাশে দাঁড়াক আর না দাড়াক সেই মানুষগুলোই দাঁড়াবে কিন্তু সেই শেষ সম্বল ভুল প্রমানিত হয়,শেষ সম্বলের সাথে একটা অন্যায় হয় দোষ না করেই সেই শেষ সম্বল অপরাধী হয়ে যায়।আর তার প্রতি আর কেউই বিশ্বাস রাখেনি,জানেন সেই শেষ সম্বল কারো কলের জন্য ২দিন যাবৎ মোবাইলটা চালু করে রাখছিলো কিন্তু যাদের কলের আসা করছিলো তাদের কোনো খোজই নেই,পরে সেও জেদ করে, সিমটা বন্ধ করে দেয়,আর সেই দিনই ভেবে নেয় যারা তাকে বুঝলো না তাদের কাছে আর ফিরবে না সে।যখন মানুষের মনের বিশ্বাস পূরাপূরি মিটে যায় সে আর সেই মানুষগুলোর আসায় থাকে না।তাই আমিও আপনাদের আশা বাদ দিয়ে দিছি।তাই আমাকে যতোই ফোর্স করুন আমি আর নরম হচ্ছি না।আর যেহুতু বিপদ কেটে গেছে তাই আমারও এখানে আর থাকাটা ঠিক হবে না!(আমি)

বলেই সেখান থেকে যেতে নি!

–কোথায় যাচ্ছিস তুই আব্বু!আমাদের ছেড়ে যাইস নারে আব্বু!(আম্মু)

–বাবারে ভুল হয়েগেছে রে,আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারছি,আমাদের উচিত ছিলো অন্তত একবার তোর খোজ নিয়ে তোকে জিজ্ঞেসা করার কিন্তু ঘটনাটা শুনেই সত্যি রেগে যাই,তোর আম্মু কল দিতে চাইছিলো কিন্তু আমি তাকে বলি তোকে যদি কল দেয় বা কোনো ভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাহলে আমিও বাড়ি থেকে চলে যাবো!আমার জন্যই তোর আম্মু তোর সাথে যোগাযোগ করে নি,আমিই অপরাধী তোর আম্মু কোনো দোষ করে নি,তাকে সাস্তি দিস না বাবা(আব্বু)

–বললাম তো,সিধান্ত নেওয়া হয়েই গেছে, আমাকে আর বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই,এখন বাধা দিবেন হয়তো এমন আঘাত পাবেন যা ভুলার মতো হবে না।পারলে আমাকে ভুকে যাইয়েন,মনে করবেন আপনাদের কেবল একটা সন্তানই ছিলো সেটা আপনাদের মেয়ে,আপনাদের কোনো ছেলে সন্তানই নেই।আর মিঃ রফিক উদ্দিন !(মামার নাম)একটা কথা বলি!কোনো দিন অন্যায় হক মেরে রায় পাবেন না মরলে উপর ওয়ালাকে তার জবাব দেওয়া লাগবে।তাই সময় থাকতে যার জিনিস নিছেন তাকে ফিরিয়ে দিয়েন অন্যের জিনিসে হক জমিয়ে দাবিদার হইয়েন না, আর আপনার ভাগ্য এতোই ভালো যে এনার মতো একজন মানুষকে বোন হিসেবে পেলেন যে কিনা আপনার এই ব্যবহারের পরেও আপনার জন্য চোখে পানি ফেলে ভাই ভাই করে কান্না করছে।ভালো থাকবেন খোদাহাফেজ!(আমি)

বলেই আমি ডাইরেক্ট সেখান থেকে বেরিয়ে যাই,আমার যাওয়া দেখে আম্মু হাউমাউ করে কান্না করতে লাগে,জানি আমি কঠিন রূদয়ের হয়ে গেছি কিন্তু আজ যদি তাদের থেকে দূরে না যাই এরপরে তারা নিজেরাই অনেক কষ্ট পাবে আর আমি কেউকে কষ্ট দিতে পছন্দ করি না।

এরপর আমি ডাইরেক্ট রূদয়ের বাসায় চলে যাই।আর মোবাইল অফ করেই রাখি,আর সেখানে ২ দিন কাটিয়ে দিলাম।

২ দিন পর

গতকালকেই আমার ঢাকা ফেরার কথা কিছু শরীরটা খারাপ হয়ে যাওয়ার কারনে যাওয়া হয় নি,শরীরের শক্তি কমে আসছে আর বলার গলার স্বরও ছোট হয়ে গেছে। আমিও রুমে খাটে হেলান দিয়ে শুয়ে আছি,ল।তখনি রূদয় আমার কাছে আসে!

