জুনুন (Crazy Lover) #পর্ব_০৩

0
318

#জুনুন (Crazy Lover)
#পর্ব_০৩
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা
________
তূর্য ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে গেলে আর্শি দৌঁড়ে ক্লাসে ঢুকে পরে, সে আড়াল থেকে অপেক্ষা করছিল তূর্যর বের হওয়ার। কিছুক্ষণের মধ্যে বেল পরলে সকলে ক্লাসে চলে আসে।
কলেজ ক্যাম্পাসে সবাই বসে বসে গল্প করছে, এমন সময় কাঁধে ব্যাগ জুলিয়ে সেখানে উপস্থিত হল আর্শি, সবাই সবার মতো বসে আড্ডা দিচ্ছে সকলের দিকে চোখ বুলাচ্ছে আর্শি বসার জন্য জায়গা খুঁজছে হয়তো, দূর থেকে এক মেয়ে আর্শির নাম ধরে ডাক দিলো। সে হেঁটে তার কাছে যায় মেয়েটা আর্শিকে তাদের সাথে বসতে বলে। আর্শিও সিনিয়র আপু বলে মাথা দুইদিকে নাড়িয়ে বসল। তারা সবাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আর্শির সম্পর্কে জানতে চাইছে। সে এতটাই বোকা যে যা যা প্রশ্ন করছে সহজ সরল মনে সবই বলছে। মেয়ে গুলো ও অতন্ত্য ভালো তাই তারা নিজেদের সম্পর্কে বলছে ও আর্শিকে নিজের সম্পর্কে বলতে বলছে।
আর্শি ব্যাগ থেকে কিছু নোটস আর বই বের করল। তা দেখে বাকিরা বলল, ‘ এখন এইসব দিয়ে কি করবে? ‘

আর্শি জবাবে বলল, ‘ কিছু নোটস গুলো চেক করা হয়নি। ওইগুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে নিবো। ‘

সিনিয়র আপুরা একে অপরের দিকে চোখাচোখি করছে। ফ্রি টাইমেও নাকি নোটস চেক করবে এমনও কি হয়। তারা বলল, ‘ এখন নোটস চেক করতে হবে না। পরে কোরো এখন আমাদের সাথে একটু সময় কাটাও।

আর্শি ঠোঁট ভাজ করে সবার দিকে তাকালো। তারপর বই ও নোটসগুলো ব্যাগের উপরেই রেখো দিলো। আগেই বলেছিলাম আর্শি সবার সাথে তেমন মিশে না। আর এখানেও নিজেকে uncomfortable অনুভব করছে। উনাদের কে প্রতিদিনই দেখে কিন্তু তাদের সাথে কখনো কথা হয়নি আজই প্রথম কি বলবে না বলবে বুঝে উঠতে পারছে না। সেই সময় সেখানে উপস্থিত হলো তূর্য সাথে আর প্রাণপ্রিয় বন্ধু।

পেছন দিয়ে গিয়ে কানে কানে ফিসফিস করে বলল, ‘ বেবিগার্ল ‘

হঠাৎ পরিচিত কণ্ঠে এই ডাক নামটি শুনে চমকে পেছনে তাকালো আর্শি। তূর্য তার দিকে ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের চোখকে সে বিশ্বাস করতে পারছে না। এক পলক নিশ্চুপ তাকিয়ে থেকে বলে উঠল, ‘ আপনি কোথা থেকে আসলেন এখানে? ‘

‘ বেবিগার্ল তুমি আমার জায়গায় বসে জিজ্ঞেস করছো আমি এখানে কেম আসছি? ‘

‘ মা, মানে? ‘

‘ আরে আমার বোকাপাখি এটা আমার জায়গা যেখানে তুমি বসে আছো আর এরা সব আমার ফ্রেন্ড, সো বেবিগার্ল বিষয় টা দাঁড়ালো কি? আমি না তুমি আমার জায়গায় এসেছো। ‘

‘ আচ্ছা আমিই উঠে যাচ্ছি। ‘

বলে উঠতে নিলে দেখল তূর্য তার দুই হাত আর্শির দুইদিকে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর্শির উঠে যাওয়ার কোনো জো নেই। তূর্যর দিকে তাকিয়ে নিচের ঠোঁট উল্টো পিঠ দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে আছে। একনজর আর্শির ব্যাগের উপর তাকিয়ে ফের বলল, ‘ নোটসগুলো তোমার? দেখি তো একটু ‘

বলে হাত বাড়িয়ে নিতে যাবে তখন আর্শি তার দুই হাত দিয়ে নোটস বই ব্যাগ দুই হাত দিয়ে খাবলে নিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে বলে, ‘ আপনি কেন আমার নোটস চেক করবেন? ‘

‘ আরে বাবা দেখলে কি এমন ক্ষতি হবে? দেখি না একটু, ‘ মিনতি স্বরে বলল।

‘ নাহ ধরবেন না আমার কোনো জিনিসে ‘

‘ একটু দেখবো ‘

‘ নাহহহহ ‘

বলে তূর্যকে এক ধাক্কা মারলো। তূর্য এক দু পা পিছিয়ে যায় সে সুযোগে আর্শি সেখান থেকে দৌঁড়ে পালালো। হাফ ছেড়ে বাচলো ক্লাসের মধ্যে এসে বুকের উপর হাত রেখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলছেন। পেছন থেকে পানির বোতল এগিয়ে দিলে সে সেটা নিয়ে, বোতলের মুখ খুলে ঢোকে ঢোকে অনেকটা পানি পান করে নিলো। তূর্য পেছন থেকে সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, ‘ বেবিগার্ল ‘

