এলোকেশী কন্যা পর্ব :- ৩১ এবং ৩২

0
281

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব :- ৩১ এবং ৩২
লেখা :- Nurzahan akter allo



আলো আর মেঘ গাড়ি নিয়ে ওরা বেরিয়ে গেল।মেঘ আলোর দিকে তাকিয়ে বললো,আজ তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে বউমনি। দাভাই তো তোমাকে দেখে পাগলই না হয়ে যাই।আলো মেঘের কথা শুনে মুছকি হেসে, মেঘের গাল টেনে দেয়।আলো বাইরের দিকে তাকিয়ে বাইরে সব গাছপালা, শহরের পরিবেশ কেমন রাস্তা ঘাট,যানজট পিচঢালা রাস্তা সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে।মেঘ আপনমনে গেম খেলেই যাচ্ছে।
আলো মনে মনে রোদে কথা ভাবছে, লজ্জায় মুখটা লাল হয়ে গেছে।
ওদের গাড়িটা রোদের অফিসের সামনে গিয়ে দাড়ালো,আলো আর মেঘ অফিসে ভেতরে ঢুকলো।অফিসে ঢুকেই সামনে আবিরকে দেখতে পেল,আবিরকে দেখে আলোর মুখে হাসি ফুটলো,আবির উল্টো ঘুরে কার সাথে যেন কথা বলছিলো।
মেঘ দৌড়ে গিয়ে আবিরের পিঠে উঠলো,আচমকা এরকম করাতে আবির কোনরকম নিজেকে সামলে নিলো।আবির মেঘকে ঘুরিয়ে সামনে এনে দেখ মেঘ।

আবিরঃআরে জুনিয়র বস,তুমি এই সময় অফিসে কি মনে করে?কার সাথে এখানে এসেছো তুমি??স্যার যদি জানে তোমারে কি করবে তুমি জানো???

মেঘঃআমি এখানে একা আসি নি তো?আমি বউমনির সাথে এসেছি।তোমার তো দেখছি কোন শক্তি নাই আর একটুর জন্য পড়ে যেতে,,,😂😂😂

আবির আলোর সামনে গিয়ে আলোকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে?আলো আবিরকে দেখে একটা হাসি দিয়ে,,

আলোঃভাইয়া তুমি কেমন আছো,আজ তোমাদের জন্য রান্না করে এনেছি, তোমাদের খাওয়াবো।আর তোমার স্যারকে আমি এসেছি এটা এখন বলার দরকার নাই।আজ ওনাকে সারপ্রাইজ দিতে চায় আমি,,,

আবিরঃওকে তুই যা বলবি তাই হবে,কিন্ত স্যার তো মিটিংয়ে আছে,চল তুই আমার কেবিনে চল।ওখানেই বসবি,,,

আলোঃ আচ্ছা চলো,ভাইয়া তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে,আমি যা যা বলবো তুমি ঠিক তাই করবে কেমন।আজ তোমার স্যারে আজ ইয়া বড় সারপ্রাইজ দিতে চায়।😂😂
(আলো আবিরকে ওর সব কথা বললো)

মেঘঃবউমনি আমার বসে থাকতে ভাল লাগছে না,তোমরা বসে থাকো। আমি সব চিনি আর এখানে সবাই আমাকে চেনে।আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।

আবির আর আলো আর কিছুক্ষন গল্প করলো,আবির ফোন করে জানলো।রোদের মিটিং শেষ করে রোদ কেবল ওর কেবিনে গিয়ে বসলো। আবির আলোর দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,,,চল তাহলে যাওয়া যাক।😂😂😂😂।আলোও ওর শাড়ির আঁচল দিয়ে বড় করে ঘোমটা টেনে দিল।আর আবিরের পেছন পেছন গেল।আবির একটা কেবিনের সামনে গিয়ে ডোরে নক করলো,,,

আবিরঃmay i coming sir,,
রোদঃohh abir,,,yeah come in,,,

আবিরঃআসলে স্যার একটা মেয়ে এসেছে, আপনার সাথে দেখা করতে।আপনার সাথে তার কি যেন কথা আছে??

রোদঃআমার সাথে কোন মেয়ের কি কথা থাকতে পারে???আচ্ছা এসো তোমরা বসো,,,???

