অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৬

 অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৬

অপরাধী
লেখক_অন্তর
পর্ব_১৬
,
,
,
যখন আমি তানভিরকে বলি নেহার সাথে কথা বলার সময় তাকেও পাশে থাকতে কিন্তু সে একটা উত্তর দিলো যে তার চেহারা দেখে মায়ায় জড়াতে চায় না, নাকি অন্য কিছুর জন্য তানভির নেহার সামনে যেতে চায় নাই!মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, আর যে প্রশ্ন গুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তার উত্তর গুলো একমাত্র তানভিরের কাছে গেলেই পাওয়া যাবে।

–অন্তর, আমার ইচ্ছা করতেছে মেয়েটাকে চুপের মুঠি ধরে আছাড় দিতে! তার সাহস কি করে হলো আমাদের বন্ধুকে ছ্যাচড়া বলার!(রূদয়)

–আমার ও তো একই প্রশ্ন, মেয়েটা কেন তানভিরকে খারাপ বললো!তানভির কি এমন করলো মেয়েটা তানভিরকে ডাইরেন্ট ছ্যাচড়া বলল,চল তানভিরের কাছে যাবো তার কাছে গিয়েই সকল উত্তর জানার চেষ্টা করবো!চল তানভিরের কাছে! (আমি)

এরপর আমি আর রূদয় মিলে তানভিরের কাছে গেলাম,সে দোকানেই বসে আছে! আমরাও দোকানে গিয়ে বসলাম!

–কিরে কথা হলো তোদের!(তানভির)

দুজনেই চুপ হয়ে তানভিরের দিকে তাকিয়ে রইলাম!

–কিরে ভাই তোরা আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন!কি হইছে তোদের!(তানভির)

–না কিছু না, রূদয় আজকে ক্লাস না করলে কোনো হবে!(আমি)

–নারে দোস্ত,আর এমনেই ক্লাস করার ইচ্ছাই চলে গেছে! (রূদয়)

–তানভির চল,আজকে ক্লাস করতে হবে না, বাড়িতে যাবো!(আমি)

–আরে কি হইছে ভাই সেটা তো বল,(তানভির)

–বাড়ি গেলেই বুঝতে পারবি!চল!আজকে কলেজে ক্লাস করতে হবে না, বাড়িতেই ক্লাস করাবো তোকে,চল(রূদয়)

তানভির বারবার জিজ্ঞেসা করতেছে কি হইছে, কিন্তু তার কথায় উত্তর না দিয়ে তাকে নিয়ে আমরা বাড়িতে চলে গেলাম।

রূদয় দের বাড়িতে এসেই আমরা ৩জনেই হল রুমে উপস্থিত!

–ভাই কি হইছে তোদের, আমাকে বল তো!(তানভির)

–একটা সত্যি কথা বলতো, তুই কেন নেহার সামনে যেতে চাস নাই,তার মায়া ভরা চেহারা দেখে কষ্ট পাওয়ার জন্য নাকি অন্য কিছুই জন্য!(আমি)

কথাটা শুনেই তানভির মাথা নিচু করলো!আর আমারও বুঝতে বাকি রইলো না নেহা যা বলছে তা সত্যিই বলছে!

–কিরে মাথা নিচু করলি কেন উত্তর দে!তুই জানিস এই নেহা তোকে নিয়ে কি কি বলছে!তোকে কি বলছে সে!তাহলে শুন!(আমি)

এরপর নেহা যে সব কথা বলে সবই বলি

–তুই যে এমনটা করবি তা আমরা কল্পনাও করি নাই!(আমি)

তানভির চুপ হয়েই রইলো!কোনো কথা বলছে না, কি বা বলবে সে, বলার মতো তো আর অবস্থা রাখে নি সে,কিছুক্ষনের জন্য সেখানে নিরব রইলো!আমার আর রূদয়ের বেশ রাগ উঠে গেছে তানভিরের উপর, কারন তানভির যা করছে তা মোটেও ভালো কাজ করে নি।

তানভির হল রুম থেকে উঠে রুমে চলে যায়,আমি আর রূদয় পূরাই হতাশ হয়ে বসে আছি।

–দোস্ত,থাক বাদ দে,যা হবার হয়ে গেছে, এই সব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই,জানি তানভির কাজটা ঠিক করে নাই,তারপরেও মানুষ মাত্রই ভুল!(রূদয়)

