এলোকেশী কন্যা পর্ব :- ২৮ এবং ২৯

0
296

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব :- ২৮ এবং ২৯
লেখা :- Nurzahan akter allo



-: রোদ অফিসে যাওয়ার কিছুক্ষন পর রোদের ফোনে রোদের দূর সম্পর্কের দিদা ফোন করে জানালেন উনি রোদের বাসায় কিছু দিন থাকবে, রোদ এবার চিন্তায় পড়ে গেল কারন রোদ ভাল করে জানে ওই মহিলা খুব ক্যাটকেটে,আলোকে নিয়ে চিন্তা নেই, আসল চিন্তা হচ্ছে মেঘকে নিয়ে।কারন দিদা সাধু ভাষা চলিত চলিত ভাষা মিশিয়ে উনি কথা বলে।আর মেঘতো যেই দুষ্টু উনাকে না জালিয়ে মারে,,,।রোদ আলোকে ফোন দিয়ে দিদার কথা জানালো,আজ বিকাল বেলা নাকি এখানে এসে পৌঁছাবে উনি।আলো এবার কিছুটা ভয় পাচ্ছে কারন উনার মন যুগিয়ে চলতে পারবে কি না?আলোকে পছন্দ করবে কি না???

ওদিকে মেঘ টিফিন আওয়ারে সবাই কে ডাকলো ও নাকি ট্রিট দিবে,বাট পিংকিকে ডাকলো না,এবার পিংকি নিজে এসে বলে গেল,,

পিংকিঃমেঘ তোমার ফুচকা তুমি খাও,আমার কোন ইচ্ছে নাই ফুচকা খাওয়ার বাট আমি পেন্সিল কাটার যে তুমি ভেঙে দিয়েছো, সেটা আমি জানি আমাকে কিনে না দিলে আমি টিচারের কাছে তোমার নামে কমপ্লেন দিবো।

মেঘঃআরে পিংকি আমি তোমাকে কিনে দিবো তাও কমপ্লেন দিও না পিলিজ,এসো এসো বসো তুমিও ফুচকা খাও।আমার টাও খাও,,,এত বড় বাঁশ খাওয়ার পর ফুচকার কি আসল টেস্ট পাওয়া যাবে???নাও তুমি আমারটা খেয়ে আমাকে উদ্ধার করো???

পিংকিঃতুমি খেতে পারছো না,, আগে বলবে আমি খেয়ে নিতাম,ফুচকা আমার খুব ভাললাগে,,দাও দাও😋😋।

মেঘঃআরে খাও খাও সমস্যা নেই?তাও কমপ্লেন করো না??(শয়তান মেয়ে, লোভী মেয়ে খাওয়ার জন্য আমাকেই এভাবে বিপদে ফেলে দিল,দাড়া তোর কালার পেন্সিল গুলো তুই কেমন করে খুজে পাস আমিও দেখবো??মনে মনে বললো পিংকিকে)

পিংকিঃজানো তো মেঘ আমরা মেয়েরা ফুচকা খাওয়ার জন্য বি এফ কে প্যাচে কেমনে ফেলে, আমরা খুব ভাল করেই জানি।প্রথমে ভাল করে বলি না শুনলে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল আর তাও পরেও যদি না শোনে তাহলে এভাবে থেট দিয়ে কাজ হাসিল করি বুঝলে,আর আমার সাথে লাগতে এসো না।বা,,,,ই মেঘ

মেঘঃহ্যা রে ফাজিল মেয়ে তোরা তো ডায়নি, আমার বউমনি ছাড়া কেউ ভাল না,,,ও হ্য বউমনিও তো এমন করছিলো একদিন।কেউ ভাল না কেউ,এসব আলু মাখাতে যে কি আছে,হাত ধুয়ে মুখের সামনে খাবার ধরলে নাক কুচকে বলবে,,, ইয়াককক স্পুন ছাড়া কেউ খায়, আর ফুচকা ওয়ালা হাত না ধুয়ে দিলেও,,,ইয়াম ইয়ামম করে খাবো,,,😠😠
মেঘ রাগে হনহন করতে করতে চলে গেল,বাসায় ফিরে কোন কথা না বলে ওর রুমে চলে গেল।আলো ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,বুঝলো আজ মেঘ বাবু খুব রেগে আছে,,,
আলো খাবারের ট্রে নিয়ে মেঘের রুমে গেল। মেঘ বিছানাতে বসে আছে চুপ করে বসে আছে,,,,

আলোঃউহুম উহুম বলছিলাম যে কেউ যদি একটু খেয়ে নিতো, তাহলে আমিও কিছু খেতে পারতাম।আমার খুব খুধা লাগছে,আমি এতক্ষণ না খেয়ে আছি???

