জুনুন (Crazy Lover) #অন্তিম_পর্ব

0
471

#জুনুন (Crazy Lover)
#অন্তিম_পর্ব
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা
__________
লেহেঙ্গার ঢালা হাতে নিয়ে আর্শির কোলের উপরে রেখে দিল তূর্য। চোখ দুটো মিটমিট করে তাকিয়ে দেখে, তার কোলের উপর লেহেঙ্গা রেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে শার্টের কলার ঠিক করছে।
ভ্রু কুঞ্চিত করে প্রশ্ন ছুঁড়ল আর্শি, ‘ এই সবের মানে কি? ‘
‘ মানে টা সিম্পল আজ আমার তোমার বিয়ে তাই তাড়াতাড়ি কনে সাজে নিচে চলে আসো ‘

‘ কিছুতেই না আমি আপনাকে বিয়ে করবো না ‘

‘ কেনো করবে না শুনি? ‘

‘ কারণ আমার বিয়ে ঠিক হয়েগেছে। ‘

‘ কি বললাম তখন বুঝোনি আমি থাকতে তোমার অন্য কারো সাথে বিয়ে হবে না। ‘

আর্শি আর তূর্যর মধ্যে টম এ্যন্ড জেরির মতো ঝগড়া লেগে গেছে, এমন সময় রুমের মধ্যে প্রবেশ করলেন আয়েশা ও শায়েলা বেগম দুজনেই ছোটো বেলার পরম বান্ধবী তবে দু’জনেরই বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। নিজের মাকে এখানে দেখে অবাকই হয় আর্শি, নিরুত্তর হয়ে তাকিয়ে রয়, সে সামনে এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে, ‘ রাজি হয়ে যা মা, তোর বাপের ঠিক করা লম্পট ছেলের থেকে তোর এই ক্রেজি লাভার ছেলেটা শত গুনে ভালো। ‘

আর্শির মুখ থেকে অস্ফুটস্বরে বের হয়ে আসে, ‘ মানে? ‘

‘ মানে হচ্ছে ওইদিন তূর্য আর ওর মা আমাদের বাড়িতে গিয়েছিল তোর সাথে তূর্যর বিয়ের কথা বলতে, তখন অন্তত আমি জানতাম না তূর্য আমার প্রাণপ্রিয় সখীর ছেলে, তূর্য আমাকে সব কিছু খুলে বলে এটাও বলে ও তোকে বিয়ে করতে চায়। আমি প্রথমত সংকোচ করেছিলাম ওরা এত বড়লোক আর আমরা সামান্য বলতে বলতে শায়েলা সেখানে উপস্থিত হয়। পেছনে দাড়িয়ে থেকে বলে, ‘ ধনি গরিব আমরা বিচার করে না। আমাদের কাছে আমাদের ছেলের ভালোবাসা টাই অনেক। ‘ মহিলার গলা চেনা পরিচিত লাগছিল তখন পেছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখি আমার ছোটো বেলার শায়েলা।
দু’জনে গলা জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিয়েছিলাম। পুরে ২৩ বছর পর ওর সাথে আমার দেখা হয়। শুধু তোদের দু’জনের জন্য সেদিন শায়েলা হাত জোর করে তোকে চেয়েছিল তার ছেলে তূর্যর জন্য আর আমি আমার সখীকে না বলতে পারিনি। আমি জানি শায়েলা তোকে নিজের মেয়ের মতো করে রাখবে। আমি তোর বাবার প্রস্তাবে রাজি হচ্ছিলাম না দেখে সে আমার গায়ে হাত তোলে তা দেখে তুই সহ্য করতে না পেরে বিয়ে রাজি হয়ে যাস। নিজের জন্য তোকে এক নরপশুর হাতে তুলে দিতে পারতাম না। ওইদিন রাতে তোর বাবার পিছু নিয়েছিলাম তারপর জানতে পারি সে তোকে বিক্রি করে ফেলেছিল। তোর বদলে বয়স্ক লোকটা তোর বাবাকে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দিচ্ছিল। তারপরেই সেখান থেকে এসে ওই রাতের অন্ধকারে গিয়েছিলাম তূর্যর কাছে তোকে বাঁচানোর জন্য, তারপরেই আমি তোর সাথে আশরাফকে জোর করে আইসক্রিম কিনতে পাঠাই যাতে সহজে তোকে তূর্য তুলে নিয়ে আসতে পারে। আর আশরাফ বাড়ি গিয়ে বলে তোকে কেউ তুলে নিয়ে গেছে। সে খবর শুনে তোর বাপ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।তারপর আমরা ও এখানে চলে আসি। ‘

