অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৪ ,

 অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৪ ,

অপরাধী
লেখক_অন্তর
পর্ব_১৪
,
,
,
কফি অডার করে বসে আছি ঠিক তখনি একটা টেবিলে আমার চোখ গেলো,আর সেই টেবিলের দিকে তাকিয়ে প্রায় অবাক হয়ে গেলাম।আমি সাইমনকে দেখতে পাচ্ছি সে সেই টেবিলে একটা মেয়েকে নিয়ে বসে আছে তবে অবাক করার বিষয় হলো সাইমন সে মেয়ের হাত ধরে হাসতে হাসতে কথা বলতেছে কিন্তু মেয়েটা মায়া না।কিন্তু মায়াকে ছাড়া অন্য একটা মেয়ের সাথে এভাবে কথা বলতেছে বেপারটা আমাকে অবাক করেই দিলো কারন সে দিন যা দেখলাম মায়া সাইমনকে পেয়ে আমার সাথে সেই ঘটনাটা ঘটাইছে আর তারাও তো দুজন দুজনকে পেয়ে খুশিও ছিলো,তাহলে এখন সাইমন এই মেয়ের হাত ধরে বসে কথা বলতেছে,তার মানে সাইমন কি মায়াকে এখন ধোকা দিচ্ছে??আমি আস্তে করে সাইমন যে মেয়েটার হাত ধরে আছে তার ছবি তুলে নিলাম, হা হা হা আজ খুব হাসি আসতেছে কারন সাইমন এখন যা করতেছে মায়াও ঠিক তাই আমার সাথে করছে, আমার অনুপস্থিতিতে মায়াও সাইমনের সাথে চক্কর চালাই গেছে এখন মায়াও এখানে নেই তাই সাইমনও সেই কাজটাই করতেছে। এই তো এই না হলে তাদের পিয়র লাউ,দুজনই সেইম কেটাগরির জিনিস, আমি ছবি তুলে নেওয়ার কারন হচ্ছে এই ছবিটা মায়াকে পাঠানো আর দেখানো তার টুরু লাউ তার অনুপস্থিতিতে কি করতেছে,এরই মধ্যে আমার কফি চলে আসে আর আমিও উল্টা মুখ হয়ে কফি খেতে লাগি,কফিতে প্রথম চুমুক দিতেই আমার মাথায় একটা বুদ্ধি আসে,চিন্তা করতেছি এই মেয়েকেই কাজে লাগিয়ে সাইমন এর বিরুদ্ধে ব্যবহার করবো!এই মেয়ের দ্বারাই একবার সাইমনকে কন্ট্রোল করতে পারলে সাইমনের দ্বারাই বাড়িটা নিয়ে নিতে পারবো!তবে তার জন্য আমাকে একটা ফুল প্রুফ প্লেন করতে হবে। যেটা দিয়ে সাইমনকে আমার ফাদে আটকাতে পারবো!কারন এখানে যা দেখতেছি সাইমন মেয়েটার প্রতি একটু বেশিই আর্কশিত দেখাচ্ছে।মানে মেয়েটার সাথে একটু বেশিই ভালো বিহেব করতেছে ও হাত ধরে আছে।ঠিক আছে তাহলে মেয়েটাকেই চারা বানানো আমি। তার আগে আমাকে এই মেয়ের ডিটেলস বের করতে হবে, সে কে, তার নাম, কোথায় থাকে,কি করে, এখন আমার প্রথম কাজ হলো মেয়েটার ডিটেলস বের করা এরপর বাকিটা দেখে নিবো!কফিটা শেষ করে বিল মিটিয়ে চলে আসলাম রেস্টুরেন্ট থেকে, আজ ঘটনাটা দেখেই হাসি পাচ্ছে,মায়া সাইমনের জন্য আমার সাথে জঘন্য কাজটা করলো, আর এখন যার জন্য করলো সেও এখন ফাকি দিয়ে অন্য একজনের সাথে পিরিত করে যাচ্ছে, ভালোই, ছবি তুলে নিলাম তো বটে তবে মায়ার সাথে কন্ট্রাক্ট করার মতো আমার কাছে কোনো কিছুই নেই,না আছে তার নাম্বার না আছে ওয়েট এক মিনিট তার Id তো আমার ব্লক লিষ্টে পড়ে আছেই, এক কাজ করি তার Id টা দেখে নি এরপর আমার ফেইক একাউন্ট দিয়ে তার কাছে তার সাইমনের পিরিত করা ছবিটা পাঠাবো!তবে আগে বাড়ি যাই তারপর id খুজে বের করবো!তখনি মনে পড়লো এখন বাড়িতে যাওয়া যাবে না কারন আম্মু আব্বু বাড়িতে আছে আর এই সময়ে তারা ঘুরাফেরা করবে আর এমনেও আমি চিন্তা করেই রাখছি তানভিরদের বাড়িতে থাকবো না অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করবো কারন আমি চাই না আম্মু আব্বু জানুক আমি এখানে আছি।তখনি মোবাইলটা বের করি আর তানভিরকে কল করে বলে দি আমার ব্যাগ নিয়ে আমাদের আড্ডার স্থানে চলে আসতে। এরপর কল কেটে দিলাম,আর আমিও সোজা আমাদের আড্ডার স্থানে চলে যাই,সেটা মূল্যত একটা চায়ের দোকান যেখানে আমি তানভির ও আমাদের আরো কিছু ফ্রেন্ডরা আড্ডা দিতাম।আমিও সেই চায়ের দোকানে গিয়ে বসে আছি,আর কিছুক্ষন পরেই তানভির ব্যাগ নিয়ে চলে আসে।

