এলোকেশী কন্যা পর্ব :- ২৫ এবং ২৬

0
308

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব :- ২৫ এবং ২৬
লেখা :- Nurzahan akter allo



-: আলোর রোদের দিকে তাকিয়ে বললো,আচ্ছা আপনি সব সময় মেঘের কান টেনে ধরেন কেন শুনি?আপনাকে কেউ এরকম করলে আপনি বুঝবেন কান টানলে কেমন লাগে,ও তো বাচ্চা একটা ভুল হতেই পারে তাই বলে এতগুলো মানুষের সামনে কান ধরে টানবেন।মেঘ ফট করে বললো,,,,

মেঘঃবউ মনি তুমি ঠিক বলছো,দাভাই যেভাবে আমার কান টেনে ধরে, দেখবে একদিন আমার একটা কান বড় হয়ে যাবে,তখন কেউ আর আমাকে বিয়ে করতে চায়বে না।তখন একবার ভেবে দেখছো, আমার মত এত কিউট একটা ছেলের কি হবে?আমি ভাবলেই আমার কান্না পাচ্ছে। তুমিও দাভাইয়ের কান টেনে দাও😒😒।

মেঘের কথা শুনে সবাই হেসে দিল,ওরা খেয়ে তারপর বেরিয়ে গেল।অনেক রাত হয়ে যাওয়াতে আবিরদের বাসায় পৌছে দিয়ে,ওরা ওদের বাসায় ফিরলো,রোদ গাড়ি পাক করে এসে দেখে আলো আর রোদ এখনো দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে,রোদ খেয়াল করলো মেঘ আর আলোর মুখে দুষ্টু হাসি,এরা যে আমার কোন ঘোট পাকিয়েছে রোদের বুঝতে বাকি নেয়,রোদ ওদের সামনে গিয়ে বললো,,,,,,,,,

রোদঃতোমরা দাড়িয়ে আছো কেন?বাসায় চলো আজ অনেক ঘুরাঘুরি করছো এবার রেস্ট নাও,,,।

আলোঃ এই হুঁকোমুখো আমি না সিড়ি বেয়ে উপরে যেতে কষ্ট হচ্ছে, আমার খুব মাথা ঘুরাচ্ছে, মনে হচ্ছে আমি এখুনি পড়ে যাবো।,,,,,

মেঘঃআহ আমারও খুব মাথা ব্যাথা করছে,উরে বাবা মরে গেলাম, (মাথা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরে)

রোদঃদুজন তো ঠিকই ছিলে এখন হুট করে তোমাদের আবার কি হলো?মাথায় তোমাদের কি দুষ্টু বুদ্ধি ঘুরছে,সেটা বলো আর এখন আমাকে কি করতে হবে সেটাও বলে দাও??আর আলো সিড়ি বেয়ে তোমার উঠতে হবে না,লিফটে যাবে,,,,নাও চলো।

আলোও আর মেঘ ধপ করে ওখানে বসে পড়লো।রোদে এবার ওদের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে,রোদ চিৎকার করে বলছে সমস্যা কি তোমাদের?আমাকে না বললে আমি বুঝবো কি করে বলো তো?মেঘ ভয়ে ভয়ে রোদের দিকে তাকিয়ে,,

মেঘঃদাভাই তোমার তো জিম করা বডি,আমাদের তুমি কোলে করে নিয়ে চল।আমার যেতে ইচ্ছে করছে না।বউমনিরও যেতে ইচ্ছে করছে না,আমি বউমনির কোলে উঠি আর বউমনি তোমার কোলে উঠুক।কত মজা হবে বলো তো?ও দাভাই নাও না কোলে আমাদের,,,

রোদ কিছু বলার আগের মেঘ আলোর কোলে ঝাপিয়ে পড়লো,আর আলো রোদের দিকে তাকিয়ে আছে,রোদের আর কি বলা রোদও এবার আলোকে রোদে নিয়ে হাটা শুরু করলো,লিফটের সামনে গিয়ে রোদ দাড়ালো,একদিকে রোদের কোলে ওঠেও ওদের গল্প থামে নি,ওরা ওদের মত বকবক করেই যাচ্ছে,,,