আসলেই রূদয় কথাটা ঠিকি বলছে, তানভির ভুল করেই এমনটা করছে তাই আমারও উচিত তার উপর রেগে না থাকা

–ঠিকি বলছিস তুই! , আর আমিও মনে হয় তানভিরকে বেশি বলে ফেলছি,আমার জন্য এখন তানভিরের মুড অফ হয়ে গেছে। কিন্তু কি করতাম আমি,যখনি সব ঠিক করতে যাই তখনি সব উলোট পালোট হয়ে যায়,মাথার মধ্যে একের পর এক টেন্সেন চেপেই আছে, চিন্তা করছিলাম মেয়েটার দ্বারাই আমাদের বাড়িটা নিয়ে নিবো!কিন্তু এখন এই সব নিয়েও মেয়েটার সাথে কথা বলতে পারবো না।(আমি)

–সমস্যা নেই,আল্লাহর উপর ভরসা রাখ সব ঠিক হয়ে যাবে!(রূদয়)

–হুম দোস্ত,একমাত্র উনিই আছে যে সব ঠিক করে দিতে পারে,আর রূদয় যেহুতু তানভির ভুলটা করছে, তাই ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটা উচিত।(আমি)

–হুম, আর যাই হোক,তানভির যা করছে এর জন্য ক্ষমা চাওয়াটাই ভালো,দোস্ত তোর কথায় আমি সহমত! তবে আগে আমাদের তানভিরের মুড ঠিক করতে হবে।(রূদয়)

–হুম,(আমি)

এরপর আমরা রুমের দিকে গেলাম,দেখি তানভির খাটে শুয়ে আছে আর এক ধেয়ানে উপরে তাকিয়ে আছে,জানি আমার কথা বার্তায় তানভির মুড অফ করে আছে।তাই খাটে গেলাম।

–সরি দোস্ত,আমি জানি তুই আমার কথায় মুড অফ করে বসে আছিস,সরি ভাই,তোকে কষ্ট দিয়ে কথা গুলো বলি নাই,আসলে আমার মাথায় একের পর এক টেনসেন এসে বসতেছে, তুই তী জানিস কেমন পরিস্থিতিতে আছি আমি,আমাকে মাফ করে দে ভাই!!(আমি)

–নারে দোস্ত,তোর কথায় আমি একটু কষ্ট পাইনি,বরং কষ্টতো এটাতেই পেলাম আমার জন্য তোদের কথা শুনতে হলো!আর এমনেও তুই একটু সমস্যায় আছিস,যার জন্য তোর মেঝাজটাও খিটখিটে হয়ে আছে এটাই সাভাবিক,দোস্ত আমাকেও ক্ষমা করে দে, আমার জন্য তোর পরিকল্পনাটা শেষ হয়ে গেলো!(তানভির)

–কিছুই শেষ হয় নাই,আল্লাহ আছে আমাদের সাথে উনি নিশ্চই একটা না একটা পথ বের করে দিবেই আমাদের,(আমি)

–হ্যা দোস্ত,(তানভির)

–তবে তানভির একটা কথা বলি,(আমি)

–হ্যা বল!(তানভির)

–শুন,তুই যেটা করছিস,আমার মতে নেহার কাছে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটা উচিত!(আমি)

–হ্যা দোস্ত,ঠিকি বলছিস,কারন যা করলাম না তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেওয়াটাও ভালো!(তানভির)

আমি জানতাম তানভির তার ভুলটা বুঝতে পারবে তাকে আমি এমনে এমনে বেস্টু বানাই নাই,ফ্রেন্ড তো অনেকেই হয় কিন্তু বেস্টফ্রেন্ড যে হয় না তার মধ্যে একটু স্পেশাল কিছু থাকে।আর তানভিরের মধ্যে স্পেশাল জিনিসটা হলো তানভির সহজেই বুঝে যায় কোনটা ভুল কোনটা সঠিক, তবে হ্যা সেটা একটা ভুল করছে, আর এই ভুলটা করাটাই সাভাবিক, মনের এক অনুভূতি আছে বলেই এই ভুলটা করে নাহলে সে ভুলটা করতো না আর ভুল করেই সে তার ভুলটুকু বুঝতে পারলো এটাই অনেক।

–ঠিক আছে দোস্ত কাল কলেজে গিয়েই ক্ষমা চেয়ে নিস,আর এখন এই সব নিয়ে ভেবে আর লাভ নেই,তার থেকে এটাই ভালো আমরা আমাদের আড্ডায় ব্যস্থ হয়ে পড়ি!(রূদয়)

