অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৭

 অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_১৭

অপরাধী
লেখক_অন্তর
পর্ব_১৭
,
,
,
আমিও তানভির দুজনেই পিছনে তাকিয়ে দেখলাম, পিছনে দেখি রিদিকা দাঁড়িয়ে আছে, রিদিকাকে দেখেই নিমিশেই অবাক হয়ে গেলাম,আমার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো!রিদিকা এবার আমাদের সামনে এসেই দাঁড়ায়!

–তার মানে ফুফিদের বাড়িতে যারা আছে তারা তোমার আব্বু আম্মু!আর তুমি তাদেরই ছেলে!(রিদিকা)

কথাটা শুনেই পূরাই নিস্তব্দ হয়ে গেলাম,বুঝতে পারলাম রিদিকা আমাদের কথাবার্তা শুনে গেছে।আর আব্বু আম্মুর সম্পকে জেনে গেছে সে।

–কি হলো,চুপ হয়ে আছো কেন!কথা বলতেছো না যে,তোমার আম্মু আব্বু ফুফিদের বাড়িতে আছে অথচ তুমি কিনা তাদের কোনো খোজ খবরই নিচ্ছো না, না তাদের সাথে দেখা করতেছো তুমি!আর তুমি না বলছিলে তোমার ফেমেলিতে কেবল তুমি আর তোমার আব্বু আম্মুই আছে, কিন্তু আন্টি তো বলছে তাদের সাথে তাদের ছেলে ও মেয়েও আছে।আর মেয়ে বড়,, ও বিয়ে হয়ে গেছে আর ছেলেটা ছোট, মানে তুমি আমাদের মিথ্যা বলছো!কেন আমাদের মিথ্যা বলছো তুমি!(রিদিকা)

আমি কি বলবো ভেবে পাচ্ছি না, জবাব দেওয়ার মতো কোনো কিছু খুজে পাচ্ছি না আমি,আর রিদিকার কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে সে হয়তো আম্মুর সাথে কথা বলছে আর আমাদের পরিবারের সম্পর্কে জানছে, যেখানে আমি তাদের বলছিলাম আমার পরিবারে কেবল আম্মু আব্বু ও আমি আছি,কিন্তু সে হয়তো আম্মুর সাথে কথা বলে আমাদের পরিবারের সদস্য সম্পকে জেনে গেছে।

–কি হইছে চুপ করে আছো কেন তুমি,মনে করছিলাম অনেক দিন পরে তুমি তোমার এলাকায় আসলে হয়তো তুমি তোমাদের বাড়িতে গেছো আর তোমার পরিবারের দেখা করে আসবেই কিন্তু এখন জানতে পারি তোমার বাবা মা-ই ফুফিদের বাড়িতে।আবার আমি এখন আবার খেয়াল করলাম তুমি হস্পিটালে আসলে অথচ কেবিনে ডুকলে না,তানভিরকে কল দিয়ে বাহিরে আনলে আর আংকেলের কথা জিজ্ঞেসা করতেছো,আমি যদি তানভিরের বাহিরে আসা দেখে বাহিরে না আসতাম তাহলে এই সত্যিটা অজানাই থেকে যেতো!এবার বলো কেন ভিতরে গিয়ে আংকেলের সামনে গেলে না তুমি, কেনই বা আমাদের মিথ্যা বলছো তুমি,তোমার আচরন গুলোর মানে বুঝলাম না আমি আর আমি আন্টিকে তার ছেলের কথা জিজ্ঞেসা করলাম তা করতেই আন্টি কান্না করে দিলো,আমি কিছুই বুঝতেছি না,শুধু এতোটুকুই বুঝতে পারলাম আন্টির কান্না ও তোমার আন্টি আংকেলের সামনে না আসার নিশ্চই কোনো একটা খটকা আছেই!এখন আমি সেটা জানতে চাই!(রিদিকা)

