অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৫

 অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৫

অপরাধী
লেখক_অন্তর
পর্ব_১৫
,
,
,
মোবাইল হাতে নিলাম দেখলাম unknown Number, যখনি কল রিসিভ করতে যাবো কল কেটে গেছে,তাই মোবাইলটা রাখতে নেই,তখনি আবার মোবাইল বেজে উঠে,দেখলাম সেই unknown number থেকে কল আসছে।তাই আমিও রিসিভ করলাম।

–হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম,জি কে বলছেন??(আমি)

–ওয়ালাইকুমসালাম,কেমন আছেন!(মেয়েলি কন্ঠে)

–জী আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি,কে বলতেছেন??(আমি)

–জি,আগে এটা বলেন আপনি এখন কোথায় আছেন!(মেয়েলি কন্ঠে)

–আমি জাহান্নামের চো রাস্তায় আছি,কথা না পেচিয়ে দয়া করে আপনার পরিচয়টা দিবেন,নাহলে আমি কল কাটতেছি!(আমি)

–অন্তর,প্লিজ কল কাটিস না ভাই,(মেয়েলি কন্ঠে)

আমার বুঝতে বাকি রইলো না এটা যে আপু,কিন্তু সে আমার নাম্বারই বা কই পাইলো!আমার এই নাম্বার তো তার কাছে থাকার কথা না!

–কিরে ভাই চুপ হয়ে আছিস কেন!আমি জানি তুই আমার উপর রেগে আছিস,তাই ঐদিন এমনটা করছিস,আসলে রেগে থাকাটাও জায়েজ আছে, কারন আমি তো উপর অন্যায় করছি,সত্যিটা না জেনেই তোকে বাড়ি থেকে অপমান করে বের করে দিছি,বিশ্বাস কর, আমি অজানতেই এই কাজটা করছি ভাই,আমাকে ক্ষমা করে দে তুই!

–তাহলে কি সত্যিটা জেনে গেছেন আপনি??(আমি)

–হ্যা আমি সত্যিটা জেনে গেছি ভাই,আজ থেকে ৩মাস আগেই সত্যিটা প্রকাশ হয়ে যায় যেখানে আমি মায়াকে এই সব নিয়ে কথা বলতে শুনি!মায়া আমাদের বাড়িতে রুমের মধ্যে থেকে তোকে ফাসাইছে যে তা কাকে যেনো ফোনে বলতেছিলো আমিও রুমের বাহিরে থেকে সব শুনে ফেলি, যেদিন সত্যিটা জানতে পারি,আমার নিজের থেকেই অপরাধী অপরাধী বোধ করতে থাকি,কি করেই আমি এই কাজটা করলাম আর কি করে তোকে অবিশ্বাস করে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলাম, মায়া আরো অনেক কথা বলে যা আমি বাহিরের থেকে রেকড করে নি,আর সেটা তোর দুলাভাইকেও শুনাই,এরপর সকলের সামনে মায়ারকে জিজ্ঞেসা করি কিন্তু সে অশিকার করতেই মায়ার ভয়েস রেকড চালিয়ে দি,যেখানে সকলেই স্পর্ষ্ট শুনতে পাচ্ছে মায়া তোকে কি করে খারাপ বানালো,ভাই প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দে তুই,(আপু কান্না করতে করতে)

কথাটা শুনে কিছুটা ভালো লাগলো।যাক আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে সকলেই জানলো আমি নির্দোষ ছিলাম, সব মায়ার নাটক ছিলো,আর আমিও এখন নির্দোষ প্রমানিত হলাম,এখন নিজের থেকে একটু ভালো লাগতেছে।

—কিরে ভাই কথা বলিস না কেন,চুপ করে আছিস কেন!(আপু কান্না করতে করতে)

–ঠিক আছে যান আপনাদের ক্ষমা করে দিলাম,তবে হ্যা একটা কথা বলি! ক্ষমা তো করে দিলাম তবে আমি আর আপনাদের সাথে জড়াবো না। মানে আপনাদের কাছেও ফিরবো না ও কোনো যোগাযোগও করবো না!(আমি)