আবির আর আলো চেয়ারে বসলো,আর রোদের দিকে তাকিয়ে,, আবির বললো,,,

আবিরঃ আসলে এই অফিসে উনার হাজবেন্ড জব করেন।কিন্ত আজকাল কিছুতেই ওনাকে সময় দিচ্ছে না।তাই উনি খোঁজ নিতে এসেছে যে,উনার হাজবেন্ড কোন পরকিয়া করছেন কি না???আচ্ছা স্যার আমার ফোন এসেছে,আমি একটু পরে আসছি,,,

রোদ চলে যাওয়ার পরপরই রোদ উঠে ডোর লক করে দেই।আর আলোর পাশে এসে ডেস্কে উপর বসে, আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,,

রোদঃম্যম আমি আপনার হাজবেন্ড কে চিনি,,,উনার নাম রোদ মেহবুব।আসলে উনি একটু কাজে বিজি থাকে তো তাই আপনাকে সময় দিতে পারছে না।আপনি চায়লে আমি আপনাকে সময় দিতে পারি,কারন আমি আপাতত ফ্রি আছি।আর ম্যম আপনাকে ঠিকই আমার এলোকেশীর মত দেখতে,আর আপনাকে দেখে আমার খুব প্রেম প্রেম পাচ্ছে,।তাই আমি এখন আপনার সাথে প্রেম করবো।আর আমি সত্যি অবাক আলো,তুমি আমার অফিসে,,,তা কি মনে করে??ওহহ বুঝেছি কারো সাথে প্রেম করি কি না তাই দেখতে এসেছো😂😂😂😂😂😂😂।আর তোমাকে চিনতে পারবো না, তুমি ভাবলে কি করে ডিয়ার???

রোদের কথা শুনে আলো রাগ করে চেয়ার থেকে উঠে,মুখের সামনে থেকে ওর শাড়ির আঁচল সরিয়ে রোদের কলার টেনে ধরে বললো,,

আলোঃসাহস থাকলে কোন মেয়ের কাছে যেয়ে দেখান,সব সহ্য করবো কিন্ত আপনাকে নিয়ে, আমি বিশেষ করে কোন মেয়ে কথা তো মোটেও মেনে নিবো না।এই রোদ শুধু আমার, আর আমারই থাকবে। আর আপনি আমাকে চিনে ফেলে,আমার সব প্লান নষ্ট করে দিলেন😭😭😭😭😭।

রোদঃআরে ব্যাস আমার গুন্ডীটা তো দেখছি রেগে গেছে,তা এরকম কিলার লুক নিয়ে অফিসে এসেছো।আর আজ তো তুমি শেষ,তা আমাকে এরকম করে পাগল করা হচ্ছে (আলোকে কাছে টেনে কোমর জড়িয়ে ধরে)।আলোর মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।আলোর কপালে একটা কিস করে,,,

,রোদ একদৃষ্টিতে আলোর চোখের দিকে একটা ঘোর লাগানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।রোদ একটানে আলোকে ঘুরিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে,রোদ আলোর কাধে মুখ রেখে বলে,,

রোদঃএই মেয়ে তুমি আমার সামনে আসবেনা,আমার যে নিজেকে আটকাতে খুব কষ্ট হয়।তুমি কি জানো,??তোমাকে আজ কালো শাড়িতে কতটা সুন্দর দেখাচ্ছে??
আজ যদি কেউ তোমার দিকে তাকায় আমার তো খুব হিংসা হবে,কারন আমি আমার বউকে এরকম লুকে দেখবো,আর কেউ না।
আর আমি সত্যি খুব খুশি হয়েছি তুমি আসাতে,,এবার চল আমরা কোথাও গিয়ে লাঞ্চ টা সেরে ফেলি,আর তুমি তো একা আসবে না সেটা ভাল করেই জানি,তোমার ওই বানরটা কই,,,????