–আর তাছাড়াও যেখানে নিজের মা বাবা কষ্টের মধ্যে একা একা দিন কাল পার করছে সেখানে কিনা ছেলে তাদের চেহারা পর্যন্ত দেখলো না, না তাদের সামনেও আসলো অথচ কোন এক বন্ধুর বিপদ হইছে তার জন্য জান প্রান দিয়ে বেড়াচ্ছে!যেখানে তোমার উচিত ছিলো আগে নিজের আম্মু আব্বুর খেয়াল রাখা, কিন্তু তুমি! ছি অন্তর ছি!তোমার আম্মু আব্বুর অবস্থা দেখছো একবারো তুমি!অথচ বন্ধুর পিছেই লেগে আছো তুমি!(রিদিকা)

–চুপ, একদম চুপ, মুখে লাগাম লাগা,না জেনে আজাইরা বকবক করেই যাচ্ছিস তুই রিদিকা,(তানভির)

–তানভির না!(আমি)

— অন্তর, ভাই আমাকে মাফ কর,তোর সহ্য ক্ষমতা অনেক কিন্তু আমার না তাই আমি আর সহ্য করতে পারতেছি না, মেয়েটা বেশি বলে ফেলছে, আংকেল আন্টির সামনে আসে নাই তার একটা কারন তো আছে, কিন্তু তাদের সামনেও না এসে ছেলেটা তাদের জন্য যা করতেছে না তা অনেক,তাছাড়াও অন্তর আন্টি আংকেলের সামনে আসে নাই বলেই কি তাদের খোজ খবর রাখে না,বরং সে এলাকায় আন্টি আংকেলের জন্যই আসছে!(তানভির)

–মানে!কিন্তু সে তো বলল তার কোন বন্ধু বিপদে পড়ছে তার জন্যই তো সে আসলো এখানে!(রিদিকা)

–হা হা হা তুই অন্তরকে চিনতে এখনো অনেক সময় বাকি,তার মুখের টা শুনলি মনেরটা না, তার আগে তোর একটা প্রশ্নের উত্তর দি যে অন্তর কেন আংকেল আন্টির সামনে আসতে চায় না, না তাদের সম্মুখীন হতে চায়, (তানভির)

–তানভির না প্লিজ ভাই,বাদ দে!(আমি)

–না তানভির,বল তুই!আমি জানতে চাই তার কারন!(রিদিকা)

এরপর তানভির আমার সাথে যে সকল ঘটনা গুলো ঘটলো তা সবই রিদিকাকে বলে দেয়,আমি অনেক বার বারন করেই গেলাম কিন্তু কথা শুনলো না তানভির!

–এবার বুঝছিস অন্তর কেন তারই আম্মু আব্বুর সম্মুখীন হতে চায় না,কারন এই হারামীর মনে অনেক বড় আঘাত লাগছিলো মনে করছিলো তার পরিবার তার পাশে থাকবে কিন্তু তার পরিবার তাকে দূরে ঠেলে দেয়,যার জন্য অন্তরের মনে একটা খোপ জমে যায় আর সে তার পরিবারের কাছে আসতে চায় না,এবার কথা রইলো সে বলছে এই এলাকায় কোনো এক বন্ধুর বিপদে সে আসছে, কিন্তু এটা সত্যি না বরং অন্তর তার আম্মু আব্বুর বিপদেই এলাকায় আসছে, কারন অন্তরের আপন মামা মামী জালিয়াতি করে অন্তরদের বাড়িটা নিজেদের নামে করে নেয়,আর এই কাজে সফলতা তার জন্যই হয় যার জন্য অন্তরের ভালোবাসার জীবনটা শেষ হয়ে যায় মানে অন্তরের মামাতো ভাই সাইমনের জন্য।

