এলোকেশী কন্যা পর্ব :- ৩৩ এবং ৩৪

0
289

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব :- ৩৩ এবং ৩৪
লেখা :- Nurzahan akter allo



-: রোদ ফুলের তোরা থেকে একটা চিঠি বের করে সেটা পড়া শুরু করলো।চিঠিটা পড়ে ফুলের তোরাটা এক আছাড় মেরে,, হনহন করতে করতে রোদ ওর রুমে চলে গেল।আলোর আর দিদা রোদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।রোদ ওর রুমে গিয়ে বিছানায় বসে ভাবতে লাগলো,আলোকে কে চেনে এখানে?আর কার এত বড় সাহস যে, আলোকে ফুলের তোরা পাঠায়।😠😠😠😠😠😠
রোদের রাগে তো দুচোখ লাল আছে।কিন্ত রোদ এই কথা কাউকে জানায় নি,রোদের মাথায় একটা কথায় ঘুরছে,আলো তো বাইরে যাই না তাহলে কে আলোকে এরকম একটা চিঠি লিখলো??
রোদ এসব ভাবছিলো। আলোর ডাকে রোদ সাইডে ফিরে তাকায়। আলো রোদের কফিটা রোদের দিকে বাড়িয়ে দেয়।রোদ কফির মগ টা নিয়ে বসে আছে??

আলোঃ আচ্ছা আপনি ঠিক আছেন তো??আপনাকে এরকম দেখাচ্ছে কেন??আপনার কি শরীর টা খারাপ লাগছে??

রোদঃআমার কিছু হয় নি??আলো কালকে থেকে তুমি রেগুলার ক্লাস করবে,,তবে বোরকা আর হিজাব পড়ে যাবে।আর তোমাকে কেউ কিছু বললে আগে আমাকে বলবে,,,??আর মন দাও পড়াশোনায়।

আলোঃ আচ্ছা আপনি যেমনটা বলবেন তেমনটাই হবে,তবে এখন মন খারাপ করে থাকবেন না প্লিজ। এখন চলুন ব্রেকফাস্ট করে নিবেন,মেঘ আর দিদা আপনার জন্য ওয়েট করছে,,।

রোদঃহুমম তুমি যাও আমি এখুনি আসছি,,,।আমি একেবারে অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামবো কেমন,,,

আলোঃ আচ্ছা,, আপনি আসুন আমি যাচ্ছি,,, 😊😊

রোদ আর কিছু না বলে ওয়াশরুমে চলে গেল,আর সাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে অচেনা লোকটির যে মরার পখণা গজিয়েছে,,, সেই পাখনা ছাটানোর জন্যই কল্পনা করছিলো।রোদ নিচে নেমে দেখে সবার ওর জন্য বসে আছে,রোদ কথা না বাড়িয়ে খেতে শুরু করলো।আজ আলোও ওর স্কুলে যাবে,কারন নিউ টেনের ক্লাসশুরু হবে।রোদের বাম পাশে মেঘ বসে দুধের গ্লাস নিয়ে গবষনা করতে বসেছে,,,,।

মেঘঃ আচ্ছা বউমনি দুধের মধ্যে যে ভিটামিন আছে,তাহলে সেটা আমরা দেখতে পায়না কেন?আর ভিটামিন তে ভাল জিনিস তাদের দুধ খেতে এত বাজে কেন??আমার মনে হয়, দুধের মধ্যে আসলেই কোন ভিটামিনই নেই🤔🤔🤔।

আলোঃমেঘ এতকথা না বলে তারাতারি শেষ করো,আজ কোন অযুহাত আমি শুনবো না।আর কিছু কিছু জিনিস চোখে দেখা যাই না,,,।আর দুধ আমাদের মেধা বিকাশে কত সাহায্য করে জানো,,,,।নাও তারাতারি শেষ করো তো তুমি,,,।

মেঘঃবউমনি মেঘ মেহবুব কথায় বিশ্বাস করে না,চোখে দেখে বিশ্বাস করে। এজন্য আমি দুধ খাবো না।

মেঘ উঠতে যাবে তারআগেই রোদ মেঘের দিকে রাগী চোখে তাকায়,এবার মেঘ পড়ে গ্যাড়াকলে আলোর দিকে তাকায় কিন্ত আলো মেঘের দিকে না তাকিয়ে নিজের খাওয়াতে মনোযোগ দিয়েছে কারন আলো জানে এখন মেঘ ওকে বাচাতে বলছে,,।মেঘ করুণ দৃষ্টিতে রোদের দিকে তাকিয়ে বলছে,,

