অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_২১

 অপরাধী লেখক_অন্তর পর্ব_২১

অপরাধী
লেখক_অন্তর
পর্ব_২১
,
,
,
চাইলেই আপুকে বলতে পারতাম আম্মু আব্বু কোথায় আছে!কিন্তু আমি আপুকে বললাম আম্মু আব্বু কোথায় আছে জানি না ও খুজেও বের করতে পারবো না।কারন একত এর সাথে এই সব বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী না আমি।২য়ত আমাকে কেউ বলতে হয় না আমি আমারটা ঠিকি করি।যেহুতু আম্মু আব্বুর দ্বারা জন্ম নিছি তাই তাদের প্রতি আমার কর্তব্য আছেই যা আমি পালন করতেই হবে,সেটা আমাকে কেউ বলতে হবে না। কিন্তু এবার আমিও দেখতে চাই আপু আম্মু আব্বুর সন্তান হওয়ার দায়িত্ব কতোটুকু পালন করে,দেখি সে আম্মু আব্বুকে খুজে বের করে কিনা।

এরপর মোবাইল পকেটে ডুকিয়ে হাটতে লাগি,কি করবো কিছুই এখন করার নেই কারন যা করার তা আগেই করে রাখছি এখন শুধু অপেক্ষায়ই করতে হবে, তখনি মনে পড়লো হায়রে আমি তো সৌরভের সাথে আসার পর থেকে যোগাযোগ করি নাই,নিশ্চই হারামী আমার উপর রেগে আছে, তাই সাথে সাথে মোবাইলটা বের করে সৌরভকে কল দিলাম!কল দিচ্ছি রিং ও হচ্ছে কিছুক্ষন রিং হওয়ার পর কল রিসিব হলো!

–ওরে ভাইরে ভাই,অবশেষে কলটা দিলেন তাহলে!কেমন আছেন অন্তর ভাই!(সৌরভ)

–আরে ভাই আছি আর কি কোনো মতে, তোর কি অবস্থা!(আমি)

–আর বলিয়েন না ভাই,আমরা গরীব মানুষ আছি আরকি,নিজ এলাকায় গিয়ে আমাদের তো ভুলেই গেলেন ভাই,ও সেলেব্রেটি মানুষ ভুলতেই পারেন! (সৌরভ)

–হারামি মজা করতেছিস তুই,সালা কল দিলাম চিন্তা করলাম এলাকায় আসলাম কিন্তু তোর সাথে কথা হয় নাই,তাই ফ্রি হয়ে তোর খোজ নিতে কল দিলাম,আর তুই কিনা!যা আমি রাখলাম কল দিয়েই আমার ভুল হইছে মনে হয়!(আমি)

–আরে আরে মজা করতেছি,সরি ভাই,আসলে এলাকায় গিয়ে তোর কোনো খোজই নেই,কল দিছিলাম তোর মোবাইল বন্ধ বলছে, পরে মুন্নিকে জিজ্ঞেসা করি তুই কল দিছিস কিনা সে বলছে হ্যা কথা হইছে ব্যস্ত আছি তাই ফোন অফ করেই রাখিস,তাই আর কল দি নাই,তো কি অবস্থা তোর!সেটার জন্য গেছিস সেটা হইছে?(সৌরভ)

–আরে না ভাই সেটা হয় নাই,হবে হওয়ার পথে আসা করি কয়েকদিনের মধ্যেই ভেজাল সমাধান হয়ে যাবে!(আমি)

–ভেজাল মিটমাট করে সোজা আমাদের বাড়িতে চলে আসবি,(সৌরভ)

–আচ্ছা দেখি,আংকেল আন্টি ও মুন্নি কেমন আছে, আর মামা মামী কি আছে! (আমি)

–সবাই ভালোই আছে আর আংকেল আন্টি তো আছে তবে আজকেই ঢাকায় ব্যাক করবে(সৌরভ)

–আচ্ছা, আর ভাবি কি করে, কেমন আছে উনি,(আমি)

–আরে সেও ভালো আছে, তবে অন্তর তোকে ও রিদিকাকে বউ ফিরানি অনুন্ঠানে খুব মিস করছি,চিন্তা করছিলাম তুই ও রিদিকা আমার সাথে যাবি,বিশেষ করে তুই,কিন্তু যাওয়া হলো না,যাই হোক তুই আয় তারপর আমরা একত্রে মিলে আবার যাবো (সৌরভ)

–দেখি(আমি)

–ওই সালা দেখি মানে কি!আসতেই হবে তোকে!(সৌরভ)