–দোস্ত,আমি বলি কি অন্য কোথাও তোর থাকতে হবে না, আমাদের বাড়িতেই থাক, আমি তোকে প্রটেকশন দিবো!(তানভির)

–দোস্ত,সেখানে যদি থাকি ধরা খাওয়ার চান্স ৯০%, তাই তোদের বাড়িতে না থাকাই আমার জন্য ভালো(আমি)

–তো এখন থাকবি কই!(তানভির)

–দেখি না কই থাকতে পারি!(আমি)

–দোস্ত, আমাদের এক ফ্রেন্ডের বাসায় থাকতে পারবি!(তানভির)

–না দোস্ত আমি কোনো পরিচিত কারো বাসায় থাকতে চাচ্ছি না (আমি)

–কিন্তু দোস্ত,এই ছাড়া আর একটা উপায় আছে, সেটা হলো হোটেলে থাকা আর সেটাতে প্রচুর টাকা যাবে, একত আমাদের বাড়িতে থাক নাহলে যাদের বাড়ির কথা বলতেছি সেখানে থাকতে পারবি!(তানভির)

–আচ্ছা দাড়া তুই কার কথা বলতেছিস এটা আমাকে আগে বলতো!(আমি)

–তোর জমজ ভাই রূদয় এর কথা বলতেছি!(তানভির)

–ওয়েট,এই সালা না বিদেশে যাওয়ার কথা ছিলো!(আমি)

–না যায় নাই,এতে দেশেই থাকবে আর ব্যবসা করবে, (তানভির)

–ভাই,এই সালা আমারে পাইলে উদুম মাইর দিবো,আর কোথাও যাওয়া যায় না!(আমি)

–না দোস্ত,কিছু করার নাই,আর দোষটা তোর,তুই তার খোজ খবর নেস নাই আর তোর নাম্বারও বন্ধ পাইছে, এমনেও তোর উপর রেগে আছে, (তানভির)

–ভাই আমি যাবো না অন্য একজায়গায় যাবো!সালা আমাকে ভত্তা বানাই ফেলবে এমনেও আমি চিকনা সে আমার হাড্ডি গুলো গুড়া করে ফেলবে! (আমি)