রোদঃকেউ কি লিফটের বোতাম চাপ দিবে,নাকি এভাবে দাড়িয়ে থাকবো,,😡

মেঘঃবউমনি তুমি চাপ দাও আমার হাত বের করতে কষ্ট হচ্ছে,,,

আলোঃমেঘ আমি তো তোমাকে ধরে আছি,আমি হাত বের করলে তো, তুমি ঠাস করে পড়ে যাবে।

রোদঃতাহলে তোমাদের আমি ঠাস করে ফেলে দেই,তারপর আমি বোতাম চাপ দেই,,,।

মেঘঃবউমনি,,,ইংকা টিংকা গাছের পাতা,চোরটি এবার পড়বে ধরা,চোরের মাথা টাকলা, বউমনি তুমি ফোকলা
(আলোর আর মেঘ হাত দিয়ে এভাবে টস করছে যে চোর হবে সে বোতাম চাপবে তাই)😂😂।

রোদ চিৎকার করে বললো,আমি তোমাদের নিয়ে এভাবেই দাড়িয়ে থাকবো নাকি,,,,আর হাত ব্যাথা হয়ে গেছে,,আমি তোমাদের ফেলে দেই,তোমরা তোমাদের হাসি ঠাট্টা শেষ করে রুমে যেও,,,।😡😡
এবার মেঘ রোদের দিকে তাকায় দেখে রোদ ওদের দিকে তাকিয়ে আছে,মেঘ এবার বোতাম চাপ দিলো,,,রোদ ওদের উপরে নিয়ে গিয়ে সোফার উপর ঠাস করে ফেলে দিলো,এতটুকু সময় রোদ ঘেমে একাকার অবস্থা ওদের দিকে একবার তাকিয়ে নিজের রুমে চলে যাচ্ছিল কিন্ত ওদের হাসির আওয়াজ শুনে দাড়িয়ে গেল।মেঘ আলোকে বলছে,,

মেঘঃবউমনি আজ দাভাইকে উচিত শিক্ষা দিয়েছো,বেশ করছো আমাকে বার বার এভাবে কানে ব্যাথা দেয়,,,😂😂

আলোঃএজন্যই তো বুদ্ধি করে এরকম টা করলাম,এবার রোদ বাবু বুঝবে,,,, 😂😂😂

রোদের এতক্ষণ ওদের কথা শুনে আর কিছু না বলে ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির হাসি নিয়ে চলে গেল,মেঘও ও রুমে গিয়ে ঠাস করে বিছানায় শুয়ে গেম খেলা শুরু করলে,,,আলোর ওর রুমে গিয়ে শাড়ি টা change করার জন্য, শাড়িটা হাফ খুলে ফেলছে হুট করে পাশের দেওয়ালে চোখ গেল দেখছে রোদ পকেটে একহাত ঢুকিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে,মুখে সেই কিলার হাসি।আলো রোদকে দেখে শাড়িটা নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে গেট খুলে দৌড় দেওয়ার আগে, রোদের আলোর হাত ধরে পাশের দেওয়ালে সাথে চেপে ধরে,আলো রোদের দিকে তাকিয়ে,,

আলোঃএভাবে চেপে ধরছেন কেন?আমি ব্যাথা পাচ্ছি তো আর আপনি ফ্রেস না হয়ে আমার রুমে কি করছেন?আর আমি এখন ফ্রেস হয়ে আসি উফফ ছাড়ুন না।রোদ আলোর দিকে একবার তাকিয়ে হুট করে একটা কামড় বসিয়ে দিয়ে চলে গেল।এমন ভাবে গেল মনে হচ্ছে কিছুই হয়নি,আলো এখনো রোদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,তারপর রোদের কামড় দেওয়া জায়গাতে হাত দিয়ে,,,একটা লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

রোদ মেঘের রুমে উকি দিয়ে দেখলো,মেঘ এখনো ওই জামাকাপড় পড়ে আছে,বিছানার মাঝখানে শুয়ে দুই পা নিচে ঝুলছে,রোদ গিয়ে ওকে টেনে তুলে হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে ওকে ওয়াশরুমে পাঠালো,,,মেঘের বিছানা ঠিক করে দিল,মেঘ হাতে ব্রাশ নিয়ে দরজার কাছে হেলান দিয়ে রোদ কে বললো, বলো তো দাভাই কাদের লজ্জা নেই,,না মানে কারা জামাকাপড় না পড়লেও লজ্জা পায় না।রোদ একবার মেঘের দিকে তাকিয়ে বললো,অহেতুক বকবক করা ঠিক না মেঘ,আর পড়াশোনা বাদে যত রাজ্যের চিন্তা করতে তোকে কে বলছে??তারাতারি মুখ ধুয়ে এসে শুয়ে পড়বে,অনেক রাত হয়ে গেছে,,,।