আলোঃবাইরে যাবার দরকার নাই?আমি রান্না করে নিয়ে এসেছি,আর মেঘ এখন আবির ভাইয়ার কাছে আছে।আর আমি আবির ভাইয়ার জন্যও নিয়ে এসেছি,আবির ভাইয়াকে ওটা দিয়ে এসেছি আর আপনারটাও আছে,,,।
আচ্ছা আপনি যান একটু ফ্রেস হয়ে আসেন,আমি এখুনি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।

রোদ আলোর কথা মত ফ্রেস হয়ে এসে,ওর চেয়ারে বসলো আর আলো রোদের খাবার টা ওর দিকে এগিয়ে দিল।
রোদ একবার প্লেটে দিকে তাকিয়ে আলোর দিকে অবাক হয়ে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে।
রোদ প্লেট টা সরিয়ে একটা ফাইল দেখায় মনোযোগ দিল।আলো রোদের দিকে তাকিয়ে চেয়ার থেকে উঠে বিরিয়ানীর প্লেট টা হাতে নিয়ে, রোদের সামনে এসে ফাইলটা কেড়ে নিয়ে,রোদের কোলে ধপাস করে বসে পড়লো,,,

রোদঃআউচচ কারো কোলে কেউ এরকম করে বসে,,,কি আর বলবো এটা মেঘেরই বউমনি।মেঘের সাথে থাকতে থাকতে তুমি ওর মত হয়ে গেছো।
আর এটা তো দেখছি,একটা ময়দা বস্তা, উফফ কি ভারি হয়ে গেছো তুমি???আমার তো মনে হচ্ছে আমি চ্যাপ্টা হয়ে যাবো,,,😖😖😖

আলোঃবকবক করা বন্ধ হয়ে থাকলে এবার দয়া করে হা করেন,আর খেয়ে বলেন তো কেমন হয়েছে,,,

আলো ইচ্ছে করেই প্রথমে spoon দিয়ে খাওয়াতে চায়লে,রোদ ওটা হাত থেকে কেড়ে নেই।
আলো মুছকি হেসে হাত দিয়ে রোদকে খাওয়াতে শুরু করে।রোদ বিরিয়ানী না মুখে নিয়ে, একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে রোদের দিকে।

আলো রোদের দিকে তাকিয়ে ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে????

রোদঃতুমি কি করে এটা আমি সরিষার তেলের বিরিয়ানী খুব পছন্দ করি,,,,আর রান্না টা এক কথায় দারুন হয়েছে।
আলো যেন এই কথাটা শোনার জন্য অধীর আগ্রহে বসে ছিল।আলো রোদের মুখে দেওয়ার আগে রোদ আলোর মুখের খাবার দিয়ে দেই।আলো রোদে খাইয়ে দিচ্ছে আর রোদ তৃপ্তি সহকারে খাচ্ছে। দুজন দুজনকে খাইয়ে দিয়ে, আলো যখন রোদের কোল থেকে উঠতে যাবে,রোদ আলোকে চেপে ধরে আবার বসিয়ে দেই,,,।আলো রোদের দিকে রাগী চোখে তাকায়,,

আলোঃকি হচ্ছে কি??আমাদের তো বাসায় যেতে হবে?দিদা বাসায় একা আছে,,আর মেঘটাও যে কি করছে, দেখতে হবে।আপনি আপনার কাজ করুন আমরা এখন বাসায় যাই।

রোদঃআরে এত তাড়া কিসের তোমার?তুমি এত কষ্ট করে আমার জন্য রান্না করে আনলে,তোমাকে তো কিছু দেওয়া উচিত তাই না,আর আমিও তো বাসায় ফিরবো এখন, আমার বউটাকে কি এখন একা ছাড়া যাই???আচ্ছা চলো আজ আমরা শপিং করতে যাবো কেমন,,,,।তার আগে আমাকে একটা কিস করতে হবে।

আলোঃপারবো না আমি???আর আমারো সমস্যা নাই আমি এভাবেই বসে থাকি কেমন????তাও কিস করতে পারবো না।

রোদঃআরে বোকা মেয়ে তুমি না দিলে,,আমি আছি কি করতে,???আমার জিনিস আমি আদায় করে নিতে পারি,,,
তারপর,,রোদ ওর মত করে সুধা পান করতে বিজি,,,,আলো রোদকে ছড়াতে চায়তে বাট রোদ আলোকে আরো শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরছে।
৫ মিনিট পর আলোকে ছাড়ার পর,,,দুজনেই হাপাতে লাগলো।

আলোঃএত করে বললাম এসব এখন করবে না,তাও তো শুনলেন না,আমার কথা,,,😠😠😠😠😠,সামনে তাকিয়ে দেখেন,,
(পাঠকরা রা কেমন ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে,আমার এখন কি লজ্জা লাগছে🙈🙈🙈🙈🙈🙈🙈,,।)