–কিরে ভাই তোর চেহারা সুরুতেই এই অবস্থা কেন,আর হঠাৎ করেই শরীরের এই অবস্থা হলো কেন!মুখের মধ্যে এক প্রকার কালছে কালার চলে আসছে! (রূদয়)

–আরে ধুর, আচ্ছা রূদয় তোর কাছে একটা আবদার করবো ভাই!(আমি)

–কি বল!(রূদয়)

–দোস্ত, তুই তো জানিসই আমি চলে যাবো আর ফিরবো না, তুই কি আমার আব্বু আম্মু খেয়াল রাখতে পারবি!(আমি)

–অন্তর, ভাই শুন যা করতেছিস মোটেও ঠিক না,দেখ তোর আব্বু আম্মু তোর জন্য পাগলের মতো বিহেব করতেছে আর তুই কিনা তাদের থেকে দূরে চলে যাবি!দেখ তারা ভুল করছে তাই বলেই কি তাদের ভুলের জন্য এতো বড় শাস্তি দিবি!দেখ অন্তর এখনো সময় আছে ফিরে যা তাদের কাছে!(রূদয়)

–দোস্ত,আর সম্ভব না, আর সময়ও নেই আমার কাছে, প্লিজ ভাই তুই আছিস অন্তত দিনে একবার হলেও তাদের কাছে গিয়েও তাদের খবর নিস, তোর কাছে এটা আমার শেষ চাওয়া!(আমি)

–সালা তোর চাওয়ার কমতি আছে নাকি!(রূদয়)

–না ভাই, সত্যিই বলতেছি এটাই শেষ চাওয়া এরপরে যদি তোর থেকে আর কিছু চাইবো না,! (আমি)

ঠিক তখনি তানভির কই থেকে রুমে দোড়ে আসে!দোড়ে এসেই আমার দিকে এক ধেয়ানে তাকিয়ে থাকে।

–কিরে সালা এভাবে দোড়ে আসলি কেন!নেহা কি দোড়ানি দিছে নাকি!(রূদয় হেসে)

–তুই কি করে পারলি আমাদের থেকে এতো বড় কথা লুকিয়ে রাখতে!(তানভির চিৎকার করে)

–এই তানভির চিল্লাচ্ছিস কেন!দেখতেছিস অন্তর অসুস্থ। আর কি লুকাইছে এতে!(রূদয়)

ঠিক তখনি রিদিকা, আম্মু, আব্বু, আংকেল, আন্টি, আপু, দুলাভাই, নেহা, মাওয়া, মামা মামী ফয়সাল,মাওয়া, নেহা রুমে আসে।

রিদিকা এসেই ডাইরেক্ট আমাকে হেলান দেওয়া অবস্থায় জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করতে লাগে আর এমন ভাবে ধরে আছে যে আমি কোথাও হারিয়ে যাবো তাই সে আমাকে শক্ত ভাবেই ধরে।

–আরে আপনারা সবাই,আর উনি অন্তরকে ধরে কান্না করতেছে কেন!(রূদয়)

–আমি বলছি উনি কেন আপনার বন্ধুকে ধরে কান্না করছে!

আমি দেখলাম এই কথাটা আর কেউ না সেই ডাক্তারটাই বলে যে কিনা মামার চিকিৎসা করছে,আমার বুঝতে বাকি রইলো না সে আমার সত্যিটা জেনে গেছে ও সবাইকেও বলে দিছে।আমি পূরাপূরি চুপ হয়েই থাকি!