মেঘঃও দাভাই বলো না দেখি তোমার কেমন বুদ্ধি,,

রোদঃআমি জানি না তুই বলে ফেল,আর উওর বলে আমার কানকে ধন্য কর😡😡।

মেঘঃআরে দাভাই পারলে না,কুকুর আর বিড়ালমানে প্রানীরা দেখো না,ওরা কেমন কিছু না পড়ে ঘুরে বেড়ায়,ওরাই কত ভাল গরমে ওদের কষ্ট পেতে হয় না,,,,,,

রোদঃতুই তোর জামাকাপড় গুলো ওদের পড়িয়ে দে,আর আমি ঘুমাতে গেলাম

রোদ চলে গেল,এককাপ কফি নিয়ে অফিসের কাজ করতে বসলো,খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করছিলো নূপুরের শব্দে চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে আলো দাড়িয়ে আছে,,,।

রোদঃকি ব্যাপার ম্যম আপনি আমার রুমে,তাও আবার এত রাতে,,, কিছু বলবেন,,,

আলোঃআসলে আমি একা একা চুলে তেল দিতে পারছি না আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন পিলিজ।

রোদঃএভাবে বলতে হবে না,এর আগে দেইনি তো কারো খুব একটা ভাল হবে না,তবে আমি আমার বেষ্ট টা দিয়ে চেষ্টা করবো কেমন,,,দাও এদিকে এগিয়ে এসো,,,

আলো রোদ কাছে এসে মেঝে তে বসলো,রোদ লেপটপ সরিয়ে, হালকা করে তেল দেওয়া শুরু করলো,আলোর চুল গুলো এত আলতো করে ধরছে যে, মনে হচ্ছে সদ্য জন্ম নেওয়া কোন বাচ্চা,,,, আলো রোদের দিকে তাকিয়ে বললো,,

আলোঃআমি ব্যাথা পাচ্ছি না, আপনি আপনার মত করে দিয়ে দেন।

রোদঃআমি ভাবছি তুমি ব্যাথা পাচ্ছো তাই,,,

এভাবে রোদ আলোর চুলে তেল দেওয়া শুরু করলো,রোদ মাথা ঘুরিয়ে রোদের দিকে তাকিয়ে বললো,আমার খুব ঘুম পাচ্ছে, কে বললো আমি তেল দিতে পারেন না।
আলোর কথা শুনে রোদ হেসে দিল,বড় চুল হওয়ার জন্য রোদও হাঁপিয়ে গেছে,আলো রোদকে দেখিয়ে দিচ্ছে আর রোদ সেরকম ভাবে দিচ্ছে। রোদ বকবক করতে আছে আর আলো হ্যা না উওর দিচ্ছে। একসময় আলো ওভাবে বসেই ঘুমিয়ে পড়ছে।
রোদ পড়ছে সমস্যায় না পারছে বাধতে আর না পারছে খুলে রাখতে,খুলে রাখতে এলোমেলো হয় যাবে,কোন রকম একটা রাবার দিয়ে আটকে আলোকে কোলে নিয়ে ওর বিছানাতে শুইয়ে দিল।
রোদ হাত ধুয়ে এসে ওর বিছানায় আলো পাশে শুয়ে আলোকে ওর বুকের সাথে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়লো,,,

পরের দিন সকালে মেঘকে ওর স্কুলের সামনে নামিয়ে দিয়ে, রোদ অফিসে চলে গেল।মেঘ ওর ক্লাসে গিয়ে অন্য জনের ব্যাগ দিয়ে বসার জায়গা টা মুছে ওর ব্যাগ রেখে বসে পড়লো,কিছুক্ষন পর টিচার এসে রোল ডাকা শুরু করলো,মেঘের রোল ৩৫ এজন্য ওর এদিক ওদিকে তাকিয়ে পিংকি কে খুজছে,,একসময় মেঘের রোল ডাকার পর তিনবারের বেলায় জি ম্যম করে চিৎকার করে উঠলো,,,,

টিচারঃএই ছেলে তোমার মন কোথায় থাকে??এটা কি গল্প করার জায়গা নাকি যে তুমি গল্প করছো??কি হলো কোন কথা বলছো না কেন???😡😡😡

মেঘঃআমার মন পিংকির কাছে ছিল,আমি ওকেই দেখছিলাম।ওর পেন্সিল কাটার টা আমার খুব পছন্দ আমি চেয়েছি কিন্ত পিংকি দেই নি,এজন্য ভাবছিলাম ওর কাটার টা কি করে গাযেব করা যাই,,,😒😒