–এখন যদি তুই নিজ থেকে তার কাছে ধরা না দেস, সে আমাকে বলছিলো তোরে সে খুজে বের করলে তুই শেষ তাই ভাই নিজ থেকে তার কাছে ধরা দে।(তানভির)

–আর কোনো উপায় নাই,(আমি)

–নারে ভাই এটাই শেষ ও একমাত্র উপায়।(তানভির)

–ঠিক আছে চল তাহলে! (আমি)

এরপর তানভির সহ আমরা রূদয় দের বাড়ির দিকে যেতে লাগি, বাড়িতে গিয়ে তানভির রূদয়কে ডাক দেয়!

–এই রূদয়,কই তুই,চোর ধরছি!(তানভির)

–ঐ সালা চোর ধরছিস মানে, কারে চোর বানাচ্ছিস ভাই মাইর এমনেও খাবো,তুই তো আমার কষ্টরে কষ্ট প্রো ম্যাক্স বানাইতে লেগে পড়ছিস!(আমি)

–ঠিকি আছে, এটাই তোর প্রাপ্য! এই কই তুই!(তানভির)

এরই মধ্যে রূদয় বেরিয়ে আসে!

–এই শালা ষাড়ের মতো চিল্লাইতেছো কেন!(রূদয়)

–সালা চোর ধরছি, আর ধরে ডাইরেক্ট এখানে নিয়ে আসছি!এই দেখ!(তানভির)

–সালা মাদারবোড,কোন জঙ্গল থেকে এটারে বের করছিস তুই!আজকে পাইছি তোরে দারা ডান্ডাটা নিয়ে আসি! (রূদয়)

–ওরে ভাইরে মরে যামু তো!(আমি)

–তুই সালা জিন্দা থেকেও বা কার চুল ফালাবি!দাড়া তুই, ডান্ডা লাগবো না এমনেই ধুনামু তোরে! (রূদয়)

বলেই রূদয় এসেই মারতে শুরু করে, আমি গড়াগড়ি খাচ্ছি সালাও মাইর দিতে ব্যস্থ!

–সালা কোন জঙ্গলে ছিলি তুই!তোর ফোন নাম্বার বন্ধ কেন,আর আমাকে সব কিছুই ব্লক কেন দিলি তুই!আজকে তোরে শেষ করেই ছাড়মু সালা,(রূদয়)

–ওমারে মরে গেলাম রে, ভাই আর জীবনেও এমন ভুল করবো না, ভাই লাষ্ট বারের মতো ছেড়ে দে!(আমি)

–যা ছেড়ে দিলাম উঠ(রূদয়)

মাইর দেওয়া বন্ধ করে আমার দিকে হাত বাড়য়ে দেয় আর আমিও হাত ধরে উঠলাম!উঠতেই সাথে সাথে রূদয় জড়িয়ে ধরে!

–সালা তুই জানিস কতো মিস করছি তোরে! কই চলে গেছিলি তুই!(রূদয়)

–সব বলবো দোস্ত,(আমি)

–চল সালা ভিতরে চলো,সব ভিতরে গিয়ে শুনবো!(রূদয়)

এরপর আমরা রূদয়দের বাড়িতে যাই!

–কিরে বাড়ি ফাকা ফাকা কেন,আন্টি আংকেল আর তোর বোন নাই !(আমি)

–দোস্ত,তারা সবাই গ্রামের বাড়িতে গেছে আমি শুধু আছি এখানে।বয়,আর বল কই ছিলি এতোদিন!(রূদয়)

–তাহলে শুন,(এরপর কেন চলে গেছিলাম আর কই ছিলাম এতোদিন সবই বলি!)

