জুনুন (Crazy Lover) #পর্ব_০৫

0
310

#জুনুন (Crazy Lover)
#পর্ব_০৫
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা
______
কলেজ গেইটের সামনে গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, চোখে পানি ছলছল করছে শুধু টুপ করে বেয়ে পরার অপেক্ষা।
ক্ষিপ্ত চোখে তাকিয়ে আছে, পাশে দাড়িয়ে থাকা আলভী বোকার মতো তাকিয়ে আছে, তূর্য মাত্রারিতিক্ত ক্ষোভ নিয়ে আলভীর পাঞ্জাবির কলার চেপে ধরল। পেছনে ধাক্কা দিতে দিতে গেইটের গ্রিলের সাথে চেপে ধরে। রাগে কপালের রগ ফুলে উঠেছে, চোখগুলো লাল আকৃতি ধারণ করেছে, দেখতে খুবই ভয়ংকর লাগছে৷ দৌঁড়ে গিয়ে পাশ থেকে আর্শি আলভীর থেকে তূর্যর হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলে৷ তূর্য উল্টো হাতে আবারও আর্শির গালে চড় বসায়। চড়ের মাত্রা অধিক হওয়ায় তাল সামলাতে না পেরে আবারও মাটিতে পরে যায়। মাটিতে পরার সাথে ‘মা গো’ বলে কুঁকড়ে উঠে হাতের দিকটায় অনেকটা জায়গা ছিলে যায়।
ওদিকে তূর্য আলভী কে মেরে রক্তাক্ত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এতক্ষণে কলেজের গেইটে সবার ভিড় জমে গেছে, তূর্য আঙুল তুলে সবাইকে উদ্দেশ্য করে রাগী গলায় বলল, ‘ আর্শি শুধু আমার, আর আমার জিনিসের উপর অন্য কারো নজর আমি বরদাস্ত করবো না। আজকের পর থেকে আর্শির সাথে কথা বলা তো দূর ওর দিকে চোখ তুলে যে তাকাবে তার আমি এই অবস্থাই করবো। মাইন্ড ইট ‘

আঙুল নাচিয়ে কথা গুলো বলে আর্শির পাশ কাটিয়ে চলে যায়। মাটিতে বসে চোখ জোড়া বন্ধ করে কাঁদছে সে জানেই না এমন কি হয়েছে যার জন্য তূর্য এমন বিহেভ করলো ওর সাথে তাও আবার কলেজের সবার সামনে। লজ্জায় ঘৃণায় মাথা তুলে তাকাতে পারছে না সে। তূর্য চলে যেতেই আলভীর কিছু ফ্রেন্ড তাকে ধরাধরি করে হাসপাতাল নিয়ে যায়।

দুই গালে পাঁচ আঙুলের দাগ স্পষ্ট, হঠাৎ কাঁধে কারো স্পর্শ পেয়ে চোখ তুলে তাকালো আর্শি, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল তমা করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে তার দিকে৷ তমাকে প্রথমত দেখে নিষ্পলক ভাবে দুই সেকেন্ড তাকিয়ে থাকে পরক্ষণেই তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পরে। তমা আর্শির পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে ধীর কন্ঠে বলতে লাগল, ‘ শান্ত হো আর্শি খুব বড় ভুল করে ফেলেছিস তুই এই কলেজে এডমিশন নিয়ে। তুই নতুন তাই তূর্য ভাইয়াকে তেমন জানিস না। সে খুবই ডেঞ্জারাস। তবে আমি এটা বুঝছি না উনি তোর সাথে এমন করলেন কেনো? পুরো কলেজের মেয়েরা তার জন্য পাগল কিন্তু তার তাদের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। না দেখেছি তাকে কোনোদিন কোনো মেয়ের প্রতি ইন্টারেস্ট দেখাতে, তাহলে তোর সাথে কেন? কেস টা কি আমাকে খুলে বলবি? ‘
আর্শি দুই হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখের পানি মুছে নেয়, গেইটের সামনে বসেই তমাকে আর্শি সব কিছু খুলে বলে, ফাস্ট ডে থেকে এই একটু আগ মুহূর্ত আগ পর্যন্ত সব বলে৷ সব কিছু শুনে বেশ গম্ভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে পরে তমা।
______
কলেজের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিল তূর্য ও তার বন্ধুরা, তখনই তূর্যর চোখ গিয়ে আটকে পরলো গেইটের দিকে, বেগুনি রঙের শাড়ি, খোলা চুল সাথে হাতে মেচিং করে কাঁচের চুড়ি পরে সে এদিকেই আসছে, তাকে দেখতে অমায়িক সুন্দর লাগছে, জেনো কোনো হুরপরী হেঁটে এদিকে আসছে। মন মুগ্ধতায় ছেয়ে গেছে। পাশ থেকে অর্ক তূর্যর হাতে গুঁতো দিয়ে বলল, ‘ ভাই এখানেই স্টপ খা এত বড় হা করিস না মশা ঢুকে যাবে। ‘