মেঘঃবউমনি আমি খুব রেগে আছি?তুমি খেয়ে নাও, আমি একটু পরে খাবো??

আলোঃথাক তাহলে আমিও একটু পরে খাবো,,কারন আমি তো আমার মেঘ বাবুকে রেখে খেতে পারি না,আচ্ছা আমি না খেয়েই তাহলে ঘুমিয়ে গেলাম,,,

মেঘঃতোমরা মেয়েরা এত অত্যাচার করো কেন?? আমরা ছেলেরা আর কত সহ্য করবো??সব জায়গায় তোমরা ব্ল্যাকমেইল না করলেও তো পারো,,,,আচ্ছা দাও,,,, হা করছি তো দাও,,,😠😠😠।

আলোঃ😳😳😳 আমরা অত্যাচার করি??আচ্ছা নাও আগে খেয়ে নাও।তারপর সব কথা শুনবো তোমার,,

আলো মেঘ খাইয়ে দিয়ে চলে গেল,রোদে কে ফোন করে বাসায় আসতে বললো,রোদের মিটিং থাকায় আসতে পারবে না।আলো ফোন রেখে টুকটাক কাজ গুলো সেরে মেঘকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে, নিজেও ঘুমিয়ে নিলো,,,,

বিকাল পাঁচ দিকে কলিংবেলের শব্দে আলোর ঘুম ভেঙে গেল।চুল গুলোকে হাতখোপা করতে করতে নিচে নেমে মাথায় ওড়না দিয়ে দরজা খুলে দিলো,সামনে একটা বয়স্ক মহিলা দাড়িয়ে। আলো সালাম দিয়ে ভেতরে আসতে বললো,,,,
দিদাঃও মরণ সামনে খাড়াইয়া থাকলে,,,, আমি ভেতরে ঢুকবো কেমনে,মাইয়া টার তো দেহি মাথায় বুদ্ধির ব ও নাই,,,,

আলোঃজি দিদা আসুন ভেতরে আসুন,,

দিদাঃতা আমাগো রোদ রে এই রুপ দেখাইয়া ফাসায়ছো, সেটা খুব ভাল কইরাই বুঝবার পারছি,,,,বড়লোক দেইখা গলায় ঝুইলা পড়ছো???আমাগে ময়না এত সুন্দর কিন্ত রোদ তো ফিরাইয়াও তাকাই দেখবার চায় না।নিজের রুপের জালে আমাগো রোদরে ফাসাইয়া সব নিজের কইরা লইবার চাও।

আলোঃদিদা আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন,আমি এরকম না।

দিদাঃথামো মাইয়া,মুখে তো খুব বড় বড় কথা কইতে আছো,আমি তো নিজের চোখেই দেখবার লইগা এহানে আইছি,,,।যাও আমার লাইগা ঠান্ডা পানি লইয়া আসো?আর রোদ রে আমার আমার নামে কিছু কইতে যাইবা না।যদি দেহি তাহলে তোমারে আমিও ছাইড়া দিবো না,,,

মেঘ রান্না ঘরে এসে আলোর কানে কানে বললো,

মেঘঃবউমনি এই বুড়িটা আমাদের বাসায় কি করছে?আর এই বুড়িটা এত শয়তান তুমি জানো না?উনার এক নাতনিকে দাভাইয়ের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য, দাভাইকে পাগল করে দেই।দাভাই তো এই বুড়িটাকে দেখতে পারে না,,,তুমি আবার উনার কথায় কষ্ট পেও না,,,।আমি আছি তোমার পাশে,ওই বুড়িটাকে দেখো কেমনে সোজা করি😎😎।

আলোঃ ছিঃ মেঘ বাবু বড়দের সাথে এরকম করে কথা বলতে নেই,বড়দের কে শুদ্ধা করতে হয়,,উনিই আমাকে ভালবাসবে একদিন,,, এভাবে বলে না মেঘ।

মেঘঃবউমনি আজ মানা করলে তো,তুমিও দেখবে এই বুড়িটা কেমন,,,

মেঘ দিদার সামনে যেয়ে,,,

মেঘঃএই বুড়ি না মানে ,ইয়ে এই দিদা তুমি কেমন আছো,??আর এখানে কতদিন থাকার চিন্তা করছো বলো তো??আসলে তো সহজে যেতে চাও না,এবারও কি তাই করবে??