–ভাই যদি নসিবেই না থাকে তাহলে আসবো কি করে, তাই আমি সিয়োরেটি দিতেছি না, যদি আসতে পারি আসবো নাহলে সোজা ঢাকায় ব্যাক করতে হবে তাছাড়াও অফিসে তো যাওয়া লাগবেই আচ্ছা যাই হোক আমি এখন রাখি আমি একটু বাহিরে আছি,ভালো থাকিস আর সকলের খেয়াল রাখিস,আংকেল আন্টি ও মামা মামীকে আমার সালাম দিস!খোদাহাফেজ(আমি)

–আচ্ছা ঠিক আছে খোদাহাফেজ!ভালো থাকিস(সৌরভ)

এরপর কল কেটে দিলাম,এখানে আসার পর থেকে সৌরভের সাথে কথা হয় নি, তাই কথা বলে নিলাম,আসলে কথা বলার মতো সেই পরিস্থিতি ও মনোভাবটা থাকে না সব সময়, আর যতোদিন আম্মু আব্বুকে তাদের অধিকারটা তুলে দিতে পারবো না ততদিন কারো সাথে তেমন কথা বলার মনোভাবটুকুও আসবে না।

যেহুতু এখন আর কিছুই করার নাই তাই চিন্তা করলাম একটু ঘোরাফেরাই করা যাক,তাই আমিও মোবাইল পকেটে রেখেই বাহিরে একটু ঘোরা ফেরা করতে লাগি।কারন বাসায় বসে থাকতে এক প্রকার বোর লাগতেছে।হাটতে হাটতে ডাইরেক্ট মেইন রোডে চলে গেলাম,মেইন রোডে যেতেই মনে পড়লো মামার কথা কারন আমি সেই জায়গায় আছি যেখানে মামা এক্সিডেন্টন করলো,তাই চিন্তা করলাম মামাকে একটিবার দেখে আসা দরকার, জানি মামী ও ফয়সাল আছে হয়তো এতোক্ষনে সাইমনও গেছে সেখানে তারপরেও আমারও একটা কর্তব্য আছে মামার হাল হাকিকত দেখা তাই মেইন রোড থেকেই একটা সিনএজি নিয়ে হস্পিল্টালে চলে যাই,হস্পিটালে গিয়েই আমি আগে মুখে মাস্ক লাগিয়ে নিলাম একত মাস্ক পড়তেই হবে ২য়ত মাস্ক পড়া থাকলেই মামা মামীদের থেকে আড়াল থাকা যাবে,

মাস্ক পড়া অবস্থায় হস্পিটালে প্রবেশ করলাম,এরপর আস্তে আস্তে মামার কেবিনের দিকে গেলাম,কেবিনের বাহিরের থেকে উকি মেরে ভিতরে দেখতে লাগি, দেখি মামা শুয়ে আছে আর মামী মামার হাত ধরে চোখের পানি ঝড়াচ্ছে,ও ফয়সাল সেখানেই আছে, কিন্তু সাইমন কি আসছিলো??আরে আসবেই না কেন তার আব্বুর এক্সিডেন্ট হইছে সে না এসেই কই যাবে,কিন্তু সে এখন কোথায়,এই সময় তো মামা মামীর কাছেই থাকার দরকারছিলো।

–এই যে আপনি এভাবে উকি মেরে ভিতরে কি দেখছেন??(পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে)

সাথে সাথে পিছনে তাকালাম,দেখি নার্স আমাকে কথাটা বলে!

–জি আসলে গতকাল পেসেন্ডটাকে আমি আনছিলাম, তাই দেখতেছিলাম তার কন্ডিশন কেমন!(আমি)

–এক মিনিট আপনিই কি সেই ব্যক্তি!(নার্স)

সাথে সাথে মুখের থেকে মাস্ক সরালাম আর তাকে আমার চেহারা দেখালাম।আবার মাস্ক পড়ে নিলাম।

–এবার বিশ্বাস হইছে!(আমি)

–আরে আপনাকেই তো উনারা খুজতেছে,(নার্স)

–খুজোক সমস্যা নেই,আচ্ছা আপনি আমাকে এটা বলতে পারবেন!ভিতরে যে মহিলা ও ছেলে আছে তাদের দুজনকে ছাড়া অন্য কেউ আসছিলো ভিতরের প্যাসেন্টের সাথে দেখা করতে?(আমি)

–না শুধু তারা দুজনেই তো সকাল ধরেই প্যাসেন্ডের সাথেই আছে তাদের ছাড়া তো অন্য কেউই রুমে আসে নাই।(নার্স)