–আপনার বন্ধুর এই রকম অবস্থা দেখেও আপনাদের প্রতি কোনো সন্দেহ হয় নি!(ডাক্তার)

–না ডাক্তার, আসলে কাহিনীটা কি বলেন তো!(রূদয়)

–আপনার বন্ধুর ব্লাড ক্যান্সার!(ডাক্তার)

কথাটা শুনেই রূদয় সক খেয়ে যায়!

–এই মিয়া কি বলতেছেন আপনি!মস্কারি পাইছেন মিয়া!অন্তর কি বলতেছে এরা!(রূদয় রেগে)

–রূদয় ডাক্তার সাহেব ঠিকি বলতেছেরে! (তানভির কান্না করে)

–হ্যা আপনাদের বন্ধুর ব্লাড ক্যান্সার, ঐদিন যখন আপনার বন্ধু ব্লাড দিতে চাইছিলো,সেখানে ব্লাড টেষ্টে আপনার বন্ধুর রক্তে যেন কিছু একটা সমস্যা পায়,তাই ব্লাড নিতে মানা করে আপনার থেকে ব্লাড দেওয়া হয়,পরের দিন সকাল বেলা আমার মোবাইলে কল আসে সেখানে জানতে পারি কেন আপনার বন্ধুর রক্ত নিতে বারন করা হয় কারন তার রক্তে ক্যান্সার পাওয়া যায়।সেটা জেনেই আমিও তাকে খুজতে থাকি যখনি উনাকে(মামাকে দেখিয়ে)জিজ্ঞেসা করি আপনাকে যে ছেলেটা বাচাইছে সে আসছে! তখন তিনি বলেন না, সে আসে নি,দেখাও করে নি,পরপর দুদিন এভাবে জিজ্ঞেসা করা হয়,এরপর নাকি একসকালে সে আসে তখন এক ওয়াড বয় তাকে ধরে নিয়ে যায় তখন জানা যায় সে তার মামাকে বাচাইছে অথচ সমস্যার কারনে সে নিজের পরিচিতি গোপন রাখে,আবার সেই দিন নাকি চলে যায়,আজকে এনার মামা চেকাপ করাতে যায়,চেকাপ চলা কালিন সেই ওয়াড বয়টা আমার রুমে আসে। তখনি এনাকে দেখেই সেই ওয়াড বয়টা তার ভাগিনার রাগের কথা জিজ্ঞেসা করে, মানে এনার সম্পকে জিজ্ঞেসা করে পরে জানতে পারলাম উনিই কিনা সেই ছেলেটার মামা, আর আমি এখান দিয়ে উনাকে খুজতে খুজতে শেষ,পরে জেনে উনাকে সবই খুলে বলি!উনি বিশ্বাস করে নি কিন্তু তাই আমিও সেই দিনের ব্লাডটেষ্টে রিপোট তাকে দেখাই!(ডাক্তার)

আসলেই কাহিনীটা হয় সে সময় যখন একমাস হলো আমি রিদিকাদের সাথে থাকি,একরাতে হুট করেই আমার ভমি আসতে লাগে আমিও বাথ রুমে চলে গেলাম,ভমি করাতে রক্ত বেরিয়ে আছে, বেপারটা আমার মোটেও ঠিক লাগে নি,তাই পরের দিনই আমি ডাক্তারের কাছে গিয়ে চ্যাকয়াপ করাই সেখানে ডাক্তার আমাকে আমার রিপোট বলে যে আমার ব্লাডে ক্যান্সার ধরা পড়ে,প্রথমে কথাটা আমার কিছুটা অদ্ভুত লাগে পরে চিন্তা করলাম যা হবার হবেই কিছু করার নেই,হয়তো এটাই আমার ভাগ্য,আমার অসুস্থতার সম্পকে জেনেও কেউকে জানতে দেয় নি,সকলের সামনে এমন ভাবে থাকতাম যেন আমি সুস্থ মানুষ ভিতরের অসুস্থতা কেউকেই বুঝতে দেয় নি,কিন্তু আজ ধরা পড়ে গেলাম।

–বেশি বড় হয়ে গেছিস তুই!হ্যা সব কিছুই নিজের মধ্যে নিয়ে থাকতে পারিস তাই না! এতো বড় কথা কিভাবে লুকিয়ে রাখছিস তুই আমাদের থেকে!(আপু)