–দোস্ত,আড্ডা তখনি দেওয়া যায় যখন মনটা একটু ভালো থাকে, কিন্তু আমার মনটা ভালো নেই, আড্ডা দেওয়ার মতোও মন মানসিকতাও নেই আমার! আমার মনে একটাই টেনসেন চলতেছে কি করে বাড়িটা আম্মু আব্বুর হাতে বুঝিয়ে দিবো!এই চিন্তা ছাড়া আর কিছুই চিন্তাই এখন আর কাজ করতেছে না, নেহার সাথে দেখা করার আগ পর্যন্ত একটা ভরসা ছিলো যে নেহাকে নিয়ে বাড়িটা নিবো কিন্তু এখন তাকে তার বিএফ এর কথা বললেই সে আমাদের উপর আরো ক্ষেপে যাবে, এখন নেহাকে কিছু বলতে হলে আমাদের আগে সাইমনের বিরুদ্ধে প্রমান জোগার করা লাগবে এরপরই নেহাকে কথাগুলো বলা যাবে তার আগে যদি বলি তাকে সাইমনের বেপারে কিছু বলি সে আমাদের ভাববে আমরা তানভিরের জন্য সাইমনের বেপারে উল্টা পাল্টা বলতেছি।তাই একটু চিন্তায় আছি আমি।(আমি)

–বললাম তো দোস্ত, আল্লাহর উপর ভরসা রাখ।(রূদয়)

এরই মধ্যে তানভিরের কল আসে, আর সেও কল রিসিব করে কথা বলতে লাগে। আমি আর রূদয় এমনে বসে আছি,তখনি তানভির কান থেকে মোবাইল সরায়,

–কিরে তোর মোবাইল বন্ধ কেন!মোবাইল চালু করিস নাই!(তানভির)

–না, করি নাই,কেন,কি হইছে!(আমি)

–কি হইছে, এই ধর কথা বল!(তানভির তার মোবাইল এগিয়ে দিয়ে)

–আরে আজব সকালেই না মামীর সাথে কথা বললাম এখম আবার কল দিলো যে!(আমি)

–আমি তোরে একবারো বলছি এটা মামী কল দিছে, অন্য একজন কল দিছে!(তানভির)

–মামা মামী ছাড়া তোর মোবাইলে আমাকে কে খুজবে! (আমি)

–নিলেই বুঝতে পারবি!(তানভির)

এরপর আমিও মোবাইলটা নিলাম!

–হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম, জি কে বলতেছেন!(আমি)

— মোবাইল অফ করে রাখছো কেন !(কান্না জনিত কন্ঠে)

কন্ঠটা শুনেই আমার বুঝতে বাকি রইলো না এটা কে,এটা রিদিকা!তাই আমিও আস্তে করে উঠে এক সাইডে চলে যাই।

–আমার মোবাইল অফ করে রাখছি কারন আমি একটু সমস্যায় আছি,আর ডিস্টাব চাই না বলেই ফোন অফ করে রাখছি!কিন্তু কি হইছে কান্না করতেছো কেন!(আমি)

–কান্না করবো না মানে,তুমি কি মনে করো ঐরাতে কথা বলি নাই বলে আর এখন কাছে নেই বলেই কি তোমাকে ভুলে যাবো,তোমার চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে দিবো!(রিদিকা কান্না জনিত কন্ঠে)

–দেখ আমি তো বলেই দিছি আমার চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে দিতে,আমার থেকে যেটা চাইতেছো সেটা সম্ভব না!আর কান্না করতেছো কেন!(আমি)

–চুপ করো তুমি,কি বাদ দিবো হ্যা,আমি বাদ দিতে পারবো না, আর কান্না করতেছি কেন জানো,আজ তোমাকে নিয়ে দূসপ্ন দেখছি যেটা দেখার পর থেকে আমার আর ঘুম হয় নাই,চিন্তা হতে থাকে তোমার জন্য,আমি সাথে সাথে তোমাকে কল দিতে লাগি কিন্তু তোমার মোবাইল বন্ধ বলতেছে যা জন্য আমার ভয়ের মাত্রাও বেড়ে যায়,পরে এখন তানভিরকে কল দিলাম!তুমি কি মনে করো,কেউই কি তোমার জন্য চিন্তা করে না!এভাবে কেউ মোবাইল অফ করে রাখে,আম্মু আব্বুও তো কল কল দিতো তোমাকে!আর এখন আছো কোথায় তুমি,একদিন হয়ে গেলো তোমাকে দেখি না!(রিদিকা কান্না কন্ঠে)