কথা গুলো শুনেই রিদিকা চুপসে যায় আর কোনো কথাই বলছে না,

–অন্তর পারলে সে তাদের বিপদে এগিয়ে নাও আসতে পারতো কিন্তু এই হারামী বেহায়ার মতো তার আম্মু আব্বুর কষ্টের দিকে ও পরিবারের সদস্য হওয়ার কর্তব্যের দিকে তাকিয়ে এই এলাকায় আবারো পাড়ি দেয়,যেখনে অন্তরের আম্মু আব্বুই নাকি তার খোজ খবর নেই নি,অথচ আমাকে লাগিয়ে রাখছে তাদের খোজ খবর দিতে।আর অন্তর এখন এটার জন্যই সে এখন টেনসেনে আছে যে কি করে তাদের বাড়িটা ফিরিয়ে আনবে!তুই তো খুব সহজেই অনেক লেকচার দিয়ে দিলি কিন্তু অন্তরের মনের অবস্থায় জানলি না তুই,আর অন্তর আমাকে ক্ষমা করে দিস আমি পারলাম না তোর ওয়াদা রাখতে, তোকে এভাবে কথা শুনে দেখতে থাকতে পারতেছিলাম না তাই সবই বলতে হলো,আর তাছাড়াও একদিন না একদিন সত্যিটা প্রকাশ হয়ই, (তানভির)

আমি আর কি বলবো বলার জন্য আর কিছুই রাখলো না তারা, আমার সত্যিটা রিদিকার কাছে প্রকাশ করে দিলো,আর এমনেও তানভির ঠিকি বলছে সত্যি সব সময় গোপন থাকে না একদিন না একদিন প্রকাশ হয়ই কিন্তু আমি চাইতাম না আমার সত্যিটা কেউ জানুক,তারপরেও এখন তানভির রিদিকাকে বলে দিলো!হয়তো সামনে সকলের কাছেই সত্যিটা প্রকাশ হয়েই যাবে।

দেখলাম রিদিকা আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।

–তুমি এমন কেন,কিভাবে পারো কষ্ট নিজের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে!কি করেই পারো তুমি, (রিদিকা)

–পারতাম না কিন্তু পারতেই হলো আমাকে,কারন আমি চাইনা আমার কষ্টটা অন্য কেউ জানুক ও হাসি ঠাট্টা করুক,কারন লাইফে অনেক মানুষ দেখলাম যারা মানুষের কষ্টটুকু জানার পর সেই কষ্টটাকে দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে কষ্টটা আরো বাড়িয়ে দেয়,তাই শুধু কয়েক জনেই আমার এই সত্যিটা জানে।(আমি)

–আমার সাথে এতো দিন থেকেও তোমার মনে হলো আমি তোমার কষ্ট নিয়ে তোমাকে কষ্ট দিবো,আমাকে অন্তত বলতে!(রিদিকা)

–আমি বললামই তো আমার সব কথা সবাইকে বলি না,এটাই আমার সভাব,বাদ দাও,সত্যিটা তো জেনেই গেলে, এখন আমার সাহায্য করবা,দেখ আমি তো আম্মু আব্বুর কাছে থাকবোও না, না তাদের কাছে আসবোও তুমি যতোদিম এখানে আছো তাদের দিকে একটু খেয়াল রাখিও,আর আমার কথা বা আমি যে এলাকায় আছি তা জেন তারা না জানে। জাষ্ট এটাই তোমার কাছে আমার চাওয়া!আর তানভির তুই আব্বুকে বাড়িতে দিয়ে জায়গা বরাবর চলে আসিস,আর ডাক্তারের ফি ও আব্বুর ওষুধের টাকা কতো হইছে আমাকে বল!(আমি)

–দেখ আমি থাকতে সেগুলো নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না,আমি আংকেলের দিকে খেয়াল রাখতেছি, তুই কি চলে যাবি!(তানভির)

–হুম,আসলে রূদয় আমাকে কল দিছিলো আর বলছিলো সাইমনের বিরুদ্ধে কি যেন প্রমান পাইছে, সেটা দেখাবে,আমি যাই পরে কথা হবে!(আমি)

–ঠিক আছে যা তুই,সাবধানে যাইস তুই! (তানভির)

এরপর আমিও হস্পিটাল থেকে বেরিয়ে চলে গেলাম আর চলে গেলাম রূদয়ের বাসায়!সেখানে গিয়ে দেখি রূদয় বাসায় উপস্থিত।

–কিরে সালা কই গেছিলি তুই,আমি কতোক্ষন ধরেই তোর জন্য অপেক্ষা করতেছি! (রূদয়)