দিদাঃএই ছোমড়া তুই আমার লগে এভাবে কথা কইবি না,আর আমি কই বেশদিন থাকছি, হের আগের বার আইসা তো মাএ তিন মাস থাকছি,,,।আর রোদ তো এমন কইরা কয় না তুই এভাবে কথা কস কির লাইগা,,,😠😠

মেঘঃদাভাই এভাবে কথা বলতে পারে না দেখেই তো তুমি সুযোগ পেয়ে গেছো,তবে যাই করো,আর যাই বলো আমার বউমিনের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে, বুড়ি তোমাকে এমন থেরাপি দিবো জীবনেও ভুলতে পারবা না,,,😂😂

রোদের গাড়ির হন শুনে মেঘ আর কথা বাড়ালো না,তা ছাড়া রোদ এসে ওরে বকা দিবে,রোদ এসে দিদার সাথে কথা বলে আলোকে উপরে আসতে বলে ওর রুমে চলে গেল।আলো দিদাকে পানি দিয়ে, উপরে যেতে চায়ছে কিন্ত দিদা কোন না কোন কাজে বার বার আটকে দিচ্ছে। এবার রোদ উপর থেকে চিৎকার করে,,,

রোদঃ,,আ,,,,লো আমি তোমাকে উপরে আসতে বলছি??

আলোঃআসছি,,

দিদাঃএই মাইয়া আমারে চা কইরা দাও,আমার মাথা ব্যাথা করতে আছে,,।

আলোঃদিদা আমি উপর থেকে ওনার কথা শুনে এসে, আপনাকে চা বানিয়ে দিচ্ছি। এবার না গেলে উনি খুব রাগ করবে।

রোদঃআআআালো,,,,,,,আমার টাওজার খুজে পাচ্ছি না,,,,

মেঘঃ দাভাই বউমনিকে এই বুড়িটা যেতে দিচ্ছে না,তুমি পারলে খুজে নাও।আর না হলে এই বুড়িটাকে না মানে দিদাকে জিজ্ঞাসা করো কেন যেতে দিচ্ছে না,,,😎😎(চিৎকার করে মেঘ কথাটা বলে দিল)

দিদাঃ😲😲😲 ,এই মাইয়া যাও,,,,দেখ রোদ কি কাজ করবার লাইগা ডাকতে আছে,,,???ঢং দেখলে বাচি না,,,

আলো এক দৌড়ে রোদের রুমে চলে গেল,রোদ আলোর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল,আলো রোদের ড্রেস বের করে রাখলো,রোদের জন্য কফি আনতে চলে গেল।চা করে দিদাকে দিয়ে কফিটা রোদের জন্য নিয়ে এলো,,।রোদের পাশে বসে মাথা নিচু করে,,

আলোঃআর এমন হবে না,আসলে একটু কাজ করছিলাম তো তাই আসতে দেরি হয়ে গেছে।

রোদঃমেঘের সব কথা আমি শুনেছি, আমি তোমাকে এজন্য ডাকলাম,যে দিদা আমার থেকে তোমাকে দুরে দুরে রাখতে চায়বে,কিন্ত তুমি তোমার বুদিধ দিয়ে চলবে।দিদা অতিরিক্ত চালাক মহিলা,তোমাকে সারাদিন খাটাতে চায়বে আমি বাসায় আরো লোক এডড করছি বাসার কাজ গুলো করার জন্য, পড়াশোনার কোন অবহেলা আবার যেন না হয়,আর আজ থেকে তুমি আমার রুমে থাকবে তা না হলে আবার দিদা সন্দেহ করবে।আর চিন্তা করবেন না,আপনাকে আমি বেশি ডিসটাব করবো না তবে একটু একটু ডিসটাব করবো কেমন,,,।

আলো আর কিছু না বলে নিচে চলে গেল,মেঘ আর আলো হালকা কিছু নাস্তা রেডি করছিলো সন্ধ্যার জন্য, মেঘ এটা ওটা বলছে আর আলো মেঘের কথা শুনে হাসছে,দিদা এসে রান্না ঘরের সামনে এসে ওদের উদ্দেশ্য করে বললো,,,