–আমাকে দেখতে হবে না,আমি হারিয়ে গেছি,দেখ রিদিকা আমি তোমাকে রিকোয়েষ্ট পর্যন্ত করলাম তারপরেও কেন আমার পিছে পড়ে আছো,দেখ আমাকে মামা মামীর কাছে অপরাধী বানাইও না এমনেই আমি নিজের আম্মু আব্বুর কাছেই…….(বলা থামিয়ে দিলাম)

–তোমাকে আম্মু আব্বু কাছেই কি…. কি হইছে থেমে গেলে কেন,কি বলতে গেছিলে তুমি!(রিদিকা)

–না কিছু না, মোট কথা বলতে চাচ্ছি আমাকে প্লিজ রেহায় দাও,যেটা চাচ্ছো সম্ভব না!আমাকে মামা মামীর কাছে খারাপ বানাইও না,(আমি)

–আমি অতো কিছু জানি না, মোট কথা ফোন অন করো,আর না হলে আমার সাথে দেখা করে যাও!(রিদিকা কান্না কন্ঠে)

–সম্ভব না, আমি দূরে আছি,আর প্লিজ যা বলছি তা শুনো, আমি রাখলাম, ভালো থাকিও খোদাহাফেজ।(আমি)

–অন্তর আমার কথা….

কথা শেষ হওয়ার আগেই কল কেটে দিলাম, আমি রিদিকার সাথে কথা বলতে চাই না, আমি মনে করছিলাম আমার কথাটা হয়তো রিদিকা বুঝবে কিন্তু সে যে এই ভাবে পিছে পড়ে থাকবে কে জানতো,একের পর এক সমস্যা আসছেই আমার সামনে,সে যে বলল মোবাইলটা চালু করতে যদি মোবাইল চালু করি আমি সিউর আপু আমাকে কল দিবেই,আর রিদিকাও কল দিবেই,আমি যদি তাদের নাম্বারও ব্লক করে রাখি লাভ হবে না, তারা অন্য নাম্বার দিয়ে কল দিবেই।তাই মোবাইলটা অফ রাখাই ভালো।

আমি।তানভিরের মোবাইল নিয়ে তানভিরের কাছে চলে গেলাম,আর তার মোবাইল তাকে ধরিয়ে দিলাম।

–কিরে কি বলে রিদিকা!(তানভির)

–এমনেই কথা বললো সে, কি বা বলবে, আমি কেমন আছি,মামা মামীর সাথে কথা হইছে কিনা এই সব জিজ্ঞেসা করতেছে।(আমি)

–ওহ,(তানভির),

এরপর আমরা আমাদের মতো করে কথা বলেই দুপুর পর্যন্ত পার করলাম,দুপুরে আমরা ৩জন মিলেই রান্না করতে লাগে মোটামোটি ৩জনেরই রান্নার এক্সপেরিয়েন্স আছে, কারন আমরা আগেও একত্রে রান্না করছিলাম। এরপর রান্না বান্না শেষ করে দুপুরে রেষ্ট নি,

বিকাল বেলা

আমি বাড়িতে একা, রূদয় গেছে কিছু বাজার করার জন্য আর তানভির গেলো তার বাড়ির দিকে, রূদয় আমাকে তার সাথে যেতে বলে কিন্তু আমার ভালো লাগতেছিলো না তাই বাড়িতে রয়ে যাই,রঙ চা খেতে ইচ্ছা তাই রান্না ঘরে গিয়ে রঙ চা বানিয়ে বারান্দায় বসে মোবাইল টিপতে টিপতে চায়ের মজা নিতে লাগি,মজা নিচ্ছি বটে আবার মাথায় টেনসেনটাও কাজ করতেছে যতো পারতেছি চেষ্টা করতেছি রিলেক্সে থাকার কারন রিলেক্স থাকলে মাথা ভালো কাজ করে।সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে একাই কাটিয়ে দিলাম।

সন্ধায় পর

আমি হল রুমে বসে টিভি দেখতেছি, তখনি দেখলাম রূদয় আমাকে কল দিলো!