বললে বাকিরা শব্দ করে হাসতে শুরু করে। অর্কর কথায় তূর্যার ধ্যান তো ভাঙে কিন্তু চোখ এখনও আর্শির উপরেই স্থির রয়েছে। মুখে ফুটে উঠেছে তর এক চিলতে মনমুগ্ধকর হাসি।

আর্শি এসে সবার আগে তার ক্লাইমেট দের সাথে দেখা করে, তারা আর্শিকে দেখে রীতিমতো অবাক হয়, বেগুনি শাড়িতে তাকে বেশ সুন্দর লাগছে। সবাই প্রশংসা ও করে আর্শিও তাদেরকে বেশি সুন্দর লাগছে বলে প্রশংসা করে৷ তূর্য লুকিয়ে লুকিয়ে আর্শিকে বারবার দেখছে। সব কিছু ভালোই চলছিল।
ঘন্টা খানিক বাদ, আর্শি সবার উদ্দেশ্য বলল, ‘ আমাকে এখন বাড়ি ফিরতে হবে। আমার অসুস্থ মা বাড়িতে একা আছে ছোট ভাইটাও স্কুলে, আমি এখন আসি। ‘

আর্শির মা অসুস্থ বলে বাকিরাও আর বাধা দিলো না সবার থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলো অডিটোরিয়াম থেকে৷ বিপত্তি হলো কলেজ গেইটের সামনে এসে, একটা ছেলে হুট করে পেছন থেকে আর্শির সামনে দৌঁড়ে এসে দাঁড়ালো। আর্শি ভয়ে আতকে উঠল, ছেলেটা বলল, ‘ তোমার সাথে কিছু কথা ছিল৷ আমি কলেজে তোমাকে লক্ষ্য করি তুমি সবসময়ই একা থাকো। তোমার সঙ্গে কেউ থাকে না তাই বলছিলাম আমি কি তোমার বন্ধু হতে পারি? ‘

আর্শি নিরুত্তর তার এখন কি বলা উচিত সে ভেবেই পাচ্ছে না। কলেজের দুই তলা থেকে ‘আর্শি’ নাম ধরে কেউ চিৎকার দিলো। এমনভাবে নিজের নামের প্রতিধ্বনি শুনে পুরো শরীর ঘুরিয়ে পেছনে তাকালো আর্শি। তেমন কাউকেই তার নজরে পরছে না।

কিছুক্ষণ আগে, চুলগুলো ছাড়া বলে তার খুব অস্তিত্ব হচ্ছিল সাথে এত কড়া রোদের জন্য গরমও লাগছিল৷ তাই সে দুই হাত দিয়ে পেঁচিয়ে চুলগুলো উঁচুতে তুলে নিয়ে খোঁপা বেঁধে নেয়। এতে বাকিরা নারাজ হলেও আর্শির এখন স্বত্বি ফিল হচ্ছে।