দিদাঃএই মাইয়া, এই ভরা সাঝের বেলায় এভাবে হাসো কির লাইগা?আসলে তোমার কোন বুদ্ধি শুদ্ধি নাই সেটা তো মু আইসা তো ভালো কইরা বুঝবার পারছি,রোদ কি দেইখা যে এই মাইয়ারে বউ কইরা আনছে কে জানে??যওসব,,,

দিদার কথা শুনে আলোর মনটা খারাপ হয়ে গেল,কেন জানি দিদা আলোকে সহ্য করতে পারছে না,রোদ নিচে নামতে নামতে সব শুনতে পেয়েছে।রোদ ইশারায় মেঘকে রুমে যেতে বললো,আলোর চোখের পানি পড়ার আগেই রোদ সেটা ধরে ফেলেছে,আলো পাশে তাকিয়ে দেখে রোদ দাড়িয়ে আছে,,তারাতারি করে চোখের পানিটা মুছে ফেলে,,,

এলোকেশী তোমার হরিণী চোখে এনো না তো জল
তোমার চোখে জল দেখে কাদে যে আমার প্রাণ,,,
মায়াবী মুখের দিকে আমি চেয়ে থাকি,,,
আর এই মায়াবতীই হচ্ছে আমার,,,
,,,,,,,,,,,,,, বেচে থাকার চাবিকাঠী,,,,,,

আলো রোদের দিকে তাকিয়ে হেসে দিল।রোদ আলোর মুখটা দুই হাত দিয়ে উপরে তুলে, আলোর কপালে ভালবাসার একটা ছোঁয়া একে দিল,,,


#পর্ব :- ২৯


-: রোদ আলোর চোখে চোখ রেখে বললো,,,

রোদঃউনার কথায় কিছু মনে করো না,উনি একটু ওই রকমই তুমি একটু মানিয়ে নাও পিলিজ।

আলোঃহুমম আমি চেষ্টা করবো উনার মনের মত করে নিজেকে গড়ে তোলার।আপনি নিচে চলুন,,,আর আপনার কফি ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে, আমি যাই দিদার কিছু লাগবে কি না??

রোদঃহুমম আপনার তো সবার খেয়াল আছে শুধু আমার বাদে।আর শোন পিলিজ দিদার কথায় কষ্ট পেওনা,উনি একটু ক্যাটকেটে ধরনের মহিলা।

আলোঃ আচ্ছা আপনাকে এই নিয়ে ভাবতে হবে না,আমি উনাকে মানিয়ে নিয়ে চলবো।

রোদঃওরে আমার লক্ষী ব,,উ

(রোদ এগিয়ে আসতেই আলো দৌড় দিয়েছে)

নিচে নেমে দেখে দিদা বসে আছে,মেঘ আপন মনে গেম খেলছে,আলো দিদা কাছে গেল,,আলো কিছু বলার আগেই দিদা বলে উঠলো,,,

দিদাঃ বেশরম মাইয়া এই ভর সন্ধ্যা বেলায় এতক্ষণ সুয়ামির সাথে থাকা লাগে,,।ছিঃ এই দেখার বাকি ছিল খোদা।আর আমাগো রোদও দেখি লাজ লজ্জার মাথা খেয়ে বসে আছে।

আলোঃদিদা এখানে মেঘ আছে,দয়া করে এসব বলবেন না।

দিদাঃএই মাইয়া তোমার কাছে আমার এখন সব শিখা লাগবো,বড় বড় কথা বাদ দাও আর যাও রাতের খাওনের ব্যবসথা করো।আর রাতে খাউনের পর আমার পায়ে তেল মালিশ কইরা দিবা, না হইলে আমার ঘুম আসে না,,।

আলোঃ আচ্ছা দিদা,,,(মন টা খারাপ করে চলে গেল)

রাতে খাবার টেবিলে সবাইকে আলো খাবার বেড়ে দিচ্ছে,
রোদঃআলো তুমি খেতে বসো,একবারে সবাই খেয়ে নিলেই তো হয়।

মেঘঃবউমনি তুমিও খেতে বসো,পরে একা একা খেতে ভাল লাগবে না।

দিদাঃবাড়ির বউগো দের একসাথে খাবার খাউন মানায় না।পরে খাইলেই তো হয়।আমরা বাবা কোন দিন এরকম বেশরমের মত সুয়ামির লগে খাইতে বসতে পারি নি,আর এখন কার ছেলে মেয়েদের দেহি লাজ লজ্জা কিছুই নাই,,,