— তুই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবি না মানে,আর আমাদের সাথে জড়াবি না মানে কি!এটা কেমন কথা বলতেছিস তুই!(আপু কান্না কন্ঠে)

–জি কেমন কথা মানে।আপনি ক্ষমা চাইছেন আর আমিও ক্ষমা করছি,কিন্তু তার মানে এই না যে আপনাদের সাথে আমি আবার নিজেকে জড়াবো,আপনাদের ক্ষমা তো করলাম কিন্তু আপনাদের কাছে ফিরে আসার সেই মনমানসিকতা আমার আর নেই,কারন আপনাদের জন্য আমার মনে আর কোনো জায়গা নেই!(আমি)

–কি বলতেছিস তুই ভাই,আমাদের কাছে ফিরবি না তুই,তার মানে তুই এখনো রেগে আছিস আমাদের উপরে!(আপু)

–না রেগে নেই,তবে মনে একটা খটকা আছে তাই আপনাদের কাছে আর ফিরতে চাই না, আর খটকাট থাকবেই না কেন!আমি আমার পরিবারের কাছেই ছিলাম তারা অন্তত আমাকে বুঝে উঠার কথা ছিলো,কিন্তু সেখানে আমাকে কেউই বুঝলো না বরং একটা সময় মিথ্যা নাটকের জন্য আমাকে অপমান করা হয় আর বাড়ি থেকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়, অথচ কেউই একবারও চিন্তা করলো না যে ছেলেটা তাদের সাথে এতো দিন যাবৎ আছে যে হুট করেই ছেলেটা এমনটা করলো কেন!একবারও কেউ ভাবছে, না বরং সকলেই ধরেই নিছিলো ছেলেটা আসলেই কাজটা করছে আর এর জন্য ছেলেটাকে খুব খারাপ ভাবেই অপমান করা হয় আর তার পরিবার থাকা সর্তেও তাকে অসহায় বানিয়ে দেওয়া হয়,যে মানুষগুলোর পরিবার থাকে না তারা সব সময় মনে একটা বিশ্বাস রাখে যে কোনো বিপদ হলে কেউ পাশে থাকুক আর না থাকুক তার পরিবার তার পাশে থাকবে সেখানে উল্টা তার পরিবারই তাকে অসহায় বানিয়ে দিলো, পরিবার থাকার পরেও ছেলেটা এতিম হয়ে যায়,তাহলে কি করে সেই ছেলেটা বা মানুষটা কিভাবে সেই মানুষগুলোর কাছে ফিরে যেতে চাইবে যারা সেই ছেলে বা মানুষটা কে অসহায় বানিয়ে রাখে।মানুষটা মনে একটা খটকা থেকেই যাই,আর ফিরে আসার সেই মন মানসিকতাটাও চলে যায়। (আমি)

–ভাই প্লিজ এমটা বলিস না, আমি সব ঠিক করে দিবো,(আপু)

–হা হা হা সব ঠিক করবেন? হয়তো সব আবার আগের মতোই হয়ে যাবে কিন্তু মনে যে আঘাতটা লাগছে সেটা,সেটার জন্য তো মনে খটকা থেকেই যাবে যার জন্য মনে সেই মানুষগুলোর জন্য বিশ্বাস আর আসবে না। তাই আমাকে আর আপনাদের মাঝে জড়ানোর চেষ্টা করবেন না,!(আমি)

–অন্তর, (আপু কান্না কন্ঠে)

–লাভ নেই,আচ্ছা আপনি এটা বলেন তো আমার নাম্বার কই পাইছেন??(আমি)

–বলবো না, আমি!(আপু)

–থাক বলতে হবে না, আমি ভালো থাকবেন, আমাকে আর কল দিয়ে বিরক্ত করবেন না!খোদাহাফেজ!(আমি)

–অন্তর, আমার কথা শোন তুই!অন্ত…(আপু)

কথা বলতে যাবে তার আগেই আমি কল কেটে দিলাম,কারন কথা বলার সেই ইচ্ছা টুকুই আমার মনে আর নেই!থাকবেই বা কেন, আমি তো জানোয়ার, জানোয়ারের কোনো বোনই হতে আরে না, না কোনো পরিবারও থাকতে পারে!

