জুনুন (Crazy Lover) #পর্ব_০৬

0
299

#জুনুন (Crazy Lover)
#পর্ব_০৬
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা
______
নিজের উপর মাত্রারিতিক্ত রাগ হচ্ছে, কি ভাবে পারল এই হাত দিয়ে নিজের কলিজার গালে আঘাত করতে, যত বেশি ভাবছে ততই রাগে হচ্ছে, রাগ কমাতে ওই হাত দিয়ে দেয়ালে পাঞ্চ মারছে যে হাত দিয়ে আর্শির গালে চড় মেরেছিল।
একটা সময় ক্লান্ত হয়ে রুমে দেয়ালে লাথি মেরে মেঝেতে বসে পরে। হাত থেকে এখনও রক্ত জড়ছে,

আর্শি ও তমার খাওয়া শেষ হলে দু’জন বেশ কিছুক্ষণ বিছানার উপর শুয়ে গল্প করে। গালের দাগটা স্বাভাবিক হতে বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাগিদা দেয়। এতক্ষণ গল