মেঘঃদাভাই আমার দুধ খেলে কেন জানি মনে হয়, আমার শক্তি কমে যাচ্ছে। আমি আজ দুধ খাবো না,,প্রতিদিন বাদে যে দিন গুলো আসে সেদিন থেকে খাবো,, সত্যি বলছি😭😭😭

রোদঃএখুনি এটা শেষ করবে,আমি আর কোন কথা শুনবো না।আর যদি বেশি বকবক করো তাহলে কিচেন থেকে আরো দুই গ্লাস দুধ এনে খেতে দিবো।আর সেটাও তোমাকে খেতে হবে এবার বলো কোনটা করবে,,,।

মেঘ একহাত দিয়ে নাক টিপে ধরে,একটানে সবটুকু খেয়ে নেয়,আর রোদ আর আলোর দিকে তাকিয়ে বলে,,,,

,মেঘঃ আজ দোয়া করে দিলাম,তোমরাও যখন বুড়ো হবে তোমারও যখন দুধ খেতে চায়বে না। আমি তোমাদের এভাবে জোর করে আমিও তখন তোমাদের খাওয়াবো। তখন দেখবে কেমন লাগে,,।আজ আমি একা তাই আমার উপর এত অত্যাচার করছো? 😭😭😭😭😭😭😭😭।

আলো আর দিদাঃ🤣🤣😂😂😂😂😂

রোদ আলোর দিকে তাকিয়ে বলে বাসায় কোন চিঠি বা কোনকিছু আসলে সেটা যেন রোদের রুমে রেখে আসে,আর সকাল ১০ টাই যেন গাড়ি করেই ওর স্কুলে যাই।আর এটাও বলে না যে,আলোর জন্য বডিগার্ড থাকবে কারন রোদ বড় কোন বিপদের অভাস পাচ্ছে। রোদ আলোকে বলতে চায় না কারন আলোকে বললে আলো ভয় পাবে।রোদ আর মেঘ ওরা চলে গেল।

আলো ওর কাজ গুছিয়ে গোসল সেরে ছাদে কাপড় শুকাতে গেল,আর সেই অচেনা লোকটি রাস্তার পাশেই দাড়িয়ে রোদের বাড়িটা খুটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিলো,লোকটি এভাবে আলোকে খোলা চুলে দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে,রোদ এজন্য এই মেয়ের প্রতি এত দূবল,,,।
রোদের বাসায় কালো ড্রেস পড়া বডিগার্ড অনেক,, অচেনা লোকটি রোদের ক্ষমতা সম্পর্কে খুব ভাল করেই জানে এজন্য বৃদ্ধ লোকের বেশে এসেছে,কারন এখন কোন ভাবেই ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার যাবে না,আর একটা ভুলের জন্য আলো তো হাত ছাড়া করা যাবেই না।অচেনা লোকটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে আলোকে নিয়ে,,, কি করে রোদের থেকে ছিনিয়ে নিবে সেটা ই ভাবতে থাকে????

রোদ ফোন করে খোঁজ নিয়ে দেখলো আলো ঠিকভাবে ওর স্কুলে গেছে বাট আজকে চিঠির কথা গুলো নিয়ে রোদ কিছুতেই ওর মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে না।
রোদ আঙুলের মধ্যে কলম ঘুরাচ্ছে আর এগুলো চিন্তা করছে।আবির ডোর নক করে,কিন্ত রোদের সেই দিকে কোন হুশ নেই।
আবির এবার রোদের রুমে ডুকে, রোদের সামনে বসে রোদকে ডাকে।এবার রোদের খেয়াল হয় ওকে কেউ ডাকছে,,,।
আবির রোদের দিকে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে চলে যাই,,।রোদ খামটা খুলে দেখে সকালের চিঠিটার মত সেইম হাতের লিখা,,

,,,,সকালে চিঠিতে আলোর রূপের আর কারো লালসাপূন একটা চিঠি ছিল।
যার জন্য রোদের মাথা আরো খারাপ হয়ে গেছে।আর এখনকারটাই লিখা আছে,আলোর কাছে থেকে রোদকে সরে যাওয়ার জন্য।
তার বিনিময়ে যা চাইবে তাই পাবে।
চিঠিটা পড়ে রোদের সামনে থাকা ফুলদানিটা সজোরে আছাড় দেয় আর সব ফাইল গুলো নিচে ফেলে দেয়।
রোদ আর নিজেকে কনট্রোল করতে পারছে না,,কার এত বড় সাহস যে তার এলোকেশীর দিকে চোখ তুলে তাকায়। রোদের কেবিনে থেকে ভাংচুর এর শব্দ শুনে আবির আসে,কারন আবির ছাড়া কারো সাহস নেই এখন রোদের রুমে ঢোকার।
আবির রোদের রুমে গিয়ে রোদকে আটকায়।রোদের চোখে দুটো লাল হয়ে গেছে,,,।😠😠😠😠😠