পেছন থেকে আরও একজন বলল, ‘ আর তুই তো তূর্য ভাইয়াকে ভালোবাসিস শুধু বড়লোক বলে শুধু দূরে সরিয়ে দূরত্ব বজায় রাখতি, ‘

আয়েশাা বেগম ও শায়েলা বেগম সামনে থেকে সরে গেলে দেখল পেছনে তমা দাঁড়িয়ে আছে। মুখে তার শয়তানি হাসি, সবার দিকে বকার মতো তাকিয়ে আছে, পাশ থেকে তূর্য আর্শির দুই গালে হাত রেখে আলতো চাপ দিয়ে বলল, ‘ আমার বোকাপাখি ভালোবাসি বললেই তো পারো মনে মধ্যে লুকিয়ে রাখার কি আছে? ‘

আর্শি লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে ফেলল তা দেখে তূর্য গান ধরল, ‘ লজ্জা পেলে তোমায় লাগে আরও ভালো, ও হোহো তারপর ভুলে গেছি ‘

তূর্যর কথায় সকলে ফিক করে হেঁসে ফেলে সাথে আর্শি নিজেও,

আর্শি মনে মনে বলল, ‘ আমি তোকে সব বলেছি আর তুই ওকে গিয়ে সব বলে দিয়েছিস তমার বাচ্চা একবার পাই তোকে একেলা ‘

সবাই রুম থেকে বের হয়ে চলেগেলো। তমাকে সাজাতে পার্লার থেকে তিনজন মেক-আপ আর্টিস্ট এসেছে তারা আর্শিকে বধু বেসে সাজাচ্ছে।
ঘন্টা খানিক পর আর্শি বিয়ের স্টেজে নিয়ে যাওয়া হলো, সকলে সামনে বসে আছে, সামনে একজন ক্যামেরা ময়ান ভিডিও করছে, রেজিস্ট্রার এসে বিয়ে সম্পূর্ণ করে চলে যান। পরে আবারও কাজী দিয়ে বিয়ে পরানো হয়। একজনকেই দুইবার বিয়ে করল তূর্য।
________
বাসর রাত শত শত ফুলের বিছানার উপর বসে আছে আর্শি, মনে মধ্যে এক অন্য রকম শিহরণ বয়ে যাচ্ছে তার সে গুটিশুটি মেরে বসে আছে, তার হাত পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে সাথে কাঁপা-কাঁপি ও শুরু করেছে।