–আর বলিস না ভাই,যখনি ভালো কিছুর খবর পাই, আবার সাথে সাথে খারাপ কিছু ঘটে যায় বা খারাপ কিছুর খবর পাই!(আমি)

–মানে!(রূদয়)

–আমি হস্পিটালে গেছিলাম ভাই,তানভির কল দিছিলো!আব্বু নাকি অজ্ঞান হয়ে গেছিলো পরে আমিও সেখানে যাই!(আমি)

–কি বলিস,হঠাৎ আংকেল অজ্ঞান হয়ে গেছিলো কেন! আর এখন আংকেল কেমন আছে??(রূদয়)

–আব্বু এখন ভালো আছে, আব্বু ওভার টেনসেন করছিলো তাই প্রেসার বেড়ে গেছিলো তাই আব্বু অজ্ঞান হয়ে যায়,তবে এখন আব্বু আল্লাহর রহমতে বেশ ভালোই আছে, যাই হোক দোস্ত,খুব তাড়াতাড়ি আব্বুকে টেনসেন মুক্ত করতে হবে। আর আমারও অফিসের অনেক দিন গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে, তারাতাড়ি কাজ শেষ করে আমাকে ফিরতেও হবে, (আমি)

–মামা তোর কাজ হয়ে গেছে বলতে পারিস,তোকে একটা জিনিস দেখাই এদিকে আয়!(রূদয়)

এরপর আমাকে রূদয় মোবাইলের স্ক্রীনে কিছু ফটো দেখায়,

–ওরে বাটপার!(আমি)

–আরে মামা রুকো জার সাবার কারো,কই ধাক্কা মুক্কি নেহি কারনে কা,এক ভিডিও ক্লব বি হ্যা! (রূদয়)

এরপর ভিডিও ক্লিপও দেখায়,

–সালার সাইমন তুই এবার উরাধুরা মারা খাবি দারা তুই চান্দু,সাব্বাস রূদয় চালাকি করে ভিডিও করে নিছিস এবার খালি ভিডিওটা জায়গা বরাবর দেখাতে পারলেই হবে,(আমি)

–মামা আমি তো তোর কাজ করে দিলাম, তাহলে আজকে ডিনারে বিরিয়ানি লাগবো!(রূদয়)

–ওকে তানভির আসুক তারপর বিরিয়ানি করবো!(আমি)

প্রায় এক ঘন্টা পর তানভির আসে।

–তানভির আব্বু এখন কেমন আছে!আব্বু জ্ঞান ফিরছে!(আমি)

–এই তো আল্লাহর রহমতে ভালোই আছে, তুই যাওয়ার ৫মিনিট পরই আংকেলের জ্ঞান আসে তারপর ডাক্তার আংকেলকে আর একবার চেক আপ করে, আর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পারমিশন দেয়,তুই চিন্তা করিস না দোস্ত আংকেল আন্টির জন্য আম্মু আব্বু ও এখন রিদিকাও আছে।আর আমাকে ক্ষমা করে দিস, আমি ওয়াদাটা ভেঙ্গে দিলাম,কি আর করবো তোকে এভাবে কথা শুনাচ্ছিলো তাই না পারতে সত্যিটা বলে দিলাম!(তানভির)

–এই দাড়া এই রিদিকাটা কেরে!(রূদয়)

–আমার মামাতো বোন!অন্তর তাকে চিনে ও তাকে নিয়েই আসছে! (তানভির)

–আব্বে সালা,তাহলে এই বেপার, তানভির তার নাম্বারটা দিতে পারবি!(রূদয়)

–সালা নাম্বার তোর পিছে দিমু,সালা ছ্যাচড়া বন্ধ কর,!(আমি)

–এই অন্তরইরা, নাম্বার চাইছি এতে তোর জ্বলের কেন!(রূদয়)

–আমার জ্বলতেছে না, তুই একটা ভাই থেকে তার বোনের নাম্বার চাইতেছিস, এটা কি ঠিক,পারলে গিয়ে মেয়ের থেকে নাম্বার নিয়ে আয়,(আমি)

–আরে এটা তো তার মামাতো বোন!(রূদয়)

