এলোকেশী কন্যা পর্ব ;- ২৪

0
359

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব ;- ২৪
লেখা :- Nurzahan akter allo
.
.
.
-; মেঘের কথা শুনে আবির বললো,মেঘ গাড়ি বাড়ি যা চাও দিয়ে দিবো ভাই,তাও আমাদের বউ এর ভাগ দিবো না,এভাবে বউএর ভাগ চাস না ভাই আমার।আবিরের কথা শুনে সবাই হেসে দিল।
আলো একটা বড় প্লেট নিয়ে,খাবার বেড়ে আবৃতির হাতে ধরিয়ে আবিরকে ইশারা করে খাইয়ে দিতে বললো,আর আলো নিজে একটা প্লেট নিয়ে খাবার বেড়ে আগে মেঘের মুখের দিয়ে তারপর রোদের মুখে দিল।
রোদ খাবার টা এমনভাবে নিল রোদের ঠোঁট আলোর হাতে বার বার ছোয়া লাগে,আবৃতি আবিরকে খাওয়ে দিল আবির আবৃতির হাতে হালকা করে কামড় দিল।

আবৃতি রোদকে সামনে দেখে কিছু বলতে পারছে না,একবার রাগি চোখে আবিরের দিকে তাকায়।রোদ আর আবির ওরা যে ওদের বউকে কি করে অত্যাচার করছে,সেটা আলো আর আবৃতি বুঝতে পারছে,আর রোদ তো আলোর সাথে পা লাগিয়ে সুড়সুড়ি দিচ্ছে, আলো এমন একটা ভাব করছে যেন কিছুই হয় নি।
কোন রকম দাঁতে দাঁত চেপে দাড়িয়ে আর ওদের খাইয়ে দিচ্ছে,খাওয়া শেষ করে আলো আর আবৃতি সব কাজ গুছিয়ে নিয়ে সবাই এক সাথে আড্ডা দিতে বসলো।
সবাই মিলে ঠিক করলো কোথাও বাইরে ঘুরতে যাবে,আপাতত আর কিছু সময় আড্ডা দিয়ে সবাই রেস্ট নিতে গেল।

আলো রুমে ঢোকার আগে রোদ ঢুকে আলো কে ধরে রুমের দরজা আটকে দিল।আলো রোদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে,রোদ ঠোটের কোণে দুষ্টু হাসি,আলো পেছাতে থাকে আর রোদ এগোতে থাকে,রোদ বলে এই মেয়ে তোমাকে শাড়ি পড়তে বললাম পড়লে না কেন?আমার কথা তুমি শুনতে পাও নি,আচ্ছা কোন সমস্যা নেই আমি আছি কি করতে?আমি তোমাকে পড়িয়ে দিবো,,।
রোদ আলোর মুখ তুলে বলে,এই তুমি এত লজ্জা পাও কেন? তুমি কি জানো না তোমার লজ্জা রাঙা মুখ আমাকে কতটা তোমার দিকে আকৃষ্ট করে।আলো রোদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে বলে,,

আলোঃআজ যখন ঘুরতে বের হবো তখন শাড়ি পড়বো,আসলে সবাই কে খেতে দেওয়া,কাজ ঘুছিয়ে নেওয়া শাড়ি পড়ে করাটা আমার জন্য কষ্টকর হয়ে যেত,আমি তো আপনার কথা রাখবো, আপনি বলছেন আর আমি সেটা না রেখে পারি বলেন?এই বুদ্ধুটা দেখছি কিছু বোঝে না।

রোদঃওকে মেনে নিলাম ম্যম,তবে শাড়ি এমন ভাবে পড়বেন যেন কোথাও কিছু দেখা না যাই।মনে থাকে যেন,,,

বিকালবেলা সবাই বের হলো,আলো অরেঞ্জ কালারের একটা শাড়ি পড়ছে,রোদ রা সবাই রেডি হয়ে আসলো,রোদ একবার আলোর দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপ দিল।আর রোদ পড়ছে সাদা শাট,,আর নেভি ব্লু কালারে জিন্স,আর আমাদের জুনিয়র নায়ক পড়ছে,,,নীল শাট আর কালো জিন্স,,,,,,.
সবাই বের হয়ে গেল,যেতে যেতে সবাই অনেক মজা করলো,মেঘকে নিয়ে, একসময় মেঘ পাশের রাস্তা দিয়ে ট্রেন যেতে দেখলো,আর রোদ কে বললো,,,

মেঘঃদাভাই আমি ট্রেনে উঠবো,পিলিজ দাভাই চলো না।আমি এখুনি আমাকে ট্রেনে উঠাবে,,,,,, পিলিজ