মোবাইলে আবারও কল আসতেছে তাই দেখে মোবাইলটা বন্ধ করে খাটের উপর রেখে চলে গেলাম হল রুমে, সেখানে গিয়ে দেখি তানভির ও রূদয় নাস্তা রেডি করছে আর আমিও সেখানে গেলাম,এরপর ৩জনেই নাস্তা করতে করতে কথা বলতে লাগি!

–অন্তর এবার বল কাজ কবে শুরু করবি! (তানভির)

–আজ থেকেও,(আমি)

–এখন আমাদের কি কি করা লাগবে দোস্ত!(রূদয়)

–যতোটুকু জানতাম যে মেয়েটাকে দিয়ে কাজটা করাতে চাচ্ছি মেয়েটাকে তোরা চিনিস,প্রথমে আমাকে মেয়েটার সম্পকে কিছু বল!মানে মেয়েটা কে কই থাকে কি করস!(আমি)

–তাহলে শুন,মেয়েটার নাম নেহা,সে আমাদের কলেজেই পরে, তবে আমাদের জুনিয়র, মেয়েটার পরিবারে সে তার ছোট ভাই আর তার বাবা মা -ই আছে,মেয়েটার বাবা একজন ব্যবসায়ী ও তার মা গৃহীনি, তার ভাই ১০ এ পড়ে,তারা আমাদের এলাকায় থাকে তাদের বাড়ি নাম্বার *** (তানভির)

–যাক অনেক কিছুই জানলাম, তবে মেয়েটার ঠিকানা তোরা জানিস! (আমি)

–আচ্ছা আজকে তো কলেজ আছে তাই না, (আমি)

–হ্যা আছে, কেন!(রূদয়)

–মেয়েটা কি রেগুলার কলেজ যায় নাকি আমাদের মতো ফাকি বাজি করে!(আমি)

–ভাই সেটা মেয়ে, ফুল বিরিয়ানি স্টুডেন্ট সে, আমাদের মতো ব্যাক ব্যাঞ্চারর্স না,(রূদয়)

–বুঝছি,ভাই তবে রূদয় এভাবে সালা আমাদের বেজ্জতি করতে পারলি!যাই হোক আজকে কলেজে যাবো!মেয়েটার সাথে একটু কথা বলার চেষ্টা করবো,তবে আমি কলেজের বাহিরের থেকেই কথা বলার চেষ্টা করবো ভিতরে যাবো না,(আমি)

–ওকে,(রূদয়)

এরপর নাস্তা শেষ করলাম আর সকলেই রুমে চলে যাই তানভির আর রূদয় কলেজের জন্য রেডি হয় আর আমিও একটু বাহিরে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে নিলাম।এরই মধ্যে তানভিরের কল আসে আসতেই সেও কল রিসিব করে কথা বলতে লাগে,এরপর আমার কাছে এসে মোবাইলটা এগিয়ে দেয়!

–কিরে আমাকে মোবাইল দিচ্ছিস কেন???(আমি)

–তোর কল!(তানভির)

–আমার কল মানে,আমার কল তোর মোবাইলে আসবে কেন??(আমি)

–মোবাইল নিলেই বুঝতে পারবি!(তানভির)

এরপর আমিও তানভির থেকে মোবাইলটা নিলাম!

–হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম!(আমি)

–ওয়ালাইকুমসালাম,কিরে শয়তাম এলাকায় গিয়ে আমাদের ভুলে গেছিস তুই!(মামী)

–আরে মামী তুমি, কেমন আছো!(আমি)

–রাখ তোর কেমন আছো!এলাকায় গিয়ে আমাদের ভুলে গেছিস তাই না!এলাকায় গেছিস দের দিন হয়ে গেছে, কোনো কল দিসিস আমাদের,তুই কল দিচ্ছিস না বলে আজকে সকালে কল দিছি দেখি তোর মোবাইল বন্ধ!মোবাইল বন্ধ কেন তোর!(মামী)

আমার মনে পড়লো আমার মোবাইল বন্ধ করে রাখছিলাম কারন আপু কল দিচ্ছিলো! জানি না আপু কেমনে আমার নাম্বার পেয়ে গেছে, আমার মতে আমার নাম্বার একমাত্র তানভির, নাহলে মামাদের কাছে, এবং আংকেলদের কাছেই আছে তাহলে আপু কি করে নাম্বারটা পায়!বুঝতেছি না বেপারটা!

–কিরে শয়তান কথা বলিস না কেন!(মামী রেগে)

–সরি মামী আমি ব্যস্থছিলাম তাই কল দিতে পারি নাই, বন্ধুর মেটারটা নিয়ে একটু বেশিই ব্যস্থ আছি,তাই মোবাইলটা অফ করে রাখছিলাম যেন কেউ কল না দিতে পারে এমনেই মাথা বিগড়ে আছে আমার।সরি মামী প্লিজ রাগ করিও না! (আমি)

–আচ্ছা বাদ দিলাম,এখন বল কেমন আছিস, আর কি করতেছিস! (মামী)

–এই তো মামী আলহামদুলিল্লাহ তোমাদের দোয়ায় ভালোই আছি,আর এই তো নাস্তা করে রুমে আসলাম, আর এখন বাহিরে যাবো!তোমরা নাস্তা করছো!আর বাকি সবাই কেমন আছে!(আমি)

–হ্যা নাস্তা করছি,আর বাকি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালোই আছে।সৌরভ ও তার বউ তো খালি তোর কথা জিজ্ঞেসা করতেছে, যে তোর সাথে কথা হইছে কিনা!আর মুন্নিও তোর কথা জিজ্ঞেসা করতেছে, বলতে গেলে সকলেই তোকে মিস করতেছে!কারন তুই এসে পূরা সকলের সাথে যে মিশে গেছিস,(মামী)

–সকলকে সরি বলিও,আসলে ব্যস্থতার জন্য কথা বলতে পারতেছি না, আচ্ছা মামী আমি এখন একটু বাহির হবো ফ্রি হয়ে কল দিবো! (আমি)

–আচ্ছা ঠিক আছে, ভালো থাকিস! (মামী)

–জী,সকলকে আমার পক্ষথেকে সালাম দিও, খোদাহাফেজ!(আমি)

এরপর কল কেটে দিলাম!তানভিরকে মোবাইল দিলাম!

–সালা, সেখানে গিয়ে সকলের মধ্যে ডুকে গেছিস তাই না,মামী আমাকে কল দিলো আর জিজ্ঞেসা করতেছে তুই কেমন আছিস!(তানভির)

–সরি ভাই,আমি তোর জায়গা নিচ্ছি না, না নিতেও চাই!তোর মামা মামী তোরই থাকবে,(আমি)

–এই সালা আমি তো মজা করছি তুই সালা কথাটা সিরিয়াস নিলি কেন,আর শুন তুই আমার বেস্টু আর বেস্টু মানে তো বুঝিস যেটা অন্য ফ্রেন্ডদের থেকে একটু বেশিই ক্লোজ হয়,আর শুন আমার মামা মামী তো তোর মামা মামীই,এতে জায়গা নেওয়ার কিছুই নাই!বুঝছিস আর এতোটা সিরিয়াস হওয়াও কিন্তু ঠিক না,! (তানভির)

–কি করতাম ভাই,মন মানসিকতাও এখন ঠিক নেই,কিভাবে যে বাড়িটা আম্মু আব্বুর কাছে ফিরিয়ে দিবো সেটাই বুঝে উঠতে পারতেছি না,(আমি)

–আল্লাহর উপর ভরসা রাখ, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে!(তানভির)