–মামা তো বোন,মামাতো সাথে বোনটা তো আছেই,আর সে তো তার ফুফাতো ভাই,কেমন একজন ভাই তার বোনের নাম্বর কোনো ছেলেরে দিতে চাইবে তাও তোর মতো হারামিরে। (আমি)

–নাহলে তুই দে,সে যেহুতু দেওয়া টা ঠিক না তাহলে তুই দে, আমি জানি তোর কাছে নাম্বার থাকবো !(রূদয়)

–নাম্বার থাকলেই হয় না, নাম্বার দেওয়ার মতো পারমিশন ও লাগে,যার নাম্বার নিবি তুই তার পারমিশন ছাড়া আমি দিতে পারবো না,সরি ব্রো৷! তুই এক কাজ কর কাল তানভিরদের বাড়িতে গিয়ে নাম্বার নিয়ে আসিস!(আমি)

–ঠিক আছে ঠিক আছে, সময় আমারও আসবে!(রূদয়)

–ভালা,এই তানভির আজকে বিরিয়ানি রান্না করবো রূদয় একটা সেই লেভেলের কাজ করছে, তার আবদার আজকে ডিনারে বিরিয়ানি চায়,(আমি)

–অকে তাহলে চল লেগে পড়ি!আর রূদয় তুই এক কাজ কর একটা কোক নিয়ে আয়!(তানভির)

–আরে মামা আমি নিয়ে আসছি,আগের থেকে পরিকল্পনা করা ছিলো আজকে বিরিয়ানি হবে তাই কোকও নিয়ে আসলাম,এবার বিরিয়ানি রেডি কর!(রূদয়)

এরপর আমরা ২জনেই লেগে যাই বিরিয়ানি করার জন্য,

রাতের বেলা

আমাদের বিরিয়ানি করা শেষ ও প্লেটে বিরিয়ানি নিয়ে ডাইনিং টেবিলে পরিবেশন করা শেষ,এরপর খাওয়া দাওয়া শুরু, বিরিয়ানি পেয়ে উরাধুরা খাওয়া হচ্ছে রূদয়ের কিন্তু আমি খাচ্ছি কোনো মতে কিন্তু বারবার গলায় আটকে যাচ্ছে, কারন মনের মধ্যে এক চিন্তা বারবার কাজ করতেছে।

–কিরে অন্তর, তুই এভাবে খাচ্ছিস কেন!(রূদয়)

–ভাই,গলায় বারবার আটকাচ্ছে, কিভাবে ঠিক মতো খাবো!যতো দিন টেনসেনটায় আছি খাবার ঠিক মতো গলা দিয়ে নামবে না, (আমি)

–দোস্ত,বেশি চিন্তা করাটা ঠিক না, শুন সব কিছুরই একটা লিমিট থাকে,আর বলছি না আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে, দেখবি আস্তে আস্তে সবই ঠিক হয়ে যাবে।(তানভির)

–হুম,যতো তারাতারি সম্ভব সব ঠিক হোক,কারন আর যাই হোক তাদের আমি এভাবে দেখতে পারতেছি না!(আমি)

–হুম,তবে দোস্ত তোকে একটা কথা বলার ছিলো!শুন অতিতে কি হইছে তা আর ভাবিস না,কারন অতিতের কথা যতো ভাববি বর্তমানটা ততই খারাপ হবে আর ভবিষ্যত ডিপেন্ড করে বর্তমানের উপর।আর একটা কথা যেটা তোর না সেটাকে ধরে রাখতেও পারবি না, কিন্তু যেটাকে আসলেই তোর প্রাপ্য সেটাকে অবহেলা করিস না,(তানভির)

–দোস্ত,সবইটাই বুঝলাম কিন্তু লাষ্টের কথাটা বুঝলাম না,(আমি)

–তুই চিন্তা করে দেখ আমি কি বুঝাতে চাইছি!সব কিছুই বলা যায় না কিছু কিছু কথা কথার ইংগিত দিয়েই বোঝানো হয়,আর বুদ্ধিমানরা ইংগিতেই বুঝে যায়!(তানভির)