আবির রোদের কোন রকম করে থামায়,,,।আবির ভয়ে রোদকে জিজ্ঞাসা করতে পারছে না রোদের এমন রাগের কারন, আজ অনেকদিন পর রোদকে এরকম ভাবে রেগে যেতে দেখলো আবির।
অন্য দিকে কেউ ছায়ার মত আলোর পেছনে পড়ে আছে, সেও লোক লাগিয়ে আলোর খবর নেয়। রোদের মনে হচ্ছে আলোকে এবার হারিয়ে ফেলবে কিন্ত অচেনা শহরে আলোকে কে চিনবে এটাই রোদের মাথায় ডুকছে না।
রোদ বাসায় এসে পুরো বাড়ির সিসি ক্যামেরা গুলো চেক করলো,,আর সকালে ছাদে আলোকে খোলা চুলে যেতে দেখলো।,,,
ঠিক সেই সময় আলো রোদের রুমে ডুকলো,,,।
রোদ রেগে আলোর কে একটানে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে ধরে, রাগী চোখে তাকিয়ে বললো,,,


পর্ব :- ৩৪


রোদ আলোকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে,রাগী চোখে তাকিয়ে বলে,,
রোদঃতোমাকে বলি নি খোলা চুলে ছাদে যাবে না?আমার কথা তুমি শুনতে পাও নি?এতবার করে সাবধান করার পরেও তুমি কেন ছাদে গেলে খোলা চুলে?আমাকে তুমি বলো কে গেলা??
আলোঃআসলে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুলে গিয়েছি,, আর এমন হবে না।এবারের মত আমাকে মাফ করুন(আলো মাথা নিচু করে কথাটা বললো)

রোদ আলোর মায়া মাখা মুখটা দেখে,ওকে ছেড়ে দিয়ে পাশের দেওয়ালে সজোরে আঘাত করলো,আলো চমকে উঠে রোদের হাত টা ধরে ফেললো।রোদ একদৃষ্টিতে আলোর দিকে তাকিয়ে আছে,আলো ওয়াশরুমে থেকে ঠান্ডা পানি এনে রোদের হাতটা পানিতে চুবিয়ে রাখলো।
আলো খুব ভাল করেই জানো রোদ কোনটা এক ব্যাপার নিয়ে খুব চিন্তিত।এজন্য রোদের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে,,
এখন আমরা ভালবাসা ভালবাসা খেলবো কেমন।রোদ আলোর কথা বুঝতে না পেরে শুধু ভ্রু কুচকে আলোর দিকে তাকায়। আলো রোদের একহাতের তালুর সাথে আলোর হাতের তালু মেলায়,কিন্ত রোদের হাতের উপর আলোর হাতটা পুরো বাচ্চার হাতের মত লাগছে,রোদ আলোর দিকে মুছকি হেসে তাকায়।
ঐ দিকে আলো তাকানোর আগেই রোদ আবার মুখটা গম্ভীর করে নেয়।আলো কি করতে চায়ছে, সেটাই দেখার জন্য বসে আছে।আলো রোদের হাতটা আবার টেনে নিয়ে নিজের হাতটা রোদে হাতের উপর রাখে,আর আলোর হাতের আঙুল গুলো বাকা করে রাখে,,,,

আলোঃআপনি ছেলে আর আমি মেয়ে,, মেয়েটা আর ছেলেটা সামনাসামনি দাড়িয়ে আছে,(দুজনের হাতকে দেখিয়ে)মেয়েটা মনটা খারাপ এজন্য মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।ছেলেটা এখন কি করে মেয়েটার মনটা ভাল করবে, আপনি বলেন তো দেখি,,,(রোদের দিকে তাকিয়ে)

রোদঃ🤔🤔🤔🤔🤔 জানিনা। তুমিই বলো তো,,,।ও হ্যা তাহলে ছেলেটা মেয়েটাকে মারবে,কারন মেয়েটা তো জানে ছেলেটির মেয়েটির মন খারাপ করা মুখ দেখতে পারে না,তাহলে কেন মন খারাপ করে ছেলেটির সামনে আসলো।এজন্য ছেলেটি মেয়েটি এখন ঠাস করে চড় মারবে।