রোদঃআরে ওদের দেখে লজ্জা পেও না,,ওদের ও শিখতে হবে তাই না???।ওদের ও তো পাটনার আছে,,,আর আমি ওদের বড়ভাই হিসেবে আমারও তো ওদের শিখানোর একটা দায়িত্ব আছে তাই না।
(এবার দেখছো পাঠক/পাঠিকাদের হাসি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওরাও আমার সাথে একমত,,,,😂😂😂😂😂😂😂😂)

(এই যে আপনাদেরও বিরিয়ানী দিলাম,খেয়ে জানাবেন কেমন হয়েছে,আর মজা করলাম কিছু মনে করবেন না)


পর্ব :- ৩২


রোদ আর আলো কেবিন থেকে বের হয়ে আবিরের কেবিনে গেল।ওখানে মেঘ বসে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে আর আবিরের সাথে গল্প করছে,রোদ দেখে আবির উঠে দাঁড়ালো। আবির আলোর দিকে তাকিয়ে,,,

আবিরঃজানিস তো বোন বিরিয়ানী দারুণ হয়েছে,আর
আমার পেট ভরে নি।তুই বল আবার কবে খাওয়াবি,,,,,,

আলোঃভাইয়া ভাবীকে নিয়ে একদিন বাসায় চলে এসো, তারপর না হয় আড্ডা আর সাথে বিরিয়ানী হবে।

রোদঃহুমম আবির আবৃতিকে নিয়ে এসো কেমন,ওকে অনেকদিন হলো দেখি নি,,,।আর একসাথে আড্ডা দিলে সবার মনটাও ভাল থাকবে,,,,।

মেঘঃযেদিন ইচ্ছে এসো তবে হ্যা আমার চকলেট আনতে ভুল করলে কিন্ত বিরিয়ানীর ব ও পাবে না বলে দিলাম।

সবাই একসাথে😂😂😂😂😂😂😂😂😂😂।

রোদ আবিরকে অফিসটা দেখতে বলে,আলোকে আবিরের কেবিন থেকে বের হয়ে, আলোকে সবার সাথে পরিচয় করে দিল,,,,

রোদঃ এটা আপনাদের ম্যম, আতকিয়া ইবনাত আলো,,,।তবে উনাকে মিসেস রোদ মেহবুব বা ম্যম বলেই ডাকতে পারেন।

আলোঃআসসালামু আলাইকুম,,,। আমাকে আপনারা পর করে দিবেন না, আমাকে আপনারা ম্যম বলেই ডাকতে পারেন।আজ আপনাদের জন্য এই কোম্পানিটার এত উপরে, আপনাদের সাথে আমাদের সম্পক অন্য রকম,।আপনাদের যেকোন সমস্যায় আমাদের কাছে বলতে পারেন।আমি জানি উনি সবার আগে আপনাদের সুবিধার কথায় ভাববে।আর আমার কাছে এত ফর্মালিটি দেখাতে হবে না,আমিও আপনাদের মত খুব সাধারন একটা মানুষ।

আলোর কথা ওখানে সবাই অবাক হয়ে শুনছে,রোদ মেহবুবের বউ অথচ কোন অহংকার নেই।সবাই খুশি হলো আলোর এরকম ব্যবহারে,,,।কিন্ত ওখানে এমন একজন আছে যার চোখ আলোকে গিলে খাওয়ার মত অবস্থা,,,,। আলোর হাসি, কথা বলা,চোখে, ঠোঁটের দিকে কেউ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।সেটা কারো খেয়াল নেই,,,।

সেই অচেনা মানুষটি সিল্কের শাড়ি ভেদ করে আলোর পেটের দিকে তাকিয়ে আছে।
আলোও হেসে হেসে সবার সাথে কথা বললো,,
।তারপর ওদের সাথে কুশল বিনিময় করে, আলো আর রোদ, মেঘ গিয়ে গাড়িতে বসলো।আলো এতটা আশা করে নি,,,।যে রোদ আলোকে সবার সাথে এভাবে পরিচয় করিয়ে দিবে,,
।আলো রোদের তাকিয়ে আবার অন্য দিকে তাকিয়ে বাইরের আকাশ দেখছিল,রোদ আলোর দিকে তাকিয়ে বললো,,,ম্যম আপনাকে কালো শাড়িতে দারুণ মানিয়েছে, আমার সামনে পড়বেন সমস্যা নেই,,,,।তবে আর বাইরে এত কিলার লুকে বের হবেন না,,,😏😏।