এরপর আমরা ৩জনেই মাস্ক পড়ে নিলাম কারন মাস্ক ছাড়া বাহিরে চলা ফেরা করাটা ঠিক না কারন পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তারপর কলেজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দিলাম,কলেজ খুব কাছে সেখানে যেতে তেমন সময়ও লাগে না,তাই আমরা হেটে হেটে কলেজে গেলাম।আমরা কলেজের গেটের সামনেই দাঁড়িয়ে আছি,অনেক দিন পর কলেজ টাইমে কলেজে আসলাম তাও ৩বন্ধু মিলে, কিন্তু আপসোস কলেজে যেতে পারবো না।

–ধুর, এখন কেন আসলাম, ছুটির টাইমে আসলেই ভালো হতো!(আমি)

–অন্তর,এখন আসছো ভালোই হইছে, নেহা কখন অনেক সময় কিন্তু ছুটির আগেও কলেজ থেকে বেরিয়ে যায়, তাই এখন আসলেই কথা বলে নিতে পারবি!(রূদয়)

–হ্যা,তবে অন্তর তুই কথা বলার তোর সাথে রূদয় থাকবে, আমি থাকবো না, (তানভির)

–কেন তুই কই যাবি??(আমি)

–না, আমি ওর মুখো মুখি হতে পারবো না,(তানভির)

–কেন কি সমস্যা, তোর মনে তো তার জন্য এখন আর কিছুই নেই তাহলে! (রূদয়)

–না এমনেই,আমি থাকবো না আসলে ভালো লাগে না, যাকে পছন্দ করলাম কিন্তু পাবো না তাকে দেখারও কোনো মানে হয় না!শুধু শুধু তাকে দেখে মনে আবেগটাই বেড়ে যাবে!আর আমিও আবেগ বাড়াতে চাই না!(তানভির)

–আচ্ছা ঠিক আছে তুই যা বলিস!তবে মেয়ে আসছে কিনা সেটা একবার দেখে আয়!(আমি)

–এক কাজ কর,রূদয় গিয়ে দেখে আয় আর আমি ও অন্তর চায়ের দোকানে বসি!(তানভির)

এরপর রূদয় কলেজের ভিতরে চলে যায় আর আমরাও চায়ের দোকানে বসে বসে ওয়েট করতে থাকি।

–অন্তর,ঐ দেখ! ঐযে নেহা!(তানভির)

আমিও তাকালাম আর দেখলাম রিক্সা থেকে নেহা সহ আর একটা মেয়ে নামে এরপর নেহা ভাড়া দিচ্ছে!

–তুই রূদয়কে কল দিয়ে কলেজের বাহিরে আসতে বল!(আমি)

–ওকে!(তানভির)

এরপর আমি নেহাদের দিকে যেতে লাগি!নেহা কলেজের গেটে ডুকবে তখনি ডাক দিলাম!

–এই যে আপু,একটু দাড়ান!(আমি)

আমার কথা শুনেই নেহা ও তার পাশে থাকা মেটা দাঁড়িয়ে যায় আর পিছনে ঘুরে আমার তাকায়!আর সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।আমিও তাদের কাছে গেলাম!

–জি, আমাদের ডাকছেন যে, আমাদের কিছু বলবেন!(নেহা)

–জী আপু,কিছু কথা ছিলো তবে শুধু আপনাকে বলবো!(আমি)

–হ্যা বলুন কি বলবেন!(নেহা)

–আসলে আপু…

আমি যখনি কথাটা বলতে যাবো তখনি রূদয় উপস্থিত!রূদয় এসেই আমার পাশে দাঁড়ায়!

–এই নেহা এটা তো সেই ছ্যাচড়ার বন্ধু রূদয়!(নেহার পাশের মেয়েটা)

কথাটা শুনেই নেহা কেন জানি হুট করেই রেগে যায়!

