জুনুন (Crazy Lover) #পর্ব_০২

0
397

#জুনুন (Crazy Lover)
#পর্ব_০২
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা
________
কলেজে ঢুকতে যাবো তখনই কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ারা এসে আমার সামনে হাঁটু গেঁড়ে বসল। তাদের সকলের হাতে একটা না একটা কিছু রয়েছে, একজনের হাতে চকোলেট আরেকজনের হাতে চিপস আরেকজনের হাতে ফুল তো আরেকজন হাতে কি জানি কিছু একটা হবে বলতে পারছি না। শপিং ব্যাগের মধ্যে আছে তাই, আমি তাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসার চেষ্টা করে বললাম, ‘ এইসব কি ভাইয়ারা আর আপনারা সবাই একত্রে আমার পথ আটকে দাঁড়িয়েছেন কেনো? ‘

ওমন টাইমে আমার ঠিক পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘ Actually, বেবিগার্ল আমি জানি না তো তুমি ঠিক কি পছন্দ করো। তাই আমার যা যা মনে হয়েছে সব নিয়ে আসছি। এবার তুমি দেখে বলো তোমার কোনটা প্রিয় আর যদি সবগুলোই প্রিয় হয় তাহলে সবগুলোই নিতে পারো। সব তো তোমার জন্যই এনেছি। বলো কোনটা তোমার পছন্দ হয়েছে? ‘

বলে তূর্য আর্শির হাত ধরে নিলো। এ দৃশ্য দেখে আর্শির চোখ কপালে উঠে গেলো। তূর্যের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে চেচিয়ে বলল, ‘ সমস্যা কি আপনার? কাল কি বলেছিলাম ভুলে গেছেন আপনি? আমার আপনাকে পছন্দ নয় আর চাই না আমি এইসব কিছুই প্লিজ আমাকে বিরক্ত করবেন না। ‘

তূর্য রিলাক্স মুডে বলল, ‘ বিরক্ত কোথায় করলাম বেবিগার্ল! আমি তো ভালোবেসে তোমার জন্য সামান্য উপহার এনেছি। ‘

‘ আমার চাই না আপনার ভালোবাসা আর না চাই আপনার উপহার। এই দু’টো নিয়ে বিদায় হোন আমার চোখের সামনে থেকে! ‘

‘ এইভাবে কিভাবে চলে যাবো বেবিগার্ল হুহহ হুহহ, আমি যে তোমাকে ভালোবাসি। আর আমি তূর্য যা চাই তাই পাই, যে জিনিসে হাত দেই সেটা আমার। ‘

‘ আপনি ভুল করছেন মিস্টার তূর্য আমি কোনো জিনিস নই, আমার লাইফ এটা কোনো বাজারে বিক্রি করা বস্তু বা জিনিস নয়। যে আপনি চাইলেই আপনার হয়ে যাবে। ‘

‘ তুমি বাজারে বিক্রি হওয়া বস্তু নও এটা আমি জানি বেবিগার্ল কিন্তু তুমি হয়তো এটা জানো না তূর্য কতা, থাক তোমাকে জানতে হবে না তুমি শুধু এটাই জানো তোমাকে আমি ভালোবাসি। আর এই নাও চকোলেট তোমার জন্য, ‘

বলে সিনিয়র একটা ভাইয়ের হাত থেকে চকোলেট এর বক্স টা নিয়ে আর্শির হাতে দিলো। আর্শি রাগে বক্স টা মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল আর বলল, ‘ আপনি কি পাগল? বুঝেন না আমার কথা আমার কোনো কিছুই চাই না। প্লিজ আমাকে বিরক্ত করবেন না। ‘

বলে আর্শি সাইড কেটে তাদের সামনে থেকে চলে আসল। আর্শি খাবারের অপচয় করা পছন্দ করে না। কিন্তু ওর করার কিছুই ছিল না। এতবার বলার পরেও কেনো সে আর্শিকে বিরক্ত করবে?