টিচারঃবেয়াদব ছেলে,,তারাতারি সামনে এসে কান ধরে দাড়াও,এখুনি তারাতারি এসো,,,,,আমার সাথে তুমি ফাজলামি করছো,,,,

মেঘ ম্যম এর দিকে তাকিয়ে বললো,ম্যম আমার দাভাই আমার কানের উপর খুব অত্যাচার করে,আপনি পিলিজ কান ধরতে বলবেন না।আমি এমনিতেই দাড়িয়ে দাড়িয়ে আপনার পড়ানো টা দেখি কেমন,,,,।এবার ম্যম রেগে গিয়ে ওকে ওভাবেই দাড়িয়ে থাকতে বললো,,
কোন উপায় না পেয়ে মেঘ দরজার সামনে গিয়ে একপা তুলে কান ধরে দাড়িয়ে থাকলো,,,,আর পিংকির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলছে,,

পিংকি তোমার টিফিন টা কি করে খেতে পারো??? আমিও দেখতে চায়।আজ তোমার জন্য আমাকে কান ধরে দাড়াতে হয়েছে,ইসস পরীর সামনে কি লজ্জা টাই না লাগছে আমার।আমিও তোমাকে ছেড়ে দিবো না মনে রেখ,,😡😡আমি তোমার কাটার,টিফিন গাযেব করেই ছাড়বো,,,এখন পরী কি আমার সাথে আর কথা বলবে,,,😭😭😭।
সব হয়েছে তোমার জন্য,,,


পর্ব :- ২৬


-: মেঘ বাসায় ফিরে গেল,আলোর ওর রুমে বসে নিজের পড়া রেডি করছিলো।মেঘ এসে ফ্রেশ হয়ে ওর রুমে চলে গেল।আলো এসে ওকে খাইয়ে দিল,আলোর দুপুরের রান্না করে সাওয়ার নিয়ে ছাদের গেল কাপড় দিতে।
এসে রোদকে ফোন করলো, রোদ বাসায় এসে সবাই এক সাথে লাঞ্চ করে নিল।রোদ আবার অফিসে চলে গেল,আলো মেঘের রুমে গিয়ে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেল।
বিকাল বেলা ওরা ঘুম থেকে উঠে বাগানে গেল হাঁটতে, মেঘ রকিকেও নিয়ে গেল ওরা খুব মজা করছে,কিন্ত আজ আলোর মন ভাল নেই, কেন জানি বুকের মধ্যে খচখচ করে করছে,নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না।
আলো মনে মনে ভাবছে,আমার জীবনটা এরকম কেন?আমার বাবা নেই কেন?আমি মায়ের আদর পাইনি কেন?এসব ভাবছে আর একমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে,আর মেঘ বসে বসে বাগানের গোলাপ ছিড়ে রকির বড় বড় পশমের সাথে আটকে দিচ্ছে আর সেই হাসি।
রকিও তাতে খুব মজা পাচ্ছে সেটা রকির লাফানো দেখেই বোঝা যাচ্ছে, রোদ গাড়ি নিয়ে গেটে দিয়ে ঢুকলো,মেঘকে বাগানে দেখে বাগানের দিকে এগিয়ে গেল।
আলোর পাশে দিয়ে দাঁড়াতে,,,

আলোঃচুপি চুপি আসলেন কেন?আমি আপনার উপস্থিতি টের পায় রোদ বাবু।

কারন আপনি আমার আশে পাশে থাকলে আমার হাটবিট বেড়ে যাই, আমি আপনাকে ফিল করতে পারি।
তাই আমার থেকে নিজেকে লুকাতে যাবেন না,,,

রোদঃতা আমার এলোকেশীর মনটা এত খারাপ কেন?আমার এলোকেশীর মন খারাপে কারণটা কি জানতে পারি?আমার বউটার মন খারাপ থাকলে,আমি যে ভাল থাকতে পারি না।একবার কি আমাকে বলা যাই না,,,,

আলোঃআসলে সেরকম কিছু না,আজ কেন জানি মনটা খুব খারাপ লাগছে??কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না,,,,