তানভিরের কথার আগামাথা কিছুই বুঝলাম না, আর আমি বুদ্ধিমানও না যে তার কথাটা বুঝে উঠবো!তাই বাদ দিলাম,সকলেই খাবার খেয়ে উঠে গেলাম।

এরপর আমি রুমে গেলাম,রুমে গিয়েই মাথায় আসলো মায়ার কথা, যে মায়া সাইমনের জন্য আমার সাথে জঘন্য কাজটা করছে এখন আমারও ইচ্ছা করতেছে তার সাইমনের এই সুন্দর জিনিস গুলো তাকে দেখানোর, তাই মোবাইলটা হাতে নিলাম,পরে মনে পড়লো, মায়ার নাম্বার তো আমার এই সিমে নেই!আর আমার সেই সিমটা ঢাকায়,তাই আর একটা বুদ্ধি মাথায় আসলো!তাই মোবাইলটা বের করে মুন্নিকে কল দিলাম।

–হ্যালো আসসালামুয়াইকুম,তো ভাইজান আপনার মোবাইলটা অন করছেন তাহলে!(মুন্নি)

–সরি বোন,আমাকে ক্ষমা করে দিও,আসলে একটু চাপের মধ্যে ছিলাম তাই অফ রাখতে হলো,(আমি)

এরপর কিছুক্ষন আমাদের মাঝে সাধারন কথা বার্তা হলো,যেমন কেমন আছো,কি করো খাওয়া দাওয়া হইছে,!

–তো ভাইয়া হঠৎ আমাকে কল দিলা যে!(মুন্নি)

–আচ্ছা মুন্নি তোমার কাছে কি মায়ার নাম্বার আছে!(আমি)

–এই ডাইনির নাম্বার আমার কাছে কি করে থাকবে ভাইয়া,একে আমি অনেক আগেই ডিলিট করে দিছিলাম আবার ব্লক দিছিলাম।আর আমার ব্লক লিষ্টে অনেক unknown নাম্বার পড়ে আছে,তার মধ্যে মায়ার নাম্বার কোনটা তা আমি চিনবোও না, কিন্তু ভাইয়া তুমি হঠাৎ এর নাম্বার চাইতেছো কেন!(মুন্নি)

এরপর মুন্নিকে সব বললাম,সব বলার কারন হচ্ছে মুন্নি তো জানেই এই মায়া কি কি করছে,

–কি বলো ভাইয়া, এক্কেবার যেমন কর্ম তেমন ফলও পাবে,তুমি চিন্তা করিও না, কালকেই মায়ার নাম্বার আমি পাঠিয়ে দিবো তোমাকে,কারন তারও তো জানা দরকার তার আদরের বিএফ আড়ালে কি কি করতেছে।আমি কাল যে করেই হোক নাম্বার নিয়ে পাঠিয়ে দিবো তোমাকে!(মুন্নি)

–থ্যাংক্স বোন।আচ্ছা রাখি,ভালো থাকিও খোদাহাফেজ!(আমি)

এরপর কল কেটে দিলাম,এবার শুধু মায়ার নাম্বার পাওয়ার বাকি তারপর তাকে ধরিয়ে দিবো তার সাইমনের কিত্তি কালাপ।

এরপর সুন্দর মতো ঘুমিয়ে পড়ি।

সকাল বেলা,

আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়,আর আমরাও ফ্রেস হয়ে নি, তারপর হল রুমে গেলাম,দেখলাম তানভির চা পাউ রুটি নিয়ে উপস্থিত,তারপর নাস্তা করে নিলাম,

–তানভির মনে আছে আজকে তোকে নেহার সাথে দেখা করতে হবে যে!(আমি)

–হ্যা,আমি দেখা করে ক্ষমা চেয়ে নিবো!(তানভির)

এরপর।নাস্তা করে রেডি হয়ে তানভির ও রূদয় কলেজের জন্য রেডি হয়ে নিলো আর আমিও তাদের সাথে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে নিলাম আর আমরা রওনা দিলাম কলেজের উদ্দেশ্যে।

কলেজের সামনে গিয়েই আমরা নেহার জন্য অপেক্ষা করতে লাগি,আর দেখতে দেখতেই নেহা উপস্থিত,তাই আমরাও কলেজের গেটে দিকে চলে গেলাম।

–এই যে নেহা আপু!(আমি)

কথাটা বলতেই নেহা আমাদের দিকে ফিরে তাকায়!