–এই মায়াটা ও তোর মামাতো ভাইটা আছেটা কই একটু বলতো!দুইটারেই একটু সায়েস্তা করে আসি! (রূদয়)

–রূদয় তোর কিছু করা লাগবে না যা করার আমি করবো!(আমি)

— তাহলে অবশেষে এলাকায় আসলি!তোরে কতোটা মিস করছি সালা, (রূদয়)

–একটা সত্যি কথা বলি আমি ভেবে নিছিলাম এই এলাকায় আর আসবো না,কিন্তু এখন না এসেও পারলাম না!(আমি)

–মানে কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই এলাকায় আসছিস!(রূদয়)

–উদ্দেশ্য নারে ভাই আমাদের হক আদায় করার জন্য আসছি,(আমি)

এরপর আমি রূদয়কে এলাকায় আসার আসল সত্যিটা বলি,

–কি বলতেছিস তুই!তোর মামা মামী এই কাজটা করছে,! (রূদয়)

–হ্যা রূদয়,যেটা শুনছিস সবই সত্যি, অন্তরের মামা তাদের বাড়িটা হাতিয়ে নিছে।আর হাতিয়ে নিয়ে আংকেল আন্টিকে বাড়ি থেকে বের করে দিছে আর বর্তমানে আংকেল আন্টি আমাদের বাড়িতে আছে।(তানভির)

–সালার বুইড়া বেডারে তো আমি দোড়াই দোড়াই পিটামু,সালা খবিস, (রূদয়)

–রূদয় এমন কিছু করিস না আমি একটা প্লেন করছি,সেই প্লেন অনুযায়ী কাজটা করবো। প্রথমে আমাদের বাড়িটা নিয়ে নিতে হবে এরপর বাকিটা দেখা যাবে।(আমি)

–কি প্লেন করছিস, আমাদেরও বল!(রূদয়)

–তাহলে শুন,আমরা যে রেস্টুরেন্টে যাই সেখানে গিয়ে দেখি সাইমন একটা মেয়ের হাত ধরে আছে আর তার প্রতি বেশি আর্কশিত হয়েই তার কথা বলতেছিলো, আমরাও সেই মেয়ে ব্যবহার করে সাইমনের দ্বারা বাড়িটা নিয়ে নিবো!(আমি)

–ওয়েট তুই বললি সাইমন একটা মেয়ের হাত ধরে কথা বলতেছিলো কিন্তু সে তো মায়ার সাথে (তানভির)

–আমি জানি তুই কথাটা বলবি,মায়া যেমন আমার সাথে করছে এখন সাইমনও একই কাজ করতেছে, মানে আমার অনুপস্থিতিতে মায়া যেমন সাইমনের ক্লোজ গেছে এখন সাইমনও মায়ার অজান্তেই অন্য একটা সাথে টাংকি মারতেছে, আর যে মেয়েটার সাথে ফ্লাট করতেছে না তাকেই দিয়েই আমাদের কাজটা করাবো!(আমি)

–হায়রে মায়া, কারে ভরসা করলি,সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েও তার মর্ম দিলি না শেষমেষ এমন একটা ছেলের সাথে জড়ালি যে আড়ালে তোর মতো হাজারটা মেয়ে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়,অন্তর এই পোলারে আমি একটা গন ধোলাই দিতে চাই!(রূদয়)

–মামা আমিও চান্স চাই!(তানভির)

–ভাই এটা কি কোনো খেলা হইতেছে যে তোরা দুজনেই চান্স চাইতেছিস, সালা ভাগাভাগি করেই কেলাবি তারে সাথে আমিও আছি!(আমি)

–হুম,সালার ভাগ্য কতোটা খারাপ হলে আমাদের মতো হারামি গুলো তার পিছে লাগে।(রূদয়)

–তাদের বুঝিয়ে দিবো হারাম সুখ চিরস্থায়ী হয় না বরং তাদের হারাম সুখের জন্য বড় ধরনের দুঃখ তাদের জন্য অপেক্ষা করতেছে।(আমি)

–হুম ঠিক বলছিস, আর রূদয় অন্তরকে তোদের বাড়িতে রাখতে পারবি!তুই ও সবই জানিস!(তানভির)

