গল্প :- এলোকেশী কন্যা পর্ব ;- ২৭

0
280

গল্প :- এলোকেশী কন্যা
পর্ব ;- ২৭
লেখা :- Nurzahan akter allo



-: রোদঃআলো মেঘ আমার নিজের ভাই না,ও আমার এক বন্ধুর ভালবাসার ফসল।যে আমার সব থেকে ভাল বন্ধু, আমার আপন ভাইয়ের থেকে কম না।আমার কলিজার বন্ধু আহান, আর মৌ ওরা আমাকে বাচাতে গিয়ে আজ ওরা ওই দুর আকাশে তারা হয়ে গেছে,আর তারা তাদের অনাগত বাচ্চার কথাটাও একবার ভেবে দেখে নি,,,,,
আলো রোদের কথা শুনে থম মেরে বসে আছে,আলো এটা কল্পনাও করে নি যে মেঘ কে নিয়ে ও এমন কথা শুনবে।

রোদঃআমি আর আহান একে ওপরের কলিজা ছিলাম,আহান আর মৌ দুজন দুজকে খুব ভাল বাসতো,কোন এক রাতের ওদের ভুলের জন্য মেঘের পৃথিবীতে আসা।
আহান এটা শোনার পর অনেক ভেঙে পড়ছিলো,আমি নিজে দাড়িয়ে থেকে ওদের বিয়ে দিয়েছি,ওদের বাসা থেকে কেউ মেনে নেয়নি আমি ওদের আমাদের বাগান বাড়িটা ওদের নিজেদের নামে লিখে দিয়েছিলাম।দেখতে দেখতে মেঘ পৃথিবীতে আসলো,তবে আহান আর মৌ দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতে পারতো না,ওদের মাঝে খুনসুঁটি ভালবাসা দেখলে মন জুড়িয়ে যেত।

একদিন আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলে রোদ চল কোথায় থেকে আমরা ঘুরে আসি,আমিও রাজি হয়ে ছিলাম,,,বেশ কিছু সময় কাটানোর পর আমার একটা ফোন আসাতে রাস্তার পাশে চলে এসেছি,সেটা খেয়াল করি নি,হুট করে কেউ পেছন থেকে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে,আহান আমার পাশে এসে দাড়াতেই কোথায় থেকে একটা ট্রাক এসে আহান আর মৌ কে রাস্তায় পিসে দিয়ে চলে যাই,আর আমি দাড়ি দাড়িয়ে সেটা দেখেছি,আমি আমার ভাইয়ের মত বন্ধুকে বাচাতে পারি নি,,,,,

,মেঘ তখন চার মাসের ছোট্ট একটা বাচ্চা, আহানের কোলে মেঘ ছিল, আহান তখন ছিটকে মেঘকে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়েছিলো,,,,।মেঘের কান্না আওয়াজে আমার হুশ আসে যে,আমাদের সাথে এটা কি হয়ে গেল,কয়েক মিনিটের মধ্যে ?ওদের কে ওখান থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাই,কিন্তু ওদের বাচাতে পারি নি,,,আহান রক্তে আমার শাট ভিজে গিয়েছিল,,,এত করে ডাকলাম তাও আমাকে ডাক শুনলো না,আমাকে একা করে দিয়ে চলে গেল।😭😭

আলোঃএটা কে বা কারা করছিলো জানতে পারেন নি?ওদের শাস্তি দেন নি কেন?ওরা একটা বাচ্চাকে বাবা মার থেকে দুরে সরিয়ে দিয়েছে,বন্ধু থেকে বন্ধু কে সরিয়ে দিয়েছে,ওদের তো কঠিন শাস্তির পাওয়ার কথা,,

রোদঃআলো একটা কথা জানো তো আমাদের পৃথিবীতে আমরা এমন ভাবে নিজেদের কে তৈরী করছি যে,নিজেকে কেই বাঁচতে হবে,অন্য রা যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের দিকে হাত বাড়ানোর মত কেউ নেই,,,আমরা মানুষরা আমাদের মনের ক্যালকুলেটের দিয়ে অন্যকে ছোট করার হিসেব করি ,কিন্ত বিবেকের হিসেবে আমারা করি না।আমি পরে খোজ নিয়ে জানতে পেরেছিলাম,মৌ এর বাবারা এটা করছিলো,আমি ওদের শাস্তি দিয়েছিলাম,কিন্ত আবার তারাই আজ আমাকে এতিম করে দিয়েছে জানো??
আমার সব আছে কিন্ত আমাদের আদর মাখা সুরে ডাকার মত কেউ ছিল না,আলো মেঘ আমার ভাই আমি আমার মেঘকে আমার মনের মত মানুষ করবো?তোমার কাছে একটাই চাওয়া মেঘকে তুমি দুরে ঠেলে দিও না,ওকে এসব জানতে দিও না,,,পিলিজ আলো।আমার তোমার কাছে এটাই চাওয়া,,,।