বিড়বিড় করে বলতে বলতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিল তখনই, সামনে কেউ একজন হুট করে লাফিয়ে দাঁড়ালো। এতে আর্শি থমথমে হয়ে গেলো। সামনে থাকা লোকটা বলল, ‘ কারণ ছেলেটা যে মেয়ে টাকে খুব বেশি ভালোবাসে, তবে ছেলেটা জানে না মেয়েটা কেনো ছেলে টাকে ভালোবাসে না? ‘

একহাত গালে রেখে বলল, মাথা তুলে সামনে তাকিয়ে দেখে তূর্য দাঁড়িয়ে আছে। প্রথম ভেবেছিল হয়তো কল্পনা করছে তাই পেছনে ঘুরে ভার্সিটির গেইটের সামনে বটগাছের দিকে তাকালো৷ তবে সেখানে তূর্য বাধে সবাই রয়েছে। সামনে ঘুরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলো, ‘ আপনি না ওইখানে ছিলেন এত তারাতাড়ি উপরে কি করে এলেন? ‘

‘ তুমি সুতো ধরে টান দিয়েছো আর আমি ছুটে চলে আসছি। ‘ তূর্য আর্শির চোখে চোখ রেখে কথাটা বলে হঠাৎ চোখ টিপ মারল। ভেবাচেকা খেয়ে গেলো আর্শি কিছুটা বিরক্ত প্রকাশ করে বলল, ‘ সরুন আমার সামনে থেকে ক্লাসে যেতে হবে আমায়! ‘

তূর্য এক সাইড হয়ে গিয়ে এক হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে বলল, ‘ যাও ‘

আর্শি এক মিনিটও সময় ব্যয় না করে ছুটে চলে গেলো। ক্লাসে আসতেই একটু অবাক হলো আর্শি যে বেঞ্চ টাতে সবসময় বসে। সেটার উপরে একটা লাল গোলাপ রাখা। গোলাপটা হাতে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলল মাটিতে দরজার সাথে হেলান দিয়ে সবটা দেখছিল তূর্য। সে ভেবেছিল গোলাপ ফুল দেখে তা হাতে নিয়ে ঘ্রাণ শুকবে নয়তো আলতো ঠোঁটে গোলাপের গায়ে চুমু খাবে কিন্তু করলো ঠিক উল্টো আর্শি ব্যাগ টেবিলের উপর রেখে সামনে দরজার দিকে তাকিয়ে বরফের মতো জমে গেলো। দাঁড়িয়ে রয়েছে তূর্য চোখমুখে রাগের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট ভয়ে এক শুকনো ঢোক গিলল আর্শি। ক্লাসে তখন আর্শি ছাড়া কেউই ছিলো না সবাই বেল পরলে পরে আসবে, ক্লাসের মধ্যে প্রবেশ করল তূর্য নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে টেবিলের উপর পাঞ্চ মারল। আর জোরে চেচিয়ে বলল, ‘ তোমার সাহস হয় কি করে আমার দেওয়া ফুল ফেলে দিতে? ‘
ধমকে কেঁপে উঠল আর্শি। মাথা নিচু করে চোখ জোড়া খিঁচে বন্ধ করে নেয়। ফুলটা যে তূর্য রেখেছে বা রাখতে পারে সে ব্যাপারে কোনো ধারণাই ছিল না তার যদি থাকতো তবে শুধু সেটা ছুঁড়ে ফেলে দিতো না পা দিয়ে ফ্লোরের সাথে পিষে ফেলতো।

আর্শিকে চুপ থাকতে দেখে বেঞ্চের উপর আরও একবার পাঞ্চ মারে চেঁচিয়েই বলল, ‘ কিছু বলছো না কেনো? ‘

আর্শি কাঁপা কাঁপা অবস্থায় বলল, ‘ আম আমি জানতাম না ফুলটা আপনি রেখেছেন, আমি অন্য কেউ রেখেছে ভেবে ফেলে দিয়েছি৷ ‘

তূর্যর রাগ নিমিষেই গলে গেলো সে শীতলকন্ঠে বলল, ‘ বেবিগার্ল তুমি ভেবেছিলে অন্য কেউ তোমাকে ফুল দিয়েছে তাই ফেলে দিছো আর আমি কিসব ভেবে রেগে গিয়েছিলাম। বেবিগার্ল তোমার উপর চিৎকার করেছি ক্ষমা করে দাও। আর আমি থাকতে তোমাকে ফুল দেওয়ার সাহস এই কলেজে কেউই করবে না। ‘

আর্শির এবার কাঁপা-কাঁপি বন্ধ হয়েগেলো৷ নিমিষে রাগ চলে আসল সে রাগে গজগজ করতে গিয়ে বলেই বসল, ‘ আমি জানতাম না ফুলটা অন্য কেউ নয় আপনি রেখেছেন যদি জানতাম তবে শুধু ফেলে দিতাম না পায়ের নিচে ফেলে পিষে ফেলতাম। অন্য সবার দেওয়া কাটা নিতেও রাজি তবুও আপনার দেওয়া ফুল আমি আর্শি নেবো না। আর আমাকে যতসব উল্টা পাল্টা নামে ডাকবেন না। ‘