বর্তমান, তাকে কে ডেকেছে দেখার জন্য কলেজের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। পেছন থেকে ছেলেটা নিজের এক হাত উঠিয়ে আর্শির উন্মুক্ত পিঠে হাত রাখতে যাবে তখনই তূর্য এসে ছেলেটার হাত ধরে ফেলে। এইসব থেকে অজ্ঞ আর্শি। নিজের হাতের সাথে কারো হাতের কষা লাগলে পেছনে ঘুরে তাকায়।
পেছনে তাকিয়ে আর্শি হতভম্ব হয়ে যায়৷ তূর্য তার শক্তপোক্ত এক হাত দিয়ে লোকটার এক হাত চেপে ধরেছে তো আরেক হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরেছে। কি হচ্ছে কোনো কিছুই বুঝতে না পেরে আর্শি তূর্যর হাতের উপর হাত রেখে আলভীকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে বলতে লাগল, ‘ ছাড়ুন করছেন টা কি মেরে ফেলবেন নাকি। ছাড়ুন বলছি মরে যাবে তো ‘

তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আর্শির হাত ধরে নেয় তূর্য, আলভীকে ছাড়ার সময় একটা ধাক্কা দেয় যার ফলে সে মাটিতে পরে যায়। পরক্ষণেই উঠে দাঁড়িয়ে পরে।

আর্শির হাত এত শক্ত করে চেপে ধরেছে যে তার হাতের কাচের চুড়ি গুলো ভেঙে দু’জনের হাতেই ফুটে চুইচুই করে রক্ত পরছে। আর্শির চোখে অশ্রু জড় হয়েছে। হাত ধরে নিজের দিকে টান দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে রাগে গজগজ করতে করতে ধমকের স্বরে গর্জন দিয়ে বলল, ‘ শরীর কি অন্যদের দেখানোর জন্য? অর্ধেক পিঠ উলঙ্গ করে রাখছিস কেন ছেলেদের স্পর্শ করার জন্য?

এমন ভাবে বিহেভ করছে দেখে আর্শির অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে, আশেপাশের বাকিরা তূর্যর গর্জনে আতকে উঠে, যে যেখানে ছিল সে সেখানেই দাঁড়িয়ে রয় তাদের সকলের দৃষ্টি এখন, তূর্য আর্শি আর আলভীর উপরে। আর্শি বড়সড় ঢোক গিলে তূর্যর মুখের উপর চেচিয়ে বলল, ‘ আমি কি পরবো কি পরবো না সেটা আপনার থেকে জানতে হবে না। ‘

কথাটা বলতে দেরি হয় কিন্তু তূর্যর হাত তুলতে দেরি হয়না৷ চেচিয়ে বলে, ‘ যা তা পরার অনুমতি তোর নেই। তোর শরীরের অঙ্গ অন্যদের দেখানোরও কোনো অধিকার তোর নেই ‘
থাপ্পড় খেয়ে মাটিতে পরে আর্শি তূর্যর হাতের পাঁচ টা আঙুলের ছাপ গালে বসে পরে। মাথা ঝিম ধরে আসছে চোখে সে ঝাপসা দেখছে। হঠাৎ করে চড় মারায় সে স্বস্ত হয়ে গেছে। আর্শির গালে হাত তোলা দেখে তূর্যর দিকে এগিয়ে আসে আলভী, ও ওর একহাত তুলে তূর্যকে পাঞ্চ মারতে নিলে উল্টো তূর্য আলভীর হাত ধরে ওর হাত ও গলা আগের ন্যায় ধরে পেছনে গেইটের সাথে চেপে ধরে।