–কিছু করার ছিলো না, চিন্তা করছিলাম আমি এখান থেকে চলে যাবো,যেন আমার খবর আর কেউই না পায়,আর কষ্টও না পায়।কিন্তু ভাগ্য তা হতে দেয় নি।(আমি)

–অন্তর আমাকে ছেড়ে যাওয়া তুমি,আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না! আমাকে একা করে যেও না।(রিদিকা)

–কিছুই করার নেই,সময় হলে সবাইকেই যেতে হয়,দেখো রিদিকা তুমি অনেক ভালো একটা মেয়ে,আমার থেকেও ভালো কেউকে ডিসাব করো!শুনো আমার দিকে তাকাও, আমি যাওয়া পরে তুমি আমার স্মৃতি নিয়ে বসে থাকিও না।কেউকে বেছে নিয়ে তাকে থেকো,আর আমাকে ভুলে যাইও মনে করবে এই অন্তর নামে তোমার লাইফে কেউই ছিলোই না,তবে কথাটা শুধু রিদিকাকেই বলছি না সবাইকেই বলছি,আমাকে সবাই ভুলে যাইয়েন,আর আপনাদের মনে যদি কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করবেন সবাই।আর নেহা তানভিরকে কোনো কষ্ট দিও না,সব সময় তার পাশে থেকো,মাওয়া জানি তুমি রূদয়ও ভিতরে ভিতরে চালাচ্ছো, আমি চাই সেটা যেন বিয়েতে রুপান্তরিত হয়,আর সাইমনের শাস্তি শেষ হলে তাকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনিও, সেই দিন তোমাকে কাজ থামাতে বলি আর সাইমনকে যা খুশি করতে বলতেই দেরি করো নাই,পুলিশ নিয়ে এসে বেচারাকে দিসো,তাকেও ছেরে দিও।(আমি)

সেখানে থাকা সবাই কান্না করতে লাগে,ঠিক তখনি অন্তরের কাশি দিতে থাকে আর সেই কাশিতে মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসতে লাগে আর বেশি রক্ত বের হতেই কিছু মুহুত্ত পরই অন্তর একটা হাসি দিয়ে সকলের সামনে চিরনিদ্রায় চলে যায়।

আর এখানেই গল্পের সমাপ্তি ঘটলো।

গল্পটা স্যাড এন্ডিং দেওয়ার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি কিন্তু স্যাড এন্ডিং দেওয়ার পিছনে একটা কারন আছে, সেটা হলো অনেক গল্প আছে যেগুলো শুরু হয় স্যাড দিয়ে শেষ হয় হ্যাপি এন্ডিং দিয়ে, তবে কিছু গল্প এমনও হয় যেহুতু শুরু হয় স্যাড দিয়ে আর শেষও হয় স্যাড দিয়ে।

গল্পটা কেমন লাগলো অবশ্যই বলবেন,গল্পের কোন অংশ আপনাদের ভালোলাগছে কোন অংশ খারাপ লাগছে তা অবশ্যই কমেন্ট বলবেন,গল্পে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন কারন আপনাদের প্রতিটা লাইক কমেন্ট আমাকে উৎসাহিত করে গল্প লিখার, গল্পটা সেয়ার করবেন,প্লিজ গল্প কপি করিয়েন না কারন গল্প লিখতে খুব খাটনি হয়,তাই কপিবাজি করবেন না।আর আমার পার্সনাল পেজ আছে তাতে লাইক লাইক দিয়ে রাখবেন হতে পারে আমি পরর্বতি গল্প পেজেও দিতে পারি,আর হ্যা আপনাদের সাথে মজা মাস্তি করার জন্য একটা গ্রুপও আছে যেটার লিংকও দিয়ে রাখবো,জয়েন হয়ে নিয়ে।

আর সর্বশেষে

…………………………….Thanks_For_Reading…………………………
পরর্বতি গল্পের জন্য অপেক্ষা করুন।
পার্সনাল পেজ : https://www.facebook.com/WriterOntorOfficial/
গ্রুপ : https://www.facebook.com/groups/428472115152826/

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.