আলোঃদিদা আমি পরে খাবো সমস্যা নাই,,,আপনারা আগে খেয়ে নিন,,,

রোদঃদিদা যা বলার বলো কিন্ত অতিরিক্ত কিছু বলো না,আমি কি এমন লজ্জা জনক কথা বললাম যে,?? তুমি একথা টা বললে।একা একা খেতে কারো ভাল লাগে না তাই আমি ওকে খেতে বলছি,এখানে দোষের কি বলছি,,,??এই মেয়ে তোমাকে খেতে বসতে বলছি না,তারাতারি তুমি খেতে বসবে,,,।

আমাদের হাত আছে আমরা বেড়ে নিতে পারবো।
মেঘঃদাভাই তুমি বউমনিকে বকবে না,এই বুড়িটাই তো কত কথা বলছে বউমনিকে।

রোদঃমেঘ বড়দের মাঝে আমি কথা বলতে মানা
করছি,আমার কথা কি তোমার কানে ঢুকে না😠😠

মেঘঃএই বুড়িটা সব করলো,আর এখন আমাকে বকা খেতে হচ্ছে,,,।

আলোঃ আচ্ছা তোমরা চুপ করো তো,,মেঘ খাওয়ার শুরু করো তো।আমিও খেতে বসলাম এবার আর কোন কথা হবে না আর খাবার খাওয়ার সময় কথা বলতে হয় না।

রাতের খাবার শেষ করে রোদ অফিসের কাজ করতে বসলো,মেঘ ওর রুমে চলে গেল।আলো তেল হালকা করে গরম করে দিদার রুমে গেল।

দিদাঃএই মাইয়া তোমার এত দেরি হলো কেন আসতে?তোমারে না কইছি তারাতারি আসবা।

আলোঃআসলে দিদা সব কাজ গুছিয়ে আসতে খুব দেরি হয়ে গেল।আমি এখুনি আপনার পায়ে তেল মালিশ করে দিচ্ছি।

দিদাঃহুমম দাও,,,,আর পায়ে তেল মালিশ করা হইলে মাথাডাও একটু তেল দিয়া দিও,,

আলোঃ আচ্ছা দিদা,,,

দিদাঃরোদকে দেহি ভালোই হাত কইরা ফেলছো?আগের আমার মুখের উপর কথা কইতো না আর আইজ আমাকে কথা শুনাইলো,,,

এভাবে আলো রাত একটা পযন্ত দিদার কাছে বসে আছে,রোদ আর বসে না থেকে দিদার রুমের দিকে এগোলো।রোদ রুমে ঢুকে দিদা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে,,

রোদঃআলো দিদা তো ঘুমিয়ে গেছে তাহলে এভাবে বসে থাকার মানে কি?এখন কয়টা বাজে তোমার ধারণা আছে,সারাদিন কাজ করে ঠিকমত ঘুম না হলে শরীর খারাপ করবে তো,,,, কি হলো চলো???এই মেয়ে কথা কানে যাই না তোমার,,,

দিদাঃরোদ আমি ঘুমায় নি,আর তোর দেহি বউরে ছাড়া ঘুম আসে না।একটা রাত বউ রে ছাড়া দেহি তোর জান যাই যাই অবস্থা। কে জানে এই মেয়ে তোরে কি জাদু কইরা ফেলছে,,,,,????

আলোঃমাথা নিচু করে উনার কথা সহ্য করছি,কিন্ত অবাধ্য চোখের পানি তো কথা শোনে না,,,😭😭

রোদঃদিদা তুমি বড় সো এমন কথা বলবে না যে,তোমাকে আমার বড় মানতে কষ্ট হয়।টানা তিন ঘন্টা দরে আলো তোমার পায়ে মালিশ করেই যাচ্ছে, তোমার তো উচিত ওরে ধন্যবাদ জানানো।আর তুমি আজে বাজে কথা বলছো,তোমার কথা শুনে আমি ওকেই কষ্ট দিতে পারবো না কারন ওর হাজবেন্ড হিসেবে ওর প্রতি আমারো কিছু দায়িত্ব আছে,যা আমি চায়লেও ভুলতে পারবো না।তোমার পায়ে যদি আরো মাস্যাজ করা লাগে আমি করে দিচ্ছি তাও ওরে এবার ছাড়ো,,।