রোদঃমেঘ আমি তোমাকে পরে ট্রেন দেখিয়ে আনবো,এখন আমরা অনেক সুন্দর একটা জায়গাতে নিয়ে যাবো কেমন, মেঘ তুমি তো গুড বয়,আর এখন রেলওয়ে Station,,,, তো অনেক ভিড় হবে।

আলোঃও যখন দেখতে চাইছে একবার, পাঁচ মিনিটের জন্য দেখিয়ে আনলে কি হবে?মেঘ যা বলবে তাই হবে,,,।আপনি নিয়ে যাবেন মানে এখুনি নিয়ে যাবেন, আমার মেঘবাবু যা বলবে তাই,,হবে।

মেঘঃবউমনি সত্যি তুমি অনেক ভাল,আমি তোমাকে এত গুলো ভালবাসি বউমনি।আর বেশি ভালবাসি আমার হয়ে দাভাইকে বকা দেওয়ার জন্য,,,, 😂😂

মেঘের কথা শুনে সবাই হেসে দিল।রোদ নিজে ড্রাইভ করছে আর পাশে আলো বসে আছে,আর আলোর কোলে মেঘ।রোদ আলোকে আড় চোখে দেখছে,রোদ এবার মেঘ ট্রেন দেখানোর জন্য সত্যি Station গেল।সবাই গাড়ি থেকে নেমে ওয়েটিং সিটে বসলো,কারন এখন খুব ভিড়।সবাই বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ মেঘ রোদকে হাত দিয়ে কি যেন জিনিস দেখিয়ে বললো,,,

মেঘঃদাভাই দেখ দেখ ওই আংকেল টা কি করছে??

রোদঃকোন আংকেল, আমাকে ভাল করে দেখিয়ে বল কোন আংকেল।

মেঘের কথা শুনে সবাই ওদিকেই তাকালে,এবার সবাই হা করে ওইদিকে তাকিয়ে থাকলো।আসলে হয়েছে কি????

একটা পকেট মার একটা মেয়ের পাশ ঘেসে দাড়িয়ে মেয়েটার ব্যাগের চেন খোলার চেষ্টা করছে,তবে চোর টা উল্টো দিকে ঘুরে চেন খুলতে চাইছে,যাতে কোন রকম ভাবে সহজে ধরা না খায়,কিন্ত কোন এক কারনে চোর টা ভুল করে পাশে দাড়ানো একটা লোকের প্যান্টের চেনে হাত দিয়ে মনে করছে,ওই মেয়েটার ব্যাগের চেন।
চোর এবার পাশের লোকটার চেন খুলে হাত ঢুকাতেই,,,বুঝলে পারলো যে উনি কিছু ভুল করে ফেলছে,আর পাশে দাড়ানো লোকটিও বুঝতে পারলো ওনার সাথে কিছু একটা হচ্ছে,,,, লোকটি হা করে তাকিয়ে আছে চোরে দিকে,এবার চোর একবার চার পাশটা দিকে তাকিয়ে দৌড়।🏃🏃🏃🏃

এসব কাহিনী দেখে আলো আর আবৃতি মেঘ আবির ওদের হাসি দেখে কে?রোদ ওদের হাসি দেখে নিজেও হেসে দিল।আলো আর আবৃতি হাসতে হাসতে নিচেই বসে পড়লো।সবাই ওদের দিকে তাকিয়ে আছে,কিন্ত কেউ ওদের হাসির কারন বুঝতে না পেরে ওদের কে অবাক হয়ে দেখছে,,,,আর কিছু সময় ওখানে মেঘকে ট্রেন দেখিয়ে তারপর আবার ওরা গাড়িতে গিয়ে বসলো।

আলো মেঘের গাল টেনে বললো,আজ আমার মেঘুর জন্য কত মজার একটা জিনিস দেখলাম।একটা বলে আবার সবাই একদফা হেসে নিল।
তাপর ওরা একটা লেকে পাড়ে গিয়ে,গাড়িটা থামালে চারাশে গাছ পালা আর সবুজ আর সবুজ,,,মন কেড়ে নেওয়ার মত একটা জায়গা।আলো দৌড়ে ওখানে মাঠের মাঝখানে দাড়িয়ে দুই হাত মেলে দিয়ে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিচেছ,,,।
এবার সবাই আলো কাছে এগিয়ে গিয়ে দাড়ালো,আলো এখনো চোখ বন্ধ করে দুই হাত মেলে দাড়িয়ে আছে,রোদ আলোর পাশে গিয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে,আবির আবৃতি,মেঘকে নিয়ে অন্য দিকে কেটে পড়ছে,কারন ওদের এখন একটু আলাদা করে সময় দেওয়া উচিত।