আলো রোদের কথা শুনে একবার মুছকি এটা হাসি দিয়ে,আবার আকাশ দেখায় মনোযোগ দিল।রোদ একটা শপিং মলের সামনে এসে দাড়ালো,গাড়ি পাক করে রোদ আলোর এক হাত আর মেঘের একহাত ধরে রোদ হাটা শুরু করলো।রোদ,, মেঘ আর আলোর পেছন পেছন ঘুরছে আর ওরা জিনিস চুজ করছে।

রোদ দুইহাত পকেটে ঢুকিয়ে হাটতে হাটতে একটা সোনার দোকানে গেল,,,একটা চেন আর একটা লকেট রোদের খুব পছন্দ হলো,,,লকেটের ভেতর MR একসাথে লিখা। রোদ খুব ভাল করে জানে শুধু R দেখলে মেঘের কৌতূহলের শেষ নাই,এজন্য ওদের দু ভাইয়ের নাম দিয়েই নিল।রোদ জানে আলো এটা দেখলে খুব খুশি হবে,রোদ ওটা প্যাক করে নিল,আর বিল পেমেন্ট করে আবার ওদের কাছে গিয়ে দাড়ালো,,।ওরা কিছু টুকটাক জিনিস নিলো,রোদের জন্য একটা কালো আর নীল শাট নিল।মেঘ তো যা যা পছন্দ করছে ,, সব না নিয়ে আসবেনা।মেঘ ৫ টা শাট/৪ টা প্যান্টে৷ নিল।

আলো ওর জন্য কামিজ আর টুকটাক জিনিস নিল।আলোর দিদার জন্য দুইটা শাড়ি নিল,,,।ওরা যাওয়ার জন্য বের হলো কিন্ত মেঘ সোনার দোকানে ঢুকে গেল,,,

মেঘঃআমি বউমনিকে কিছু কিনে দিতে চায় দাভাই???আপাতত তুমি বিল পেমেন্ট করো,আমি জব করে তোমাকে সব টাকা পরিশোধ করে দিবো প্রমিস,,,😒😒।

রোদঃএত পাম না মেরে কি পছন্দ হয় দেখো, তোমার বউমনির জন্য। তুমি যা পছন্দ করবে তাই দিতে পারো সমস্যা নাই,,,।

আলোঃমেঘ আমার কিছু লাগবে না তো,এসব থাক অন্য একদিন হবে কেমন, চল এখন বাসায় যাই,,

মেঘঃ না মানে না,,,তোমাকে আমি কিছু একটা কিনে দিবো আর তোমাকে সেটা নিতেই হবে।আমি কিছু জানি না, দেখি দারাও তোমাকে কি দেওয়া যাই ভাবি,,,???

মেঘ খুব সুন্দর একটা লেডিস ব্যাচলেস পছন্দ করলো,।মাঝখানে খুব সুন্দর ডিজাইন আর দুইটা মোটা চেন,,,। কে বললো মেঘের চয়েস নেই।ওটা নিয়ে মেঘ আলোর হাত ধরে একটা সোফার উপর বসালো, আর হাত ব্যাচলেটা টা আলোর হাতে পরিয়ে দিল।আর রোদ মেঘের দিকে তাকিয়ে ভাবছে,,,

রোদঃবউ টা যে কার আমি মাঝে মাঝে এটাই ভুলে যাই,,,,,,,আমার বউ,,,,, আমাকে মেঘ ডেকে বলবে দাভাই তুমি বউমনিকে এটা পড়িয়ে ধাও তানা,আমার সামনে বসে আমার বউয়ের হাত ধরে উনি ব্যাচলেট পরাচেছন,
😠😠😠😠।দারা তুই বিয়ে করবি তখন আমার বাচ্চা গুলোকে তোর বউয়ের পেছনে লাগিয়ে দিবো তখন দেখবি মজা কেমন লাগে,,,(মনে মনে)