মাত্রারিতিক্ত রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে আর্শির বা হাত ধরে টেনে পেছনে ঘুরে চেপে ধরল দাঁত কিলবিলিয়ে বলল, ‘ ফুল নাও আর কাটাই নাও নিলে তো আমার থেকেই নিতে হবে আর যদি তা না করো তবে কল্পনা ও করতে পারছো না আমি তার কি অবস্থা করবো যার থেকে কাটা নামক বস্তু নেওয়ার স্বপ্ন আঁকবে। তুমি এখন শুধু আমার ভালোবাসা নও বেবিগার্ল, তুমি এখন আমার জুনুন আর মানুষ জুনুনের জন্য সকল হার্দ সিমা লক্ষ্মণ করতে পারে। তুমি আমাকে বকবে মারবে আমি সহ্য করবো সারাদিন আমাকে তোমার পেছনে ঘুরাবে তাতেও আমি রাজি আমি ঘুরবো তোমার পেছনে তবে দিনশেষে তোমাকে আমারই হতে হবে৷ তুমি শুধু আমার বেবিগার্ল তুমি যদি আমার না হও এই আমি তোমাকে কারো হতে দেবো না। ‘

ব্যথায় কুঁকড়ে বলল,’ আমার হাতে লাগছে। ‘

সাথে সাথে হাত ছেড়ে দিয়ে ক্লাস রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। আর্শি বেঞ্চের উপর বসে এক ধারায় নোনা জল ফেলছে। নিজের উপর রাগ লাগছে তার ইচ্ছে করছে নিজের চুল নিজেই ছিঁড়তে কেনো সে জিদ ধরেছিল এই ভার্সিটিতে এডমিশন নেওয়ার। চোখ টিপটিপ করছে সব কিছু ঝাপসা দেখছে। বা হাতটা লাল হয়ে গেছে খুবই শক্ত করে চেপে ধরেছিল তাই এই হাল। কিছুটা হাতে ব্যথাও অনুভব করছে। তবে ক্লাসের মধ্যে বাকিরা যখন প্রশ্ন করবে হাতে কি হয়েছে তখন তাদের উদ্দেশ্য করে কি বলবে সেটাই ভাবছে৷ এমতাবস্থায় একে একে সকল স্টুডেন্টস ক্লাসের মধ্যে প্রবেশ করছে। তাদের আড়ালে অশ্রু মুছে নিলো। স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে রইল আর্শির পাশের সিটে বসল মীরা সে আর্শির চোখমুখ দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে ও যে কান্না করছে তাই আর্শির দিকে কিছুটা ঝুঁকে কানেকানে প্রশ্ন ছুড়ল, ‘ কি হয়েছে কান্না করেছো কেনো? ‘

আর্শি প্রত্যত্তরে ফেলফেল নয়নে তাকালো। মাথা দুইদিকে দুইবার নাড়িয়ে বুঝালো কিছু হয়নি।
ক্লাসের মধ্যে কিছু বড়লোক শিল্পপতি বাবার ছেলে মেয়ে পড়াশোনা করে, তারা কলেজে পড়াশোনা কম ও ফাজলামি বেশি করতে আসে। তারা ব্যাপারটা বুঝে ফেলে তূর্য যে আর্শির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। মেয়েরা ও ছেলেরা ক্লাসের মধ্যে বসে আর্শিকে উদ্দেশ্য করে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।

‘ যেই না চেহারা দেখছিস এর প্রেমে নাকি কলেজের ক্রাশ তূর্য হাবুডুবু খাচ্ছে ভাবা যায়। কলেজে এত হ*ট কিউট স্মার্ট মেয়ে থাকতে তূর্য এই গেঁয়ো মেয়ের প্রেমে পরেছে। এইটা সত্যি নাকি রে দোস্ত? ‘

একজনকে বলে আরেকজনের সাথে হাইফাই করছে সাথে শব্দ করে হাসছে। আর্শির কান পর্যন্ত সবই পৌঁছাচ্ছে ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কাঁদতে তবে তা করা যাবে না। এখানে কান্না করলে সবাই আর্শিকে দূর্বল ভাববে আর যত যাইহোক এদের মতো অহংকারীদের কাছে নিজেকে দূর্বল প্রমাণ করতে নারাজ আর্শি। শত কষ্টে নিজের দুঃখ যন্ত্রণা নিজের মধ্যেই দাফন করে নেয়। এদের সাথে তর্কে পারা যাবে না। কারণ এরা সব শিল্পপতি আর সবগুলো একজোট আর আর্শি একা। ওদের সাথে মুখ লাগিয়ে ক্লাসের কেউই কথা বলতে যায় না৷ ওরা ওদের সামনে অন্য দেরকে মানুষই ভাবে না।