একথা বলে আলো চলে যেতে লাগলে,রোদ আলোর হাত ধরে আটকায়,,,আলো পেছন ফিরে রোদের দিকে তাকায়।এই এলোকেশী দেখ খালি পায়ে ঘাসের উপর আমার সাথে হাটবে,রোদ সু আর মোজা খুলে প্যান্ট কিছুটা উপরে তুলে আলোর হাত ধরে হাটা শুরু করলো,রোদ আলোকে বাগানের প্রতি ফুলের গাছ থেকে শুরু করে কি কি গাছ আছে সেগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে,,, মেঘ দৌড়ে এসে রোদকে ধরতে গিয়ে,আচমকা এরকম করাতে নিজেকে সামলাতে না পেরে আলোর সাথে ধাক্কা খেল।এটা আর নতুন কি??? কেউ কিছু মুখে বললো না,,রোদ মেঘের দিকে তাকিয়ে,,

রোদঃমেঘে তুই উত চিংড়ির মত না লাফিয়ে একটু শান্ত হয়ে থাকতে পারিস না।পড়ে গেলে তো ব্যাথা পাবি,,,,।আর এভাবে দৌড়ে আসলে কেন?????

মেঘঃ আচ্ছা দাভাই আর করবো না,,,আসলে রকির সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করছিলাম তো তাই,,,

আলোঃআমার মেঘ বাবু টা কত ভদ্র হয়ে গেছে,,,কিছু না করে শুধু একটু দুষ্টুমি করে তাই,,,(মেঘের গাল টেনে)

সবাই এক সাথেঃ🤣🤣🤣🤣🤣🤣🤣

সবাই এবার বাসায় ফিরে আসলো,রোদের জন্য একমগ কফি করে রোদের রুমে আলো নিয়ে গেল।
রোদ আলোকে মেঘকে সাথে নিয়ে পড়তে আসতে বললো রোদের রুমে।আলো মেঘের রুমে গিয়ে দেখে উনি বসে বসে ডোরেমন কেক খাচ্ছেন,,আলো দরজায় দাড়িয়ে ওদের কাহিনী দেখছে,,,,রকিও খাওয়ার জন্য লাফালাফি করছে,মেঘ রকিকে একটু দেওয়া দিল, রকি আরো খাবে কিন্ত মেঘ দিবে না।মেঘ ঠাস করে রকির মাথায় চড় বসলো,,।
আর রকি ক্যও ক্যও করতে করতে চলে গেল,,আলো মেঘের কাছে গিয়ে দেখছে মেঘ বিড়বিড় করে বলছে,,,

মেঘঃমনে করলাম মারবো না,ওরে যদি সব দেই তাহলে আমি কি খাবো। এত করে বললাম আর খাস না রকি,,,,তাও কথা শুনে না,,,দাভাই ঠিকই বলে বলে আমাকে বেশি ভালবাসে তাই ,আমি যেমন দাভাই এর মাথায় উঠে নাচি,আর এই রকি আমার মাথায় উঠে নাচানাচি শুরু করছে,,,😡😡😡

আলো এতক্ষণ বসে বসে মেঘের কথা শুনছিলো,মেঘের পাশে বসে মেঘকে বলে,,

আলোঃমেঘ বাবু তোমার দাভাই আমাদেরকে পড়তে বসার জন্য উনার রুমে ডাকছে।চলো তোমার বই নিয়ে,আমিও আমার বই নিয়ে আসছি,,

মেঘঃআজ দিনটাই খারাপ যাচ্ছে, আর দাভাইয়ের কাছে পড়তে বসা মানেই তো শাস্তি,,,, ও বউমনি আজকের মত আমাকে বাঁচিয়ে দাও।
তোমার সাথে গল্প করার জন্য একটা মেয়ে এনে দিবো,তোমারও সময় কাটবে আর আমার ওর সাথে খেলা হবে,,,

আলোঃমেঘঘঘঘঘ।চলো তো দেখো কিছু বলবে না তোমার দাভাই।আমি আছি তো,,

আলো মেঘকে কোলে নিয়ে ওর তিনটা বই নিয়ে, রোদের রুমে চলে গেল।
রোদ বসে বসে ফাইল দেখছিলো,ওদের আসতে দেখে বেডে বসতে বললো,ওরা বসে আছে।
রোদ ওদের দিকে তাকিয়ে বললো,পড়া শুরু করার আগে তোমাদের কাছে আমার কিছু চাওয়া আছে,,,

আলোঃআমাদের কাছে😵😵😵।আচ্ছা আপনি বলুন কি চায় আপনার???

মেঘঃদাভাই বলো তোমার কি চায়????