আলো এতক্ষণ রোদের কথা শুনছিলো মনযোগ দিয়ে,রোদ এত কথা বললো ঠিকই তার সাথে তার অবাধ্য চোখের পানিও থেমে নেই,,,যেটা আজ কোন বাঁধা দিতে চায় না আলো,মনের কষ্ট গুলো এই অশ্রুর সাথে ধুয়ে যাক না।আলো রোদের দিকে তাকিয়ে রোদের চোখের পানি মুছে দিয়ে,রোদের কপালে ভালবাসার একটা ছোয়া দিলো।রোদ আর নিজেকে আটকাতে না পেরে,,,,
উঠে আলো জড়িয়ে ধরে শব্দ করে কেঁদে দিল,আলো রোদকে জড়িয়ে ধরে থাকলো,,,,আজ রোদ ওর মনের লুকিয়ে থাকা সব কষ্ট গুলোকে মুছে ফেলতে চায়,,রোদ আলোকে এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে যে,রোদের এত বিশাল হাতির মত শরীরের আলোকে ধরছে তো এবার নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে, রোদের চোখের চোখের পানি আলোর কাধে পড়ছে,,,,,

রোদঃজানো আলো, আমি আর আহান কলেজের প্রাণ ছিলাম,আমি আর গিটারে সুর তুল পারি না,আহান নেই আজ কোন আড্ডা নেই, কোন হাসি ঠাট্টা নেই আমি খুব মিস করি আহানকে।ওর মত বন্ধু পাও ভাগ্যের ব্যাপার আলো,প্রতিদিন রাতে ওই দুর আকাশের তারা গুলোর দিকে খুব বলতে ইচ্ছে করে,,,
আহান আবার ফিরে আয় না রে,তোকে ছাড়া যে আমি ভাল নেই।তবে আমার মুখের হাসি টা ফিরে পেয়েছি মেঘের জন্য,,, আহান মেঘের মত খুব দুষ্টু ছিল।রোদ চোখের পানিটা মুছে ফেলে,আলোর কাঁধে থেকে মাথা তুলে ছাদের রেলিং ঘেসে দাড়ায়,,,,,

আলোঃআমাদের ছেলে হলে নাম রাখবো আহান,এই নামের মাঝেই আপনি আবার আপনার বন্ধুকে ডাকার সুযোগ পাবেন,জানেন তো চোখের আড়াল হলে, মনের আড়ালও হয়ে যাই,,,আমরা উনাকে ভুলতে চায় না।

হুমম আলো তুমি একদম ঠিক বলছো,ওদের কথা বলতে বলতে অনেক সময় পেরিয়ে গেল,রোদ আবার জড়িয়ে ধরে বললো,,,
রোদঃআলো আজ নিজেকে খুব হালকা লাগছে জানো তো?আজ কত দিন পর মনে হচ্ছে আমার বুকের উপর থেকে ভারী কিছু সরে গেল,,,
আলোঃহুমম আপনি এত কিছু সহ্য করছেন?আর আপনার মত মানুষ হয় না রোদ বাবু,,,

রোদঃএই তুমি আপনি আপনি বলা কবে ছাড়বে বলো তো?আমার কেমন জানি পর পর লাগে??তুমি আমাকে তুমি করে ডাকবা,,,,

আলোঃ আচ্ছা চেষ্টা করবো,,আর অনেক রাত হয়ে গেছে,এখন নিচে যাওয়া যাক,আর আমার উপর বিশ্বাস রাখুন এসব কথা মেঘ কখনো জানতে পারবে না।আর আমারো তো কেউ নেই আপনাদের ছাড়া,,,,আমি আপনাদের ছাড়া থাকার কথাও কল্পনা করি নি,,,কখনো।
ওরা নিচে নেমে যে যার রুমে চলে গেল।

পরেরদিন সকাল বেলা রোদ নামাজ শেষ করে এসে সোফাতে বসে নিউজ পেপার দেখছিলো,আলো রান্না ঘরে রান্না করছিলো,,,মেঘ এসে রোদের পাশে ধপাস করে বসে,,রোদের দিকে তাকিয়ে,,

মেঘঃদাভাই রকিকে তুমি অন্য কোথাও রেখে এসো,কাল রাতে আমার সব ডোরেমন কেক খেয়ে ফেলছে,আর সব সময় আমার পছন্দের খাবারে ভাগ বসাই,আর খেয়ে খেয়ে আমার থেকে ওর শক্তি বেশি হয়ে গেছে,,,,,

রোদঃতোমারে বলছি না যে,এসব হাজি বাজি খাবে না।এসব খেলে শরীর খারাপ করবে,,???

মেঘঃদাভাই তোমারে বলে লাভ নাই,তুমি উল্টে আমারে বকা দেওয়া শুরু করলে,আমি বউমনিকেই বলে আসি,,,,,,

আলোঃ আচ্ছা আমি রকিকে মানা করবে দিবো যেন,তোমার খাবারে আর ভাগ না বসাই কেমন।😂😂😂

তারপর আবার যে যার মত কাজে গেল,মেঘ কে স্কুলের সামনে নামিয়ে দিল,রোদের থেকে দুইশত টাকা নিয়ে মেঘ দৌড়ে ভেতরে ঢুকে গেল,,,,।আজ মেঘ পিংকে বাদে সবাইকে ফুচকা খাওয়াবে,,,।😎😎😎



চলবে………………♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here