–আরে ভাই এই সালা। বাড়িতে আসছে, এমনেও তারে যেতে দিবো না আমি,আর রাখবো মানে সালারে যেতে দিচ্ছি না আমি!ঐ যা রুমে গিয়ে গোসল করে নে ততক্ষনে আমি রান্না করি,রান্না শেষ করে মসজিদে যাবো!(রূদয়)

–ওকে, তাহলে আমি যাই!ভালো থাকিস(তানভির)

–ঐ কই যাস,আমরা আজ আমাদের সাথেই থাকবি!সালা বহু দিন পরে আমরা ৩টা একত্রে হলাম, আর সে বলে যাইতেছি আমি,যা ফ্রেস হয়ে নে!(রূদয়)

–নারে ভাই বাসায় যাইতে হবে!(তানভির)

–চুপ সালা, বাসায় তোর বউ আছে নাকি!(আমি)

–বাসায় বউ নাই, তবে নিজের রুমে গিয়ে কারো ছবি দেখবে আরকি! (রূদয়)

–ঐ, চুপ সালা!(তানভির)

–এক মিনিট, কার ছবি দেখবে রে ভাই!ওই তানভির ছবি দেখার কথা শুনে এই রকম রিয়েক্ট করলি কেন!!কেসটা কি রে??(আমি)

–না দোস্ত কিছু না,এই সালা রূদয় এমনে কথাটা বলছে! (তানভির)

–অ এমনে বলছি তাই না, অন্তর আমাদের তানভির ব্রো একজনকে পছন্দ করে। (রূদয়)

–কিহহ,আব্বে কি কস!(আমি)

–এতে হুদাই একট কথা বানাই ফেলছে,এতের কথা বিশ্বাস করিস না!(তানভির)

–ঠিক আছে, মামা তোরে একটা ছবি দেখামু হেব্বি আগুন, দুজনেই ট্রাই করমু কেমন(রূদয়)

দেখলাম কথাটা শুনে তানভিরের মুখের রিয়েকশন নিমিশেই চেঞ্জ হয়ে গেলো!

–ওকে দিস, আমি জাষ্ট একবার ট্রাই করমু তুই আর সু্যোগ পাবি না!(আমি)

–সমস্যা নাই, আমার ভাবি হলেও চলবে আমি ভাবি হিসেবে মেনে নিবো।(রূদয় মজা করে)

–সালা রূদয়ইয়া লাত্থি দিমু তোরে বেটা!(তানভির)

–যা যা ফ্!(রূদয়)

এরপর আমরা চলে গেলাম আর যেহুতু শুক্রবার তাই গোসল করে ব্যাগে পাঞ্জাবি ছিলো সেটা পড়ে নিলাম আর সামনের রুমে আসলাম।

–সালা, আমার থেকে কথা লুকাস তাই না!(আমি)

–নারে দোস্ত তুই যেটা ভাবতেছোস সেটা না, মানে মেয়েটা ভালো লাগে আর কি!(তানভির)

–তাহলে ঘটনা সত্যি!বাহ সালা কথা তো ভালোই লুকাস!(আমি)

–অন্তর আমাকেও এই সালা বলে নাই একদিন এরে গোপনে ফলো করছি পরে কাহিনী দেখি এটা, সালা মনে করছে আমাদের থেকে এই সব লুকিয়ে রাখতে পারবো!(রূদয়)

–আচ্ছা বুঝছি তোরা গ্রেট, আচ্ছা অন্তর বাসায় গিয়ে গোসল করে রেডি হয়ে আসি,!(তানভির)

–ওকে, তবে ব্যাগে করে জামা কাপড়ও নিয়ে আসিস!কারন আমি যতোদিন এখানে থাকবো ততদিন তোরাও আমার পাশেই থাকবি!(আমি)

–ওকে,(তানভির)