আলোঃআপনি এত বেশি বুঝেন কেন?এখন ছেলেটি মেয়েটিকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরবে।কারন ভালবাসার মানুষ ছেলে হোক বা মেয়ে কেউ কারো মন খারাপ কেউ সহ্য করতে পারে না।আমি জানতে চায় না আপনার কি হয়েছে?তবে এটা বলবো আপনি নিজেকে কষ্ট দিবেন না,কারন আপনার কিছু হলে আমারও কষ্ট লাগে।

রোদঃবাহ আমার এলোকেশীর মাথা এত বুদ্ধি জানতাম না তো,এত ভালবাসার খেলা খেলে আমাকে কত কথা বুঝাচ্ছে ভাবা যাই।তাহলে আমাকেও জড়িয়ে ধরো কারন আমারও এখন মনটা খারাপ। আলো আমি তোমাকে হারাতে পারবো না,তোমার কিছু হলে,আমি কি করবো জানি না?আমি সবকিছু ধবংস করে দিব। আমি তোমাকে এখন কিছু বলতে পারবো না তবে সময় হলে তুমি সব জানতে পারবো।তবে তুমি একটু সাবধানে চলো আলো,আমার মনে হচ্ছে আমাদের সামনে খুব বড় বিপদ আছে।

আলো রোদকে জড়িয়ে ধরে রোদের বুকে মাথা রাখে,আর রোদকে বলে,,
আলোঃআল্লাহ আমাদের জুটি করেই পাঠিয়েছেন,উপর ওয়ালার যা লিখে রাখছেন তাই হবে।আপনি চিন্তা করবেন না,আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।একটা কথা সব সময় মনে রাখবেন যারা সৎ পথে চলে, তারা হাজার বিপদে পড়লেও উপর ওয়ালা একটা না একটা পথ খুলে দেয়।আমি জানিনা আপনি কি নিয়ে এত চিন্তা করছেন,কিন্ত ঠান্ডা মাথা তার সমাধান খুজুন পেয়ে যাবেন।কারন প্রতিটা জিনিস ঠান্ডা মাথায় করলে,, সব পথ গুলো সহজ হয়ে যাই।আপনার পাশে আমি আছি আর থাকবোও,,।

রোদঃএত সহজ ভাবে তুমি আমাকে অনেক কথা বুঝিয়ে দিলে আলো।আমি আসলে একটু ভয় পেয়ে সবকিছু গুলিয়ে ফেলেছি,,

রোদ একটু মুছকি হেসে,আলোকে জড়িয়ে ধরে।ওদিকে মেঘ দিদাকে এটা ওটা বলেই যাচ্ছে আর দিদা রেগে ফায়ার হয়ে যাই,আলো রোদ ডিনার জন্য নিচে আসতে বলে।আলো রোদের থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে,, সবাইকে খাবার জন্য আসতে বলে।রোদ নিচে নেমে দেখে মেঘ আলোর আচল ধরে পেছন পেছন ঘুরছে আর কি সব বকবক করে যাচ্ছে? রোদকে দেখে মেঘ থেমে গেল,রোদ মেঘকে ডেকে কি হয়েছে জানতে চায়লো??মেঘ মাথা নিচু করে বললো,,

মেঘঃআসলে দাভাই আমি পিংকির কালার পেন্সিল গুলো রাগ করে, জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়েছি,আর সেটা পিংকি দেখে ফেলছে তাই ওকে না কিনে দিলে,টিচার কে বলে আমাকে সবার সামনে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে রাখার ব্যবসথা করবে বলছে,,,।তাই তুমি আমাকে নতুন কালার পেন্সিল কিনে দাও৷ওকে আমি দিবো ফেরত দিবো তাই,,

রোদ কালকে কিনে দিবে বলে খেতে বসে।,,মেঘ ভেবেছিলো রোদ বকবে কিন্ত সেটার কিছুই হলো না।সবাইকে খাবার বেড়ে দিল,,।একসময় আলোও ওদের সাথে খেতে বসলো।কিন্ত ফট করে দিদা আলোর দিকে তাকিয়ে,,