কিছু সময়ের মধ্যে ক্লাসে স্যার উপস্থিত হয়। পড়াশোনায় খুবই ভালো আর্শি, পড়াশোনার জন্য কখনো কোনো ক্লাসে স্যার বা ম্যাডামের কাছে কটু কথা শুনতে হয়নি তার আর এত ভালো স্টুডেন্ট বলেই স্যার আর ম্যাডাম রা বরাবরই ওকে অনেক আদর স্নেহ করে। এই কলেজে এডমিশন নেওয়ার পর দিন থেকেও একই সবার আদরের একজন ছাত্রী হয়ে উঠে কিন্তু সেটা ক্লাসে যারা ফাজলামি করতে আসে তাদের পছন্দ হয়নি। আর্শি কলেজে আসার পাঁচ দিনের মাথায় সবাই মিলে প্লেন করেছিল আর্শিকে শায়েস্তা করবে। কিন্তু তাদের এই প্লেন সম্পর্কে জেনে গিয়েছিল তূর্য তখন সকলকে সাবধান করেছিল কখনো জেনো আর্শির পেছনে না লাগে তাহলে ওদের একটাকেও তূর্য ছাড়বে না। তাই সেদিনের পর থেকে আর্শিকে কোনো ভাবে বিপদে ফেলার চেষ্টা করেনি তবে সামনাসামনি অনেক অপমান করে। শুধু মাত্র গায়ের রং শ্যামলা আর তাদের মতো বড়লোক নয় বলে৷ একটা মানুষের সৌন্দর্যই কি সব?
আর্শির গায়ের রং শ্যাম বর্ণ তবে চেহারার কাটিং মাশাআল্লাহ খুবই সুন্দর৷ মায়াবী হরিণীর মতো চোখ ঘন কালো লম্বা চুল৷ গোলাপের পাপড়ির মতো চিরল ঠোঁট ঠোঁটের এককোণে ছোটো এক কালো তিল।
সব মিলিয়ে আর্শি সুন্দর আর মানুষের শরীরের সুন্দরের চেয়ে মনের সৌন্দর্য অনেক সুন্দর আর আর্শির সেটা অনেক আছে। আর্শির এই মনের সৌন্দর্যের কাছে ধরা পরেছে তূর্য।

কলেজ ছুটি হওয়ার পর, ক্লাস থেকে বের হয়।
কলেজ ক্যাম্পাসের দিকে যাওয়ার জন্য একটা মেয়ে আর্শি কে ডাকতে আসে।
আর্শিও তার সাথে চলে যায় সেখানে অলরেডি কয়েকজন ছাত্র ছাত্রী কানে ধরে দাঁড়িয়ে আছে, এরা তারাই যারা ক্লাসে আর্শিকে কটু কথা শোনাচ্ছিল, যাদের কথা শুনে চোখের কার্নিশ বেয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ে, দরজার সামনে থেকে সবটাই তূর্য দেখে শুধু ক্লাসে যেতে পারে না তার আগেই আরহাম স্যার এদিকে আসছিলেন। তাই তূর্য ক্লাসের সামনে থেকে নিজের ক্লাসে চলে যায়। তবে মনে মনে ভেবেই রাখে তার বেবিগার্ল এর চোখ বেয়ে পরা অশ্রুর দাম ওদের দিতে হবে।

সবাই আর্শিকে দেখে আর্শির সামনে বসে ক্ষমা চায়। আর্শি তাদের দিকে তাকিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছে এমন ভাব করে মাথা উপর নিচ নাড়ালো।

সবাই ক্ষমা পেয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে চলে যায়।আর্শিও সেখান থেকে চলে যেতে নিলে পেছন থেকে তূর্য এসে বলল। ‘ বেবিগার্ল আজকের পর থেকে তোমাকে কেউই বিরক্ত করবে না আর যদিও করে তুমি শুধু আমাকে বলবা।’

আর্শি রাগান্বিত হয়ে গুরুগম্ভীর কন্ঠে বলল, ‘ আপনাকে কেনো বলবো আপনি কে? আপনি কি এই কলেজের প্রিন্সিপাল না আপনি আইনি লোক। তো আপনাকে কেনো বলবো? আপনি হচ্ছেন একজন গুন্ডা ‘

বলেই আর্শি হনহনিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। অপলক চাহনিতে চাইয়া থাকে আর্শির যাওয়ার দিকে।

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here