–কি বলেন আপনি!(আমি)

–হ্যা, আমি সকাল ধরেই তো এই দিকেই আছি,কোথাও যাই দি, এই দিকেই আমার কাজ,আর আমি তাদের ছাডা আর বার্তি কেউকেই দেখি নাই,কেন কোনো সমস্যা(নার্স)

–না এমনেই জিজ্ঞেসা করলাম,আচ্ছা আমাকে আর একটা কথা বলতে পারবেন,ভিতরে যে প্যাসেন্ড আছে তার বিল কি দেওয়া শেষ ও তার ওষুধ পত্র কিনা হইছে!(আমি)

–না বিল তো একোরেট হিসাব করে দেওয়া লাগবে, ডাক্তার যতোদিন হস্পিটালে থাকতে বলে ততদিনের হিসাব করেই বিল দেওয়া লাগবে আর ওষুধ পত্রের কথা জানি না,(নার্স)

–ওহ,আচ্ছা যদি কিছু মনে না করেন আপনার থেকে একটা সাহায্য চাই!(আমি)

–হ্যা বলেন(নার্স)

–না মানে, ভিতরে গিয়ে দেখেন তো ওষুধ পত্র কেন হইছে কিনা!আর যদি কেনা না হয়ে থাকে তাহলে প্যাসেন্টের বালিশের বাম পাশে মোবাইলের সাথে একটা প্রেস্ক্রিপশন পাবেন সেটা কষ্ট করে একটু এনে দিতে পারবেন!(আমি)

–আরে, আপনি জানি গিয়ে জেনেও আসুন সাথে তাদের সাথে দেখাও করে আসুন,তারা আপনাকে দেখতে চাইছে! (নার্স)

–না না, আমি ভিতরে যেতে পারবো না, প্লিজ আপনাকে যা বললাম তা করেন,তবে আমি যে এখানে উপস্থিত আছি বা আসছি তা উনাদের বলবেন না! (আমি)

–আরে আজব মানুষ তো আপনি!একটা মানুষের জীবন বাচালেন সেই মানুষটার পরিবার আপনাকে দেখতে চাইছে ধন্যবাদ দিতে চাইতেছে আর আপনিই কিনা তাদের সামনেই যেতে চাচ্ছেন না, এটা কেমন কথা!(নার্স)

–প্লিজ আপনাকে যা বললাম তা করেন,আমাকে ফোর্স করিয়েন না প্লিজ,আমি যেহুতু বলছি তাদের সামনে যেতে পারবো না মানে যাবো না,সো প্লিজ যে সাহায্যটুকু চাইছি তা একটু কষ্ট করে করেন (আমি)

–আচ্ছা ঠিক আছে!আমি যাচ্ছি ও দেখতেছি!(নার্স)

এরপর নার্স ভিতরে গেলো,আর আমিও মাস্ক পড়া অবস্থায় বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি,কিছুক্ষন পরেই সেই নার্সটা বাহিরে আসে!

–জি এই নিন প্রেস্ক্রিপন,না উনি আসার পর থেকেই সেখান থেকে নড়েও নি, আর ওষুধের কথা ডাক্তার বলছিলো প্রেস্ক্রিপন নাকি আপনার কাছে তাই তারাও আপনার আসার অপেক্ষায় ছিলো অথচ বালিশের পাশে যে প্রেস্ক্রিপশন তা খেয়ালই করে নি।(নার্স)

–ওহ,আচ্ছা আপনাকে আর একটু কষ্ট দিবো, যদি কিছু মনে না করেন এখানে একটু দাড়ান,আমি ওষুধ গুলো কিনে এনে আপনাকে দিচ্ছি আপনি তাদের ওষুধ গুলো দিয়ে দিয়েন!(আমি)

–আচ্ছা ঠিক আছে, আপনারা জান!আমি এখানেই আছি!(নার্স)

আমিও চলে গেলাম হস্পিটলের ফার্মেসিতে সেখানে গিয়ে ডাক্তার মামার জন্য যে যে ওষুধের নাম লিখে দিছে সেই গুলোই কিনে নিলাম,জানি এটা আমার পাগলামো কারন যেখানে মামা মামীরাই আমাদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছে সেখানে কিনা আমিই মামার এক্সিডেন্টের পর থেকেই তার পাশেই থাকছি,এর পিছনেও একটা কারন আছে।

এরপর ওষুধ গুলো নিয়ে নার্সের কাছে গেলাম।

–এই নিন,এই ওষুধ গুলো নিয়ে ভিতরে দিয়ে আসুন,আর পারলে কষ্ট করে একটু চেক করে যাইয়েন সেই লোকটাকে ঠিক মতো ওষুধ খাওনো হচ্ছে কিনা!(আমি)

–আচ্ছা ঠিক আছে! (নার্স)

এরপর নার্সকে ওষুধ ও প্রেস্ক্রিপশন দিয়ে দিলাম,আর সেও ভিতরে চলে যেতে লাগে তখনি থেমে যায়!