দিদাঃদেখ বউ তোমারে একটা কথা কইতাছি,এহনই আবার বাচ্চা কাচ্চা নিয়া নাও। কারন তোমার বয়স ডাও তো দেহি বেশি না এহন ভলো ইইবো একটা বাচ্চা হইয়া গেলে,তখন বেশি বয়স হইলে যদি আবার হইতে না চায়।তাই কইতে আছি যে,এখন একটা বাচ্চা ইইলে খুব একটা খারাপ হইবো না।
দিদার কথা শুনে আলো বিষম খায়,,,কাশতে কাশতে চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু করে দেয়ৃ,রোদ তারাতারি উঠে আলোর দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়,দিদা আর কিছু বলার সাহস পায় না।আলো রোদের দিকে তাকায়, রোদ কিছু না বলে খেয়ে উঠে নিজের রুমে চলে যাই।মেঘও ওর গিয়ে শুয়ে পড়ে,,,আলো কাজ গুছিয়ে ও রুমে চলে যাই।দিদার খেয়ে উনার রুমে চলে গেছে,,,,,।
,,,,,,পরেরদিন সকালে,,,
রোদ নামাজ পড়ে কিছু সময় অফিসের কাজ করে,একবারে সাওয়ার নিয়ে অফিসের জন্য রেডি হয়ে নিচে নামে।আর মেঘও ওর স্কুলের ড্রেস পড়ে রেডি হয়ে আসে,,তারপর ব্রেকফাস্ট করে নেয়,,,রোদ গিয়ে গাড়ি তে বসে কিন্ত আসার নামই নেই ওর।রোদ আবার নেমে ভেতরে যাই,,,গিয়ে দেখে মেঘ এক পায়ে সু পরে উপরে দিকে তাকিয়ে আছে,,

রোদঃতোর কি সময় হচ্ছে না???নাকি তুই সারাদিন এখানেই দাড়িয়ে থাকবি,তোকে কখন বলছি তোরে গাড়িতে গিয়ে বসতে, তাহলে তুই এখনো একপায়ে সু পড়ে দাড়িয়ে আছিস কেন???মেঘ আজ আমার মিটিং আছে,,আমার দেরি হচ্ছে তারাতারি কর,,,😠😠😠😠😠😠😠😠।আর তোর আর এক পায়ের সু কই,,?? 😠😠

মেঘ আঙুল দিয়ে উপরে ঝাড়বাতি টা দেখালো,,??এবার রোদ আরো রেগে গেল,আর মেঘের দিকে তেড়ে গেল।আলো কি হয়েছে??মেঘকে জিজ্ঞাসা করলো,,

মেঘঃআসলে দেখছিলাম,সু আমি কত উপরে উঠাতে পারি এজন্য সু উপরে উঠিয়ে দেখছিলাম,ঠাস করে ঝাড়বাতির মাঝখানে গিয়ে আটকে গেল।এখন আর নামাতে পারছিনা এজন্য ,, 🙄🙄🙄🙄🙄🙄।

রোদঃআলো এবার তুমি ওকে বলবে,,,,,আমার দেরি হচ্ছে তো?😡😡😡😠😠😠😠

আলো মেঘকে অন্য একজোড়া সু পরিয়ে দিল।রোদ রাগে হন হন হন করতে চলে গেল,এবার ওরা দুজনেই বাসা থেকে বের হয়ে গেল।রোদ একটা দোকান থেকে দুই বক্স কালার পেন্সিল কিনলো,,,।আর মেঘ গাড়িতে বসে নতুন কালার পেন্সিল গুলো কাটার দিয়ের কাটতেই আছে,,।রোদ তাকিয়ে দেখছে মেঘের কান্ড,,,

রোদঃতুই এগুলো কি করছিস?এগুলো এভাবে নষ্ট করছিস কেন??😠😠😠।তুই কি আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবি না,সব সময় দুষ্টুমি না করতে হয় না তোর,,😠😠

মেঘঃপিংকি তো নিউ কালার পেন্সিল ছিল না,,পিংকির গ্রিন কালার আর রেড কালার আর ব্লু কালার পেন্সিল টা ইউজ করে ছোট করে ফেলছিলো, তাই আমিও কাটার দিয়ে কেটে ছোট করে তারপরেই ওকে দিবো।🙄🙄🙄🙄।,,,,

রোদঃতোকে নিয়ে আমি আর পারি না,তোর যা ইচ্ছা তুই তাই কর।

রোদ মেঘকে নামিয়ে দিয়ে রোদের অফিসে চলে গেল।
রোদ যাওয়ার পরেই আবার একটা বড় বক্স আসলো,এসাথে একটা চিঠি। আলো সেগুলো রোদের ঘরে রেখে দিল,,,আবার কি মনে করে,,,আলো চিঠিটা হাতে নিল,,,,


চলবে…………………♥♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here