এরপর তানভির চলে যায় আর আমিও বসে আছি,তখনি মনে পড়লো মায়ার ID টা দেখার কথা,তাই আমিও ব্লক লিষ্ট এ দেখতে লাগি কিন্তু আমি মায়ার Id পাচ্ছি না কেন!তাকে তো ব্লক লিষ্টেই রাখছিলাম তাহলে তার Id গেলো কোথায়!ব্লক লিষ্ট থেকে তো আমি তাকে unblock করি নাই,নাকি তার Id Disable হয়ে গেছে, ধুর এখন তাকে তার প্রেমিকার অন্য মেয়ের সাথে কাটানো সুন্দর মুহুত্তের ছবি পাঠাবো কি করে!মেঝাজটা পূরাই খারাপ হয়ে গেলো।

–কিরে তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন!(রূদয়)

–না এমনেই একটু টেনসেন হচ্ছে কিভাবে কি করবো,(আমি)

–আরে আমরা আছি তো!আর তুই তো প্লেন করেই ফেলছিস, আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো!তবে দোস্ত যে মেয়েটার কথা বলছিস সেই মেয়েটার ছবি আছে তোর কাছে,তাহলে তার ডিটেলস বের করা যাবে! (রূদয়)

–হুম আছে, পরে দেখাবো এখন যা গোসল করে রেডি হয়ে আয়, মসজিদে যাবো!( আমি)

–হ্যা হচ্ছি,আর রান্নাও শেষ,আমি গোসল করে রেডি হয়ে আসি!(রূদয়)

এরপর রূদয়ও চলে যায় আর কিছুক্ষনের মধ্যে তানভিরও আসে, সাথে ব্যাগও নিয়ে আসে, তারপর রূদয়ও আসে এরপর আমরা ৩জনে একত্রে মসজিদে চলে যাই, আজ অনেক দিন পরে নিজ এলাকায় নামাজ পড়ছি, দেখলাম এলাকায় মাস্কের জন্য ধরতেছে তাই পকেট থেকে মাস্ক বের করে পড়ে নিলাম,আসলেই মাস্ক পড়ে চলা ফেরা করা দরকার কারন দিন দিন পরিস্থিতি আবারো।বিগড়ে যাচ্ছে, এরপর আমরাও মসজিদের ভিতরে যেতে লাগি তখনি আমি আব্বুকেও দেখলাম সাথে আংকেল (তানভিরের আব্বুও ছিলো)

আমি আব্বুকে দেখেই অন্য সাইড দিয়ে মসদিজে ডুকে পড়ি, ভাগ্যিস আব্বু আমাকে দেখেই নাই,এরপর আমরা ৩জনে নামাজ শেষ করে মসজিদ থেকে সোজা রূদয় দের বাড়িতে চলে আসি!তারপর দুপুরের খাবারটাও খেয়ে নিয়ে ৩জনেই একই রুমে গিয়্ব রেষ্ট করতে করতে আড্ডাও দিতে লাগি সন্ধ্যা পর্যন্ত,

সন্ধায় বেলায়

তানভিরকে দায়িত্ব দিলাম চা নাস্তার ব্যবস্থা করার,এরপর সেও চা নাস্তা নিয়ে আসে, আমরা আড্ডা দিতেছি!

–ঐ,তোরে তো তানভিরের ইয়ের ছবি দেখাই নাই!দাড়া (রূদয়)

বলেই রূদয় মোবাইল ছবি বের করে মোবাইল এগিয়ে দেয় আমিও হেসে হেসে মোবাইলটা নিলাম, এরপর ছবিটা দেখতে লাগলাম,ছবিটা দেখেই থ হয়ে গেলাম,কারন যে মেয়েটার ছবি আমি দেখতেছি সেটা আর কেউ না এটা সেই মেয়েটা যার হাত ধরে সাইমন কথা বলতেছিলো!আমি তো পূরাই সক খেয়ে গেলাম ছবিটা দেখে।

–কিরে তোর আবার কি হইছে! (রূদয়)

–মামা একটা কথা বলি!(আমি)