–এই এক মিনিট ছ্যাচড়া মানে!কাকে ছ্যাচড়া বলতেছেন আপনি!(রূদয়)

–এই আপনি কি সেই তানভির ছ্যাচড়ার বন্ধু! (নেহা)

–এই দাড়ান, তানভির ছ্যাচড়া মানে!এই আপনি কাকে ছ্যাচড়া বলতেছেন!কোন তানভিরের কথা বলতেছেন আপনি?(আমি)

–কোন তানভির মানে, এই যে এই ছেলেটার সাথে যে তানভির থাকে সেই তানভিরের কথা বলতেছি আমি,সেই ছেলেটা আস্ত একটা ছ্যাচড়া।(নেহা)

আমার বুঝতে বাকি রইলো না নেহা আমাদের তানভিরের কথা বলতেছে!তার সাহস তো কম না আমাদের বন্ধুকে ছ্যাচড়া বলতেছে সে!

–এই ছ্যাচড়া মানে,আপনার সাহস কি করে হলো আমাদের বন্ধুকে ছ্যাচড়া বলার!(আমি রেগে)

–ও তার মানে আপনাদের সেই ছ্যাচড়া বন্ধু পাঠাইছে আমাকে তার প্রোপোজালে রাজি করানোর জন্য তাই না,সে পারে নাই তাই আপনাদের দ্বারাই তার সুপারিস পাঠাইছে! (নেহা)

–এই যে আপু আমাদের বন্ধু কোনো ছ্যাচড়া না, আর কথা রইলো সুপারিস এর, আমরা সেটার জন্য আসি নাই!(আমি)

–আরে চুপ থাকেন,আপনার ফ্রেন্ডকে আমার ভালো করেই চেনা, যেহুতু আপনারা তারই ফ্রেন্ড তাই নিশ্চই তার কথা শুনে আমার সাথে কথা বলতে আসছেন,এই জান এখান থেকে আপনাদের মতো ছ্যাচড়াদের সাথে কথা বলার আমাত বিন্দু মাত্র ইচ্ছা নাই,ঐ ছেলেটার মতো যার ফ্রেন্ড থাকে সেও একপ্রকার ছ্যাচড়াই হয়ে থাকে!কারন ছ্যাচড়া বন্ধু ছ্যাচড়াই হয়ে থাকে।তাকে বলছিলাম আমার বিএফ আছে তার পরেও আপনাদের পাঠাইছে,লাষ্ট ওয়ান্ড দিচ্ছি আমার পিছে পড়বেন না আর সেই ছ্যাচড়াকেও বলে দিবেন আমার পিছে না লাগতে পরে নাহলে তার হাত পা ভেঙ্গে দিতে বাধ্য হবো!এই সামিয়া চল এখান থেকে (নেহা)

বলেই নেহা ডাইরেক্ট ভিতরে চলে যায়,আমার মেজাজ ফুল হট হয়ে আছে ইচ্ছা করছে মেয়টাকে আমার পায়ের জুতা খুলে মারতে, সে কাকে ছ্যাচড়া বলল,আর একমিনিট সে কেনই বা তানভিরকে ছ্যাচড়া বলল!সে এটা কেন বলল তার প্রোপোজাল দিতে তানভির আমাদের পাঠাইছে, আমি গেলাম সাধারনত সাইমনের বেপারের কথা বলতে কিন্তু রূদয়ের এন্ট্রি নিতেই মেয়েটার বিহেবার চেঞ্জ হয়ে গেলো !বড় প্রশ্ন তানভিরকে ছ্যাচড়া কেন বলল নেহা!তাছাড়াও যখন আমি তানভিরকে বলি নেহার সাথে কথা বলার সময় তাকেও পাশে থাকতে কিন্তু সে একটা উত্তর দিলো যে তার চেহারা দেখে মায়ায় জড়াতে চায় না, নাকি অন্য কিছুর জন্য তানভির নেহার সামনে যেতে চায় নাই!মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আর যে প্রশ্ন গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তার উত্তর গুলো একমাত্র তানভিরের কাছে গেলেই পাওয়া যাবে।

চলবে…………..
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.