ঠিক সেই সময় দরজা লাগানোর শব্দে আর্শি কেঁপে উঠল, তূর্য হেঁটে এসে আর্শির পাশে বিছানার উপর বসে, সাথে সাথে ঝড়ের বেগে আর্শি এক গ্লাস গরুর দুধ তূর্যর দিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রথমত তূর্য ভয় পেয়ে যায়, ভেবে নেয় মারার জন্য হয়তো ছুড়ি বের করল। পরক্ষণেই দেখল দুধের গ্লাস। এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুধের গ্লাস টা নিয়ে ঢোকঢোক করে সবটা খেয়ে ফেলে। পরনের শেরওয়ানি খুলে সোফার উপর ছুড়ে ফেলে দেয়। আর্শির এক হাত ধরে টেনে বিছানা থেকে নামিয়ে নিজের বুকের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে পাঁজা কোলে তুলে নেয়। সেভাবে কোলে নিয়েই বেলকনিতে চলে যায়। জ্যোৎস্না মাখা চাঁদের আলো আর্শির মুখের উপর পরছে তা মুগ্ধ নয়তে দেখতে ব্যস্ত তূর্য, মত্ত নেশায় মাতাল হতে ইচ্ছে করছে তূর্যর, সে ঘোর লাগানো দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে আর্শির দিকে, নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে একটু একটু করে আর্শির দিকে ঝুঁকতে লাগল। আর্শি তখন চাঁদ দেখায় মগ্ন ছিল। হঠাৎ ঘাড়ের উপর আলতো ঠোঁটের স্পর্শ পেয়ে সে কেঁপে উঠে শরীর বয়ে যায় তার এক অজানা শিহরণ, নিজের দুই হাত দিয়ে তূর্যর কাছে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌঁড় দিলো সে রুমের ভেতরে। তূর্য ভাবেইনি আর্শি এমন কিছু করবে বেক্কেল বনে গেলো৷ সেও আর্শির পেছনে ছুটে রুমে চলে আসল৷ রুমের দরজা উপর থেকে লক করা সেজন্য আর্শি আর বাহিরে যেতে পারল না। সে অতদূর পর্যন্ত লাগুল পেলো না। নিষ্পলক ভাবে সে দরজার দিকে তাকিয়ে আছে পেছন থেকে তূর্য এসে আর্শিকে জড়িয়ে ধরে। আবারও পাঁজা কোলে তুলে নিলো, আর্শির গালে কপালে থুতনিতে চুমু একে দিয়ে বলল, ‘ খুব ভালোবাসি তোমায় ‘

আর্শি লজ্জামাখা কন্ঠে বলল, ‘ আমিও খুব ভালোবাসি আপনাকে ‘

তূর্যর জেনো খুশিতে লাফ দেওয়ার মতো অবস্থা।

সে আর্শির উদ্দেশ্যে বলল, ‘ চলো ইয়ে করি। ‘

আর্শির রুমের উপরের দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে বলল, ‘ ইয়ে মানে কি? ‘

তূর্য বলে উঠল, ‘ আরে আমার বোকা পাখি ইয়ে মানে বুঝে না ‘

বলে সে আর্শিকে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো তারপর আবারও কানে কানে বলল, ‘ চলো আজ দু’জন ভালোবাসার রং সাগরে ডুব দেই ‘

‘ এত রাতে সাগরে যাবো কেনো ডুব দিতে? বাথরুমেই তো পানি আছে ‘ আর্শি শীতলকন্ঠে বলল।

তূর্য মাথায় হাত দিয়ে বলল, ‘ তুমি কি সত্যিই বুঝো না নাকি বুঝেও না বুঝার ভান করছো? ‘

আর্শি তূর্যর চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ সত্যিই আমি বুঝতেছি না! ‘

তূর্য দুই হাত দিয়ে আর্শির গাল ছুঁয়ে দিয়ে বলল।
‘ এজন্যই তো তুমি আমার বোকাপাখি। এখন চলো বোকাপাখি তোমাকে একটু চালাক বানাই, ইয়ে মানে বুঝাই। ‘

বলে তূর্য তার আঙুলের প্রতিটা ভাজে ভাজে আর্শির আঙুল চেপে ধরে। আর্শির ঠোঁট জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয়। কিছুক্ষণের মধ্যে রুমের লাইট টাও অফ করে দেয়। দু’টি ছায়ামূর্তি এক হয়ে যায় লিপ্ত নিজেদের অষ্টকাজে। এভাবেই পূর্ণতা পায় তূর্য ও আর্শির ভালোবাসা দোয়া করবেন সকলে তারা জেনো সবসময় এমন ভাবেই থাকতে পারে।

সমাপ্ত _______♥

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here