মেঘঃবাহ বউমনি তোমার হাতে এটা দারুণ মানিয়েছে তো,দেখছো আমার চয়েজ করো ভাল।🤗🤗🤗

আলোঃহুমম আমার মেঘবাবুর সত্যি চয়েজ টা খুব ভাল,এটা আমি হাত থেকে খুলবো না,আমি সবসময় পড়ে থাকবো। আমার মেঘের দেওয়া বলে কথা তাই না,,,,।অন্য কেউ দিলে খুলে ফেলতাম(রোদের দিকে আড় চোখে তাকিয়ে)।

মেঘঃ আচ্ছা বউমনি,এটা তুমি খুলবে না।আমি যেন এটা তোমাকে না দেখি।তাহলে সেদিন খুব করে তোমাকে বকে দিবো,,,।তোমাকে আগেই বলে দিলাম।আর দাভাই নিজে তো কিছু কিনে দিলা না,ওই ভাবে তাকিয়ে আছো কেন??? তাকিও না,,,, তা না হলে বউমনির নজর লেগে যাবে😂😂😂
মেঘের কথা শুনে ওকানকার সবাই মুখ টিপে হাসা শুরু করলো,রোদ আর কিছু না বলে বিল পেমেন্ট করে তারাতারি দোকান থেকে বের হলো।একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে কিছু খেয়ে নিল।আর দিদার জন্য প্যাক করে নিল।আজকের দিনটা ওদের খুব ভাল গেল।রোদরা বাসায় এসে মেঘ এসে আগে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকলো।রোদ একদিকে আস্তে যাওয়ার জন্য বলছে,আর মেঘ তো পারছে না উড়ে যেতে,,,।

মেঘঃদাভাই আর ডেকো না,আমার খুব জরুরি বিভাগ,,,,দাড়াও পরে এসে কথা বলছি,,।আমাকে এখন যেতে দাও,,,আহহহহ,😖😖😖😖😖😖

রোদঃএত জরুরি হওয়ার আগে কি যাওয়া যাই,না তোর???দেখে যা তা না হলে পড়ে যাবি।তোরে নিয়ে আর পারি না,,,।এই ছেলের বুদ্ধি যে কবে হবে খোদাই একমাত্র জানে,,,,😠😠😠

আলোঃ😂😂😂😂😂😂😂😂😂😂। আমি আর হাসতে পারছি না।এই মেঘটাও না ভারী দুষ্টু। আপনি উপরে যান আমি দিদাকে এগুলো দিয়ে আসি(রোদের দিকে তাকিয়ে)।

রোদঃএসব পরেও দেওয়া যাবে এখন উপরে চলো তো,,,
রোদ আলোকে কোলে নিয়ে উপরে হাটা দিল।রোদ আলোর দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপ দিল,আর হাত ছেড়ে দেওয়ার মত করতেই আলো চোখ বন্ধ করে,আরো শক্ত করে রোদের গলা জড়িয়ে ধরলো।রোদ হেসে দিয়ে আলোর কপালে কিস করলো,

রোদঃআমার এলোকেশী কে আমি কি ফেলে দিতে পারি বলো??আমি তো দেখতে চেয়েছিলাম তুমি কি করো???তুমি দেখছি যে ভাবে আমাকে খামছে ধরছো, তোমার নখ আমার শরীরে বসে যাচ্ছে। 😂😂😂😂😂😂।এবার তো মানুষ আমাকে ভুল ভাববে,,,,(আলোকে রাগানোর জন্য)

আলোঃআমি চুপ করবেন😠😠😠😠😠😠😠😠😠।

রোদ রুমে এনে বিছানায় ঠাস করে আলোকে ফেলে দিল।রাতের ডিনার সেরে সবাই ঘুমিয়ে গেল।আলো দিদাকে শাড়ি গুলো দিল।কিন্ত মুখটা দেখে বোঝা গেল না খুশি হয়েছে নাকি কষ্ট পেয়েছে। আলোও আর কিছু বলে নি???
পরেরদিন সকালে অবাক করার কাহিনী ঘটলো,,,আলোর নামে ফুলের তোরা এসেছে,, সাথে একটা লাভ লেটার,,,,,,,,


চলবে,,,

(বানান ভুল হয়ে থাকলে নিজ দায়িত্বে ঠিক করে নিবেন)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here