রোদঃহুমম তোমাদের কাছে,যেটা চাইবো আশা করি তোমরা আমাকে ফিরিয়ে দিবে না।আমি তোমাদের কাছে অনেক আশা নিয়ে এসেছি,মেঘ তোমার কোন ইচ্ছে আমি পূরণকরতে বাকি রাখি নি,আমি চায় তোমরা প্রতিটা পরীক্ষায় তোমাদের (A+)দেখতে চায়, সেটা কি করে করবে আমি জানিনা।আমি তোমাদের রেজাল্ট এর দিনে কথা হবে,এখন তোমরা পড়বে কি না?আমি সেটা দেখতে চায় না।এবার তোমরা আমাকে কথা দাও যে তোমরা আমার কথা রাখবে।তোমাদের যে কোন সমস্যাতেই আমি তোমাদের পাশে আছি আর থাকবোও।

মেঘ রোদের দিকে তাকিয়ে বললো,দাভাই আমি চেষ্টা করবো তোমার কথা রাখার,,আমি দুষ্টুমি করলেও আমি তোমাকে খুব ভালবাসি দাভাই।আমার কষ্ট হলেও আমি তোমার ইচ্ছেটাকে পূরণ করবো দেখে নিও।রোদ আলোর দিকে তাকায় এবার,আলো মাথা নিচু করে বলে,,
আলোঃ আমি এর আগে এরকম কোন সুযোগ পাইনি,আমি লেখাপড়া করতে চাই।সেই সুযোগটা আপনি আমাকে দিয়েছেন।আমিও আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আপনার কথা রাখার,,,এরপর রোদ ওদের কিছুক্ষন পড়িয়ে ডিনার করে যে যার রুমে চলে গেল।

রোদ মেঘকে ঠিকমত বিছানা করে দিয়ে,ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিল।আলোর ওর রুমের বারান্দায় দাড়িয়ে ছিল,রোদ এসে আলোর হাত ধরে টেনে ছাদে নিয়ে গেল।রাতের বেলায় শহর যে এত ভাল লাগে আলো সে কল্পনাও করে নি,ঘুরে ঘুরে খুব মনযোগ দিয়ে দেখছে,,রোদ দোলনা বসে পড়লো।
আলোও রোদের কাছে এসে বসতেই রোদ আলোর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লো।রোদর চুল গুলোতে আলো হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কি সুন্দর রোদের চুল গুলো,আলো রোদের চুল নিয়ে খেলছে,,,,খুব মনোযোগ দিয়ে।
রোদ এক দৃষ্টিতে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে,,আলো রোদ মুখটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয় দেখছে।
এক ছেলে সব দিক থেকে এত পারফেক্ট হয় কি করে???রোদের কিলার হাসিটা আলোকে ঘায়েল করে,,,,।

রোদঃআলো তোমাকে আমার কিছু বলার আছে??আমি চায়না আমাদের মধ্যে কোন বিষয় গোপন থাক।আমি জীবনে তুমি আর মেঘ ছাড়া কেউ নেই,তোমাদের জন্য আমার জান দিতে দুইবার ভাববো না।
তোমাকে আমি বিয়ে করছি,আমি তোমাকে ভালবাসি তাই।
আর আমি চাই আমাদের রিলেশনশিপ টা অন্য রকম হোক যেখানে,অবিশ্বাস, অভিমান,রাগ,সন্দেহ এসব আমি চায় না।আলো তুমি যত বড় ভুল করো না কেন?
আগে আমাকে এসে বলবে আমি তোমাকে মাফ করে দিবো, কিন্ত কোন ভুল করে যদি লোক মুখে শুনতে হয়, এটা আমি কখনোই মেনে নিবো না মনে রেখো???আর তোমাকে একটা কথা বলবো, আশা করি তুমি এখন যেমন আছো তেমনই থাকবে আমার কথাটা শোনার পর,,,

আলোঃবলুন আমি কথা দিলাম, সেটা যত বড়ই সত্য কথা হোক না কেন?আমি মেনে নিবো,,,

রোদঃআলো মেঘ আমার নিজের ভাই না,,,,,,,,,মেঘ আমাদের বংশের কেউ না।



চলবে……………♥♥

(আগের মত কোন উৎসাহ পাই না গল্প লিখে, এজন্য আর লিখতেও মন চায় না।কোন কাজ উৎসাহ না পেলে কাজ টা মন থেকে করতে ভাল লাগে না।তোমাদের মনে হয় গল্প টা ভাল লাগেনা তাই না,???এজন্য ভেবেছি খুব তারাতারি গল্প টা শেষ করে দিবো,,,)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here