অতিরিক্তি রাগের পর্যাপ্ত পরিমাণ কারণ ও আছে, তূর্য আর্শিকে ছয়মাস ধরে ভালোবাসে অথচ স্বপ্নেও খারাপ নেগেটিভ কোনো কিছু কল্পনা করেনি সেখানে আলভীর মতো ছেলের সাহস হয় কি করে তারই আড়ালে তার গায়ে হাত দিতে যাওয়ার। দূর থেকেই তূর্য আর্শিকে দেখছিল। যখন ছেলের সাথে কথা বলতে দেখল তখনই হন্তদন্ত হয়ে এদিকে আসলে লাগল। আর্শিকে ডাক দিয়েছিল তমা। তমা কে ডাক দিয়েছিল অর্ক, সেজন্য তমা সেখান থেকে সরে অর্কর সামনে চলে যায়। তাই আর্শি পেছনে ঘুরে কাউকে দেখতে পায় না। সেই সুযোগে আলভী আর্শির পিঠে হাত রাখতে নেয়। ব্যস্ত পায়ে ছুটে এসে আলভীর হাত ধরে নেয় তূর্য। সবটাই দুইতলা থেকে তমা দেখছিল কিন্তু দেখতে পায়নি আর্শি।
______
গালে হাত দিয়ে লেপ্টে থাকা অশ্রু মুছে দিতে নিলে আর্শি ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে, এমনটা নয় যে সে এই প্রথম মার খেয়েছে। তার শরীরে রয়েছে হাজারও আঘাতের ক্ষত যা দিয়েছে তার নিজেরই জন্মদাতা পিতা। তবে সেগুলো শুধু পিঠ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। আজ প্রথম তার দুই গালে কেউ চড় মারল তাও তার সর্বশক্তি দিয়ে। তমা আর্শির হাত ধরে উঠে দাঁড় করায়। নিজের সাথে নিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে বসায়। নিজেও উঠে বসে ড্রাইভার কে বলে গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যেতে, গালের যা অবস্থা এক তো পাঁচটা আঙুলের ছাপ দ্বিতীয় ও তো গাল লাল টকটকে হয়ে আছে। এই অবস্থায় বাড়ি গেলে আয়েশা বেগম হাজারটা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিবেন তার দিকে, এর থেকে ভালো এখন তমার সাথে ওর বাড়িতেই যাওয়া।

বাড়িতে এসে হল রুমে সোফার উপর বসায় আর্শিকে। তমা ফ্রিজ থেকে কিছু বরফের টুকরো এনে আর্শির গালে চেপে ধরে। ব্যাথায় কুকড়ে উঠে আর্শি তবে কিছুটা শান্তি ও পাচ্ছে। বাড়িতে তমা ও কিছ স্টাফ ছাড়া কেউ নেই, তার বাবা কাজের জন্য দেশের বাহিরে থাকে আর মা অফিসে থাকে। সারাদিন বাড়িতে একাই থাকতে হয় তাকে। তার মা কখন আসে আর কখন যায় সে বলতেও পারে না। শুধু শুক্রবার ছাড়া তার মায়ের সাথে দেখা করা খুবই মুশকিল। দুজন কাজের চাপে সন্তানকে ছোট থেকেই সময় দেননা তারা স্বামী স্ত্রী, ছোট থেকেই একা একা বড় হয়েছে তমা, আগে খারাপ লাগতো সময়ের সাথে সাথে সেও নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে। বাবা মা’র ভালোবাসা তার জন্য নয়। তবে যেদিন থেকে সে আর্শিকে তার বন্ধু হিসাবে পেয়েছে সেদিন থেকেই তার জীবনটা বদলে যায়। জীবনে একজন ভালো বন্ধু একটা পুরো লাইব্রেরির সমান আর আর্শি গরিব ঘরের মেয়ে তার এত অহংকার নেই, সে তো সহজ সরল। দুজনের বন্ধুত্ব খুব জমে।