আলো যে এখন কতটা খুশি ওর ফেস দেখে বোঝা যাচ্ছে, হয়তো বন্ধী পাখিরা ছাড়া পেলে এতটা খুশি হয় আলো পাহাড়ি এলাকার মেয়ে, ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে বড় হয়েছে,তাই এখন ঘর বন্ধী থাকতে খারাপ লাগছে,রোদ খেয়াল করলো আলো চোখের কোণা বেয়ে পানি পড়ছে,,রোদ কিছু না বলে আলোর চোখের পানি শুষে নিল।আলো চমকে উঠে পাশে না তাকাতেই বললো,আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাকে এখানে আনার জন্য,,,। রোদ আলোকে ওর দিকে ঘুরিয়ে চোখের পাতায় কিস করলো,,।
আর বললো,তুমি কি করে বুঝলে আমি??,,,, আলো হেসে বললো,আপনার উপস্থিতি আমি বুঝতে পারি,আপনার শরীর গন্ধ টা আমার খুব চেনা।এজন্য আমার চিনতে সমস্যা হয় না, বুঝবেন রোদ বাবু,,,,বলেই দুজনে হেসে দিল,,
তারপর আর কিছু কথা বলে সবাই মিলে জায়গাটা ঘুরে দেখলো।

আজ আলো মনে হচ্ছে খুব সুখি একটা মেয়ে, আজ কতটা খুশি সেটা ওর হাসি বলে দিচ্ছে।অনেকটা সময় ঘুরে দেখার পর পাশের একটা রেষ্টুরেন্টে গেল,মেঘ ঘুরে ঘুরে সব দেখছিলো, মেঘ বলে দাভাই আমি আসছি।রোদ সাথে আসতে চায়ছিলো বাট মেঘ আসতে দেয় নি।মেঘ ঘুরে ঘুরে একটা ওয়াশরুম খুজে ওটাতে ঢুকে পড়লো,,।

রোদ কিছু খাবার অডার করে, আর সবাই গল্পতে মেতে উঠে। রোদের পাশে আলো বসেছে,রোদ আলোর একহাত নিজের হাতের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বসে আছে,আর এমন ভাবে বসে আছে মনে হচ্ছে ওর মত ভদ্র ছেলে আর কোথায় পাওয়া যাবে না,হঠাৎ করে মেঘ চিৎকার করে কাকে কি যেন বলছে দেখে,,,,,,,🙄🙄
সবাই দৌড়ে ওয়াশরুমের কাছে গেল।মেঘ একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করছে,,।
রোদ রা কেউ ঝগড়া করার কারণ খুজে না পেয়ে,রোদ,মেঘকে একটা ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেই,আর কারন জানতে চায় যে মেঘ কি করছে যার কারনে মেয়েটা এভাবে কথা শোনাচ্ছে,
আলো রোদকে সরিয়ে মেঘের পাশে দাড়িয়ে বললো,,,,,

আলোঃকি হয়েছে মেঘ?তুমি কি করছে বলো তো আমাকে?তোমাকে বকা দিচ্ছে কেন উনি??

এবার মেঘ যা বললো তা শুনে রোদ মেঘের কান টেনে ধরলো,,,,😫😫😫😫😫
চলুন দেখি মেঘ কি বললো??

মেঘঃবউমনি আসলে আমার খুব হিসি লাগছিলো,আর খুব চাপ থাকার কারনে আমি ভুলে মেয়েদের ওয়াশরুমে ঢুকে গেছি।আর এই ডাইনি মেয়ে আমাকে তখন থেকে বকা দিচ্ছে,,
আমি সরি বলছি তাও দেখ কেমন করে আমাকে বকা দিচ্ছে।
আলো রোদের হাত থেকে মেঘের কান ছাড়িয়ে মেয়েটার সামনে দাড়িয়ে বললো,

আলোঃআপু এভাবে একটা বাচ্চা ছেলের সাথে কথা না বলে বুঝিয়ে বললে কি হতো?একটা বাচ্চার সাথে কি করে কথা বলতে হয় তাও তো জানেন না?
আবার জোর গলায় কথা বলছেন,ও একটা বাচ্চা এমন তো না যে আপনি ওয়াশরুমের ভেতর থাকা অবস্থায় ঢুকে গেছে,,তাহলে এভাবে কথা বলছেন কেন?আর সব থেকে বড় কথা মেঘ তো সরি বলছে,,তারপরেও কেন আপনি ওকে বকা দিচ্ছেন???? আগে নিজে ভাল ব্যবহার শিখুন তারপর অন্য কে উপদেশ দিতে আসবেন।

একথা বলে মেঘের হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিল।
আলো রোদ দিকে তাকিয়ে বললো,,,
.
.
.
চলবে………………♥
.
(আজকে পাট টা লিখতে গিয়ে আমি নিজেই হেসে ফেলছি,জানিনা আপনাদের কেমন লাগবে? আর হ্যাঁ যাদের খারাপ লাগবে তারা ইগনোর করুন প্লিজ)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here