আমাদের দেখেই সে ভিতরে যেতে লাগে!

–আপু দাড়ান,প্লিজ।(আমি)

–কি হইছে আপনার, কেন ডাকতেছেন আমাকে,আপনাদের মতো ছ্যাচড়াদের সাথে কথা বলার আমার কোনো ইচ্ছাই নেই,আমাকে বিরক্ত করবেন না, নাহলে আমি সিকোরেটি ডাকাবো!(নেহা রেগে)

–জানি আপু, আপনি রেগে আছে, কিন্তু আপু আমরা আপনার রাগ দূর করতে আসছি, আর তার জন্য তানভিরকে ধরে নিয়ে আসছি!সে আগের কাজ গুলোর জন্য আপনাকে সরি বলতে চায়।(আমি)

কথাটা বলতেই নেহা কিছুটা শান্ত ভাব নেই!

–হ্যা আপু,আপনার সাথে গতকাল কথা বলে যা বুঝতে পারলাম,তানভির যে কাজ গুলো করছে তা খুবই খারাপ তাই।আমি আর রূদয় কাল তাকে অনেক কথা শুনাইছি,তাকে বুঝাইছি সে যা করছে খুবই খারাপ কাজ করছে, আর তাকে বলছি আপনাকে সরি বলার জন্য।তানভির এই দিকে আয় (আমি)

এরপর তানভির আসে আর আমি তাকে ক্ষমা চেতে বলি!

–আমাকে ক্ষমা করবেন আপনাকে বিরক্ত করার জন্য, আমি সত্যি দুঃখীত, আজ থেকে আপনাকে আর কোনো দিনও বিরক্ত করবো না, না আপনার সামনে আসবো!(তানভির)

–ঠিক আছে, যান ক্ষমা করলাম,তবে নেক্স টাইম যেন এই কাজ আর না করেন,শুধু আমার সাথেই না আর কোনো মেয়ের সাথে এমনটা করবেন না।(নেহা)

–ঠিক আছে, আপু এবার আপনি যেতে পারেন!(আমি)

তারপর নেহা চলে যায়,আর তানভির ও রূদয় আমার কাছে আসে।

–কিরে এটা কি করলি তুই!তুই কথা গুলো বললি না কেন!(রূদয়)

–দেখ সব কথা এক সাথে বলাটা ঠিক হবে নে,আস্তে আস্তে করে সব বলবো, শুধু একটু ধয্য ধর।আর তানভির আজ থেকে এই মেয়ের পিছে পড়বি না, পারলে সাহায্য করবি, বিরক্ত না,বুঝতে পারছিস!(আমি)

–হ্যা,দোস্ত,(তানভির)

–ঠিক আছে এবার তোরা কলেজে যা,আমি কিছুক্ষন ঘুরাফেরা করবো তারপরে বাড়িতে চলে যাবো!(আমি)

–ঐ ঘটনাটা না ঘটলে আজ আমরা ৩জনেই একসাথে কলেজে যেতাম ও ক্লাস করতাম,কিন্তু একটা ঘটনায়,সব চেঞ্জ করে দিলো!(রূদয়)

–হ্যা রে,দোস্ত,কতোই না মজা করছিলাম কলেজে, হয়তো ভাগ্যেই ততটুকু, এরপর সবই চেঞ্জ,যাই হোক,বাদ দে,যা তোরা!বাড়িতে দেখা হবে!(আমি)

এরপর তানভির ও রূদয় থেকে বিদাই নিলাম ও তারা কলেজে ডুকলো আর আমিও অন্য রাস্তায় চলে গেলাম,তখনি আমার মোবাইলে একটা মেসেজ আসে, আর মেসেজটা দেখেই একটা শয়তানি হাসি দিলাম।

চলবে…………..
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.