গালে বরফ লাগিয়ে দিয়ে, ফাস্ট-এইড বক্স থেকে সে ঔষধ ও মলম বের করে আর্শির গালে লাগিয়ে দিলো। একজন মহিলা স্টাফ কে বলল, তাদের দুজনের জন্য কিছু খাবার রেডি করে তার রুমে দিয়ে আসতে। ততক্ষণে আর্শি বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নিবে। আর্শিকে নিয়ে তমা তার রুমে চলে গেলো। বিশাল রুম আর্শির বাসার দুইটা রুমও জেনো এই রুমের কাছে ছোটো, রুমটা খুবই সুন্দর রুমের মধ্যে সব কিছু একদম সাজানো গোছানো, রুমের মধ্যে সবকিছু এক রঙের, বিছানার চাদর জানালার পর্দা বালিশের কভার সবগুলো আকাশী কালারের। দেখতে খুবই সুন্দর। খাটের উপর বড় একটা ফ্রেম তাতে তমার একটা ছবি, রুমটা দেখে মুগ্ধ হয়েছে আর্শি, তার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তমা আর্শির কাধে হাত রাখলে আর্শি বিস্মিত হয়ে তাকায় তমার দিকে, তমা তার আলমারী থেকে একটা নতুন ড্রেস এনে আর্শিকে দেয়। বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এই ধুলো ময়লা শাড়ি খুলে এই জামাটা পরে আসার জন্যে জামাটা অনেক দামী ও অনেক সুন্দর আর্শির সাদ্য কোথায় এই জামা স্পর্শ করে দেখার সেখানে তাকে পরতে বলা হচ্ছে। জামার উপরে হাত বুলিয়ে দিয়ে শীতলকন্ঠে বলল, ‘ নারে তুই আমাকে তোর বাড়িতে নিয়ে আসছিস এত আদর যত্ন করছিস এটাই আমার কাছে আকাশ ছোঁয়ার মতো আমার এই জামার প্রয়োজন নেই, ‘

তবে তমা আর্শির কোনো কথাই শুনলো না। জামা সহ আর্শিকে ঢেলে বাথরুমে ঢুকিয়ে দিলো। বাধ্য হয়ে তাকে পরতেই হলো। বাথরুমে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দুই গালে চোখ বুলাচ্ছে পরক্ষণেই চোখ ভাড়ি হয়ে গেলো। দুই চোখের কার্নিশে অশ্রু জমেছে। তমা বাহির থেকে ডাক দিতে হন্তদন্ত হয়ে বের হয় আর্শি। আর্শিকে দেখে তমা বলল, ‘ এই জামা তে অনেক সুন্দর লাগছে পুরো সাদার মধ্যে গোল্ডেন কালার একটা গোলজামা। খুবই সুন্দর লাগছে, আর্শি uncomfortable ফিল করছে তা ওর নাক মুখের কাচুমাচু ভঙ্গি দেখে তমা ঢের বুঝতে পারছে , তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বলল, ‘ তোকে এখন যা লাগছে না, আমি যদি ছেলে হতাম তো এখনই তোকে বিয়ে করে নিতাম। ‘

তমার কথায় মৃদু হাসে আর্শি তমাও হাসতে লাগে, তখনই দরজায় কড়া পরল, খাবার এনে টেবিলের উপর রেখে চলে যায়৷ দু’জনে এক সাথে খেতে বসে, তমা আর্শিকে ভালোবেসে খাইয়ে দিচ্ছে আবারও আর্শি ও তাই করছে। এই মুহূর্তে সে কিছু সময় আগের মর্মান্তিক ঘটনা ভুলে যায়।
______
অন্ধকার ঘরের মধ্যে গর্জন দিয়ে উঠল সে, অন্ধকারে বারবার দেয়ালে পাঞ্চ করছে, হাত ফেটে রক্ত জড়ছে, প্রত্যেক টা পাঞ্চ মারার সময় ভয়ংকর ভয়ংকর গর্জন দিচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো রুম কেঁপে কেঁপে উঠছে, নিজের শরীরের রক্ত জড়িয়েও তাতে তার অন্তরে শান্তি মিলছে না। তাই সে ঘনঘম দেয়ালে আঘাত করতে ব্যস্ত হয়ে পরল।

#চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here