–আপনাকে একটা কথা বলতেই ভুলে গেছি,ডাক্তার সাহেবও আপনাকে খুজছিলো,ভিতরের মহিলাটা থেকে আপনার কথা জিজ্ঞেসা করে কিন্তু বলে তারা আসার পর কেউই দেখে নি,পরে বলে হয়তো কোথাও গেছে আসবে তাই তারাও অপেক্ষা করতে লাগে আপনার আসার জন্য,আর ডাক্তারও।(নার্স)

–আচ্ছা আপনি যান,ব্যাপারটা আমি দেখবো।

এরপর নার্স চলে যায়,আমি জানি ডাক্তার আমাকে কেন খুজবে, সে আমাকে মামা মামীদের সাথে দেখা করানোর জন্যই খুজবে কিন্তু আমি তো দেখা করবো না। তাদের সামনেই তো যেতে চাই না,আড়ালেই ঠিক আছি।

এরপর আর একবার উকি মেরে ভিতরে পরিবেশটা দেখলাম দেখেই হস্পিটাল থেকে বাহিরে চলে গেলাম,যাক মামা মোটামোটি ঠিক আছে মামীও আছে মামার জন্য।সাথে ফয়সাল আছে তবে একটা জিনিস আমাকে ভাবাচ্ছে মামা এক্সিডেন্ট করলো অথচ নাকি সাইমনই আসলো না বেপারটা বড়ই অদ্ভুত,নার্সতো বলছিলো সে নাকি মামাদের এই দিকেই কাজ করছিলো,মামার পাশেও তো রুম আছে হয়তো নার্স অন্য রুমে যেতেই সাইমন আসছিলো আর কিছুর জন্য হয়তো বাহিরে গেছে সে।যাই হোক,মামার দিক দিয়ে মোটামোটি ভালোই আছে এবার চিন্তা করতেছি রিদিকাকেও কল দিয়ে আম্মু আব্বুর খোজ খবর নি!তাই আমিও বাড়িতে চলে যাই,সেখানে গিয়েই রিদিকাকে কল দিলাম!

–হ্যালো আসসালামুয়ালাইকুম,রিদিকা ম্যাডাম কি খবর??(আমি)

–ওয়ালাইকুমসালাম এই তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি,বাহ বাহ কেমনে কেমনে কল দিলা!(রিদিকা)

–এই তো দিলাম আর কি একটু ফ্রি হলাম তাই সবারই খবর নিচ্ছি তাই তোমাকেও কল দিলাম!কেমন আছো!(আমি)

–এই তো আছি আর কি কোনো রকম, তুমি কেমন আছো!(রিদিকা)

–এই তো আছি,নাস্তা করা হইছে সবার,আব্বু কেমন আছে, আর আম্মু কি করে!(আমি)

–আংকেল এখন ভালোই আছে আর আন্টির সাথে গল্প করতেছিলাম পরে তোমার কল দেখে সাইডে আসলাম,তুমি কি করো নাস্তা করছো!(রিদিকা)

–হ্যা নাস্তা করছি,একটু বাহিরে গেছিলাম এরপর বাসায় আসলাম!(আমি)

— ঐদিকের কি অবস্থা!কোনো কিছু করতে পারছো? (রিদিকা)

–হ্যা হইছে!সেটা বলে লাভ নাই,তবে যেটা করছি সেটা সফল হলেই বাড়িটা খুব সুন্দর করেই পেয়ে যাবো!(আমি)

–হুম,আমি চাই তাড়াতাড়ি সবই ঠিক হয়ে যাক,(রিদিকা)

–আমিও তো সেটাই চাই,যাই হোক আমি রাখি পরে কথা হবে নিজের খেয়াল রাখিও আর আম্মু আব্বুর দিকে একটু নজর রাখিও(আমি)

–হুম,তুমিও নিজের খেয়াল রাখিও,……খোদাহাফেজ(রিদিকা)

–খোদাহাফেজ(আমি)