–হ্যা মামা, বাজার করা হইছে!(আমি)

–মামা বাজার করা হইছে মানে,মামা একটা বিরাট কাতলা ধরার জাল পাইছি রেএএ!(রূদয়)

–মানে!জাল দিয়ে কি করমু!আর আমি কাতল মাছ খাই না বেটে সেটা ভালো করেই জানিস তুই!(আমি)

–আরে ভাই শুন সাইমনের বিরুদ্ধে একটা সেই প্রমান পাইছি যার দ্বারা তুই নেহাকে সাইমনের বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারবি!(রূদয়)

–কি বলতেছিস তুই!(আমি)

–হ্যারে মামা,আসলে একটা ক্লিপ দেখাবো,মামা টেনসন মুক্ত হয়ে যা এবার!(রূদয়)

–ঠিক আছে তুই তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়!(আমি)

–হ্যারে দোস্ত আসতেছি আমি!(রূদয়)

বলেই কল কেটে দিলো,রূদয়ের কথাটা শুনে মনের মধ্যে একপ্রকার সস্থি কাজ করতে লাগলো,নিশ্চই রূদয় সাইমনের বিরুদ্ধে ভালো কোনো প্রমান পাইছে তাই সে কল করে জানালো। এখন একটু ভালোই লাগতে লাগলো। তখনি দেখলাম তানভিরও কল দিলো আমিও রিসিব করলাম।

–হ্যা তানভির বল!(আমি)

–দোস্ত,আংকেল অজ্ঞান হয়ে গেছে, তুই তাড়াতাড়ি ******হস্পিটালে চলে যায়!(তানভির)

কথাটা শুনেই নিমিষেই আমার হাসি মুখটার মধ্যে ভয়ের ছাপ চলে আসলো।এই মাত্র রূদয় আমাকে একটা ভালো নিউজ শুনালো আর তার কিছু মুহুত্ত না যেতেই তানভির আমাকে কল দিলো আর বলে আব্বু নাকি জ্ঞান হারাই ফেলছে,চিন্তার ছাপ থেকে মুক্ত হতেই মুহুত্তটা পার না হতেই ভয়ের ছাপ এসে দাড়ায়,কি হচ্ছে এই সব আমার সাথে। আমি আর স্থীর থাকতে পারলাম না সাথে সাথে আমিও হস্পিটালের দিকে রওনা দিলাম,এরপর হস্পিটালে গিয়ে তানভিরকে কল দিলাম আর আব্বু কোথায় আছে সেটা জিজ্ঞেসা করে নিলাম,হস্পিটালের দেওয়ালের দিকে তাকালার সেখানে মাস্কের কথা উল্লেখ করা তাই মাস্ক পড়ে নিলাম হস্পিটালে ডুকলাম,আর আব্বুর কেবিনের দিকে গেলাম,আব্বুর কেবিনের সামনে যেতেই দেখি, আংকেল, ও তানভির আছে, আর আব্বু শুয়ে আছে, আমি দূর থেকেই তানভিরকে কল দিলাম, আর কেবিনের বাহিরে আসতে বললাম সেও বাহিরে আসলো,

–তানভির আব্বু কেমন আছে এখন!(আমি)

–আংকেল এখনো অজ্ঞান অবস্থায় আছে, ডাক্তার আংকেলকে দেখে গেছে,প্রেসারটা বেড়ে গেছে আংকেলের, তাই বেহোস হয়ে গেছে!(তানভির)

–দোস্ত,আব্বুর দিকে একটু খেয়াল রাখিস, আর ওষুধ যা লাগে আমাকে বলবি আমি মেনেজ করে দিবো!আর আম্মু কোথায়, আম্মু কি আসছে এখানে!(আমি)

–না আন্টি আর আম্মু বাসায়, আন্টি এমনেই আংকেলের এই অবস্থা দেখে কান্না কাটি করতেছে তাই আম্মুকে বলে আসছি আন্টির খেয়াল রাখতে।তুই চিন্তা করিস না, (তানভির)

–চিন্তা কেমনে না করতাম ভাই,আম্মু আব্বুর অবস্থা দেখে কেমনে শান্তিতে থাকতাম আমি।তারা তো…(আমি)

–আব্বু আম্মু মানে!(তানভিরের পিছন থেকে মেয়েলি অবাক কন্ঠে)

এই কথাটা তানভিরের পিছন থেকে শোনা গেলো,আমিও তানভির দুজনেই পিছনে তাকিয়ে দেখলাম, পিছনে দেখি রিদিকা দাঁড়িয়ে আছে, রিদিকাকে দেখেই নিমিশেই অবাক হয়ে গেলাম,আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো!

চলবে…………..
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.