তূর্য কে দেখে আর্শির চোখ গোলমাটোল হয়ে গেলো। মুখের থেকে পানি বেরিয়ে সোজা তূর্যর উপরে। আর কে দেখে তূর্যর ভয়ংকরী চেহারা। চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে নিলো। অতিরিক্ত রাগের জন্য নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। আজ আর্শির স্থানে অন্য কেহ থাকিলে কষে উল্টো হাতে চড় মারতো তূর্য শুধু কোনো ভাবেই সে আর্শিকে আঘাত দিতে চায় না তাই চোখ বন্ধ করে নিয়েছে। চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে আর্শি তার সামনে নেই। যখন তূর্য চোখ বন্ধ করে নিয়ে ছিল। তখনই আর্শি ভয়ে পালিয়েছে। ডান হাতের দুই আঙুল দিয়ে চোখের উপর আলতো চাপ দিয়ে ধরে আছে বা হাত কোমড়ে রেখেছে৷

দরজার সামনে থেকে বলল, ‘ তূর্য তোর বোকা পাখি তো কলেজের গেইট পর্যন্ত চলে গেছে কি করেছিলি? ‘

তূর্য ভ্রু কুঞ্চিত করে তাকিয়ে বলল, ‘ ওর সাথে কোনো কিছু করার প্রশ্নই আসে না আমি যে ওকে ভালোবাসি আর যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে নেগেটিভ কিছু থাকে না। ‘

‘ আচ্ছা বুঝলাম, তা তোর শার্টে পানি কিসের? প্যান্টে থাকলে না বলতাম মু’তে দিছিস কিন্তু শার্টে কিভাবে উপর থেকে নিচে? ‘

বলে আর্বিকের হাসতে হাসতে প্রাণ যায়যায় অবস্থা। তূর্য রেগে গিয়ে ‘সালা আজ হচ্ছে তোর ‘ বলে আর্বিকের পেছনে ছুটল।
_____

বাড়িতে পৌঁছে রাতের জন্য মাটির চুলায় রান্না বসালো আর্শি, মা অসুস্থ তেমন কোনো কিছুই করতে পারে না। বাবা সারাদিন বাংলা বাজারে মদ খেয়ে পরে থাকে। বাড়িতে আসার নামে কোনো খবর নেই, যখনই টাকার প্রয়োজন হয় তখনই বাড়ির দিকে ছুটে আসে একে একে বাড়ির ভালো ভালো আসবাবপত্র সব বিক্রি করে দিয়েছে। এখন শুধু এই ভিটে মাটি টুকু যা আছে। আশেপাশের বাচ্চাদের টিউশনি করিয়ে সংসার চালায়। সেখানে মাঝেমধ্যে এসে মা মেয়ের উপর হাতও তুলে টাকা না দিলেই সে এতটুকু ভাবে না সংসার টা কিভাবে চলে? ছোটো একটা ভাই আছে সে এবার ফাইভে উঠেছে, আর্শি মেধা ভালো তাই সে শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য কলেজে চান্স পেয়েছে।

রান্ন বান্না শেষ করে তাকে আবার টিউশনির জন্য বের হতে হবে। সেখান থেকে ফিরে আসলে নিজের পড়া পড়তে হবে পাশাপাশি ভাইটা কেও পড়া দেখিয়ে দিতে হবে। এটাই রোজকার রুটিন আর্শির এমন ভাবেই চলে আসছে৷ তার ভাবনা এমন ভাবেই চলবে।
______
আর্শি যতটা সম্ভব তূর্যর থেকে দূরে থাকে। কিন্তু তূর্য কোনো না কোনো বাহানা দিয়ে আর্শির সামনে চলে আসে। ক্লাসের সবাই বিরতি টাইমে গানের কলি খেলছিল তখন সেখানে তূর্য ও তার কিছু ফ্রেন্ডস এসে হাজির হলো। খেলাধুলোয় আর্শির তেমন একটা আগ্রহ নেই সে তার সবটুকু দিয়ে দিয়েছে তার পড়াশোনার মধ্যে তূর্যর দিকে এক নজর তাকিয়ে আবারও বইয়ের দিকে বুক গুঁজে দিলো। খেলায় অংশ গ্রহন করল তূর্য তাকে বলা হলো ‘ আ ‘ দিয়ে একটা গান গাওয়ার জন্য সে আর কি কিছুক্ষণ চুপ থেকে গান গাওয়া শুরু করল।

আমার মন তোর পাড়ায়
এসেছে তোরই আশকারায়, 🌸

তোকে বলব ভাবি কিছু অল্প কথায়
তুই স্বপ্নে ছিলি, ছিলি গল্প কথায়,
আজ তোর নামে রাত নামে দিন কেটে যায়,

আমার মন তোর পাড়ায়
এসেছে তোরই আশকারায় 🌸

আমার মন তোর পাড়ায়
এসেছে তোরই আশকারায়, 🌸

তোকে বলব ভাবি কিছু অল্প কথায়
তুই স্বপ্নে ছিলি, ছিলি গল্প কথায়,
আজ তোর নামে রাত নামে দিন কেটে যায়,

আমার মন তোর পাড়ায়
এসেছে তোরই আশকারায় 🌸

মেয়েরা সবাই তূর্যর উপর এমনিতেই ফিদা আর আজ গান শোনার পর তো একদম গায়েল হয়ে গেলো৷ সব মেয়েরাই গায়ে পরা তূর্যর গায়ের সাথে গেষে গেষে বসে আছে আর নানান কথা বলছে। কিন্তু তূর্যর দুচোখ শুধু আর্শি কে দেখছে কিন্তু আর্শির সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই।

#চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here