এরপর কল কেটে দিলাম,রিদিকা কিছু একটা বলতে চাইছিলো কিন্তু না বলেই থেমে যায়,যাই হোক মোটামোটি ভালো ফিল করতেছি এখন,আস্তে আস্তে সবই ঠিক হয়ে আসতেছে।আমিও চাই সব ঠিক হয়ে যাক,এরপর তাদের হক বুঝিয়ে দিয়ে আমিও আমার রাস্তায় চলে যাবো।

এরপর অন্যান্ন দিনের মতো ২টা দিন শেষ হয়ে যায়।

দুপুর বেলা আমি বাসায় আছি,কিন্তু মাথায় এক ভাবে চিন্তা কাজ করতেছে কারন ২দিন হয়ে গেলো,মাওয়া ও নেহাকে কাজ দিলাম,অথচ তাদের কোনো খোজই নেই,আমার কাছেও সময় প্রায় শেষের দিকে,কিন্তু তারা না আমাকে কল দিচ্ছে না তাদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে, নাকি তাদের উপর ভরশা করাটাই ঠিক হলো না আমার।এরই মধ্যে তানভির রূদয় কলেজ থেকে আসে!

রূদয় ক্লান্ত অনুভূতি নিয়ে ডাইরেক্ট সোফায় বসে পড়ে।

–ভাইরে ভাই,এই নাজমুল স্যার এতো প্যারাটা দেয় কেমনে রে ভাই,নিশ্চই তারে তার বউ বাসায় ঝাড়ি দেয় তাই আমাদের উপর তার রাগ সারায়!(রূদয়)

–কেন হইছেরে!(আমি)

–আর বলিস না সামান্য একটু এসাইমেন্ট ভুল হইছে সে আমারে ডাইরেক্ট ওয়াজ শুনাই দিছে সাথে আবার করতে দিছে (রূদয়)

–বাদ দে,নাজমুল স্যার এমনই বউয়ের আদর পায় না তাই বেচারা কষ্টে আছে, এমনেও কি কম জালানি দিছি নাকি তারে!(আমি)

–হারামি তোর সেই জিনিসটা আমার আজীবন মনে থাকবো,কি সুন্দরে ফেইক একাউন্ট দিয়ে বেচারা কাটছোস তুই,ভাইসাব তুই একট জিনিস বেটা,যেটারে আমরা সবাই ভয় পাই তারেই মারা খাওয়াই দিলি!(রূদয়)

–ঠিকিতো,২ বাচ্চার বাপ হওয়ার পরেও কেমনে সে অপরিচিত কোনো মেয়ের সাথে টাংকি মারে,(আমি)

–হারামি ভাগ্যিস স্যার আসল রহস্যটা জানে না যে ঐটা তোর ফেইক একাউন্টছিলো নাহলে কপালে দুঃখ আছিলো!(তানভির)

–ব্রো এটা আমি,আমার ফেইক একাউন্ট ধরার মতো কোনো প্রক্রিয়াই তার জানা নাই,তোরা ধরেই ফেলবি কারন তোরা আমার মোটামোটি বহুত কিছুই জানিস,(আমি)

–সালা,এতো ফাইজলামি করিস কিভাবে তুই!(তানভির)

–বাদ দে,যআ ফ্রেস হয়ে আয়,খাবার রেডি করে রাখছি,(আমি)

এরপর তারাও ফ্রেস হয়ে আসলো তারপর একসাথে খাওয়া দাওয়া করে রেষ্ট নিলাম,

সন্ধ্যা বেলা

নাস্তা শেষ করে সোফায় বসে আছি, ভাবতে লাগলাম আমার ফিরে যাওয়ার সময় প্রায় হয়েই আসছে, কিন্তু যাদের কাজ দিলাম তাদেরই কোনো খোজ নেই!তারা কি তাদের কাজটা ভুলে গেছে নাকি অন্য কোনো সমস্যায় পড়লো তারা।এই দিকে আমার সময় তো ঘনিয়ে আসছে,বিষয়টা সত্যি আমাকে ভাবাচ্ছে।

চলবে…………..
ভুলক্রুটি হলে ক্ষমা করবেন।আর লাইক ও গল্প ভিত্তিক কমেন্ট করে পাশে থাকুন।নাইস নেক্সট বলা থেকে বিরত থাকুন।বিনা অনুমতিতে কপি করা নিষেধ।সেয়ার করুন আর পরর্বতি পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন।

Digiqole Ad

Related post

Leave a Reply

Your email address will not be published.