দিদাঃথাক আর লাগবো না,একথা শুনাতে পারলি তুই আমারে।যা তোর বউরে তুই নিয়া যা,ননীর পুতুল করে সাজাইয়া রাখ তবে রোদ তোরে আগেই একটা কথা কইতে আছি,বাড়ির বউরে মাথায় এত তুলিস না, পরে দেকবো মাথায় উইটা নাচানাচি শুরু করবে।

রোদঃআপাতত এসব কথা থাক।তুমি শুয়ে পড়ো কেমন।আর আলো তোমারে রুমে যেতে বলছি,,,,

রোদ আলোকে নিয়ে রুমে আসলো,আলোকে উদ্দেশ্য করে বললো,এই বোকা মেয়ে আমি তোমাকে মেনে নিতে বলছি বাট অন্যায় আবদার গুলো মেনে নিতে বলি নি।এখন যাও ফ্রেস হয়ে এসে শুয়ে পড়ো,আলো আর একটা কথা না বলে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।একটু পর বের হয়ে রোদের বেডে এক সাইড করে শুয়ে পড়লো,রোদ এসে দেখে আলো বিপরীত দিকে মুখ ঘুরিয়ে শুয়ে আছে,,।রোদ একটানে আলো ঘুরিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে নেয়।

রোদঃযে যাই বলুক আমি তোমার পাশে আছি আর সবসময় থাকবো এটা মনে রাখবে।

আলোঃআমি সত্যি অনেক লাকি আপনাকে আমার পথচলার সাথী হিসেবে পেয়ে।

রোদঃযাক লাকি যখন হয়েছো তাহলে এখন আমাকে খুশি করো তো দেখি,কেমন পারো??

আলোঃআমার বয়েই গেছে আপনাকে খুশি করতে,,,আর আপনি কখনো বদলে যাবেন না তো?আপনি যদি বদলে যান আমি সত্যি মারা যাবো😭😭😭😭😭😭।

রোদঃআরে বোকা মেয়ে তুমি কাদছো কেন?আমি তোমার পাশে আছি,আর ভবিষ্যতেও থাকবো?আমার এলোকেশীকে ছাড়া আমি নিজেই তো থাকতে পারবো না।ইয়াককক তোমার চোখের পানি আর নাকের পানি আমার বুকে পড়ছে।

আলোঃ এবার হেসে দেয় আর রোদের বুকের পশম গুলো নিয়ে খেলতে থাকে।আপনি জানেন আপনার বুকের পশম গুলো খুব সুন্দর, কেমন একটা মাদকতা ছড়িয়ে আছে।

রোদঃতাই নাকি????😂😂😂😂।দেখে তাহলে আবার খেয়ে ফেলো না যেন,,,।

আলো রোদের কথায় লজ্জা পেয়ে রোদের বুকে মুখ লুকায়, আর রোদ আলোর চুলে বিলি কেটে দেয়।একসময় দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ে,পরের সকালে আলো ফজরে উঠে নামাজ পড়ে নেয়,রোদ এখনো ওঠে নে,রোদকে ডেকে নামাজ জন্য উঠায়।রোদ নামাজ পড়ে নেয়।
রোদ নামাজ শেষ করে জিম করতে, ওর জিমের রুমে যাই।আলো ওপাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রোদ আলোকে দেখতে পেয়ে ডাক দেয়। রুমে ঢুকতেই দেয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে, আমার এখন মনিং কিস চাই?
আমাকে কিস দিলে যেতে পারবে আর না হলে এভাবেই দাড়িয়ে থাকো???

আলোঃসকাল বেলা কি শুরু করলেন আপনি??উফফ ছাড়ুন না।আমার নাস্তা রেডি করতে হবে আমার দেরি হচ্ছে??

রোদঃযা বললাম করে চলে যাও, আমি তোমাকে মানা করবো না।তবে আমাকে না দিলে তোমাকে ছাড়বো না,এবার ভাবো তুমি কি করবে??

আলো রোদের কপালে কিস করতে যাবে তার আগেই রোদ ঠোট এগিয়ে দেয় আর কিস টা রোদের ঠোঁটেই লাগে,,,আর আলো বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে।রোদ হেসে😂😂দেয়।রোদের থেকে ছাড়া পেয়ে রান্না ঘরে গিয়ে চা করে দিদার রুমে যাই,,,

দিদার রুমে ঢুকতেই দিদা আলোর গালে ঠাসসসস করে চড় বসিয়ে দেই।


চলবে…………♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here