–হ্যা বল (রূদয়)

— এটাই সেই মেয়ে যাকে আমি সাইমনের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখলাম!(আমি)

–কিহহ,কি বলতেছিস তুই??তোর মাথা ঠিক আছে! (তানভির)

–দাড়া জানি বিশ্বাস করবি না,(আমি)

এরপর আমিও মোবাইল বের করে রেস্টুরেন্টে যে ছবি গুলো তুললাম সেই ছবি গুলো তানভির ও রূদয়কে দেখালাম,তারাও দেখে অবাক হয়ে গেলো আর তানভির তো নিস্তব্দ হয়ে গেলো।

–আমি জানি তানভির এটা দেখার পর তোর মনে কি চলতেছে!(আমি)

–নারে দোস্ত তুই যেটা ভাবতেছিস সেটা মোটেও না, বরং ভালোই হইছে, অন্তত আগের জেনে গেলাম এই এটা,নাহলে পরে অনেক বড় ভুল করে ফেলতাম।আল্লাহ যা করে ভালোর জন্যই করে, এতে আমার এতো কষ্ট লাগে নি,(তানভির)

–এই তো এই না হলে আমাদের বন্ধু,সমস্যা নাই শুন, দেখবি এর থেকেও ভালো একজন পাবি!(রূদয়)

–হুম,আর যেখানে তোদের মতো হারামী আছে সেখানে আর কেউকেই লাগে না, (তানভির)

তানভির কথাটা বলে তো রূদয়কে খুশি করে দিলো,কিন্তু আমাকে বুঝ দিতে পারবে না সে কারন এই অনুভূতিটা কতোটা কষ্টকর তা আমি ভালো করেই জানি,এবং কি আমি নিজেই অনুভব করছি!

তাই আজকে আর এই মেয়েকে নিয়ে কথা বললাম না, আমরা অন্য টপিক নিয়েই আলোচনা করলাম,আর নরমালি আড্ডা দিয়ে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমরা ৩জনই এক রুমে একত্রে ঘুমিয়ে যাই।

সকাল বেলা

–ঐ অন্তর, সালা উঠ সকাল হইছে!(তানভির)

–সালা আমি উট না মানুষ!আর ভাই ঘুমাইতে দে!(আমি ঘুমুঘুমু কন্ঠে)

ঠিক তখনি আমার দুই পা টান দিয়ে আমাকে খাট থেকে ফেলে দেয়!

–ওমারে মরে গেলাম রে,সালারা আমারে এভাবে টেনে ফালাই দিলি,আল্লাহ তোদের বিচার করুক,ও মারেএএএ(আমি)

–আমরা ভুলেই গেছিলাম কাকে এতো সুন্দর করে বলতেছি, সালা তুই সুন্দর ব্যবহারের যোগ্য, তোরে এভাবেই উঠানো দরকার! যা উঠে গিয়ে ফ্রেস হয়ে আয়,(তানভির)

–সালা সিরিয়াসলি ব্যথ্যা পাইছি মামা,সালা তোদের সাথে শত্রুতামি করলাম আমি,আমার মতো নিরিহ ছেলেটারে এভাবে ফালাই দিলি!আল্লাহ তোদের বিচার করবো!(আমি)

–উঠ তারাতারি ফ্রেস হয়ে আয়!আমরা গেলাম!(রূদয়)

এরপর তানভির রূদয় চলে যায় আর আমিও ফ্রেস হয়ে আসি,ফ্রেস হয়ে এসে আমি যখনি রুম থেকে বেরিয়ে যাবো তখনি আমার মোবাইল বেজে উঠে,আমিও মোবাইল হাতে নিলাম দেখলাম unknown Number, যখনি কল রিসিভ করতে যাবো কল কেটে গেছে,তাই মোবাইলটা রাখতে নেই,তখনি আবার মোবাইল বেজে উঠে,দেখলাম সেই unknown number থেকে কল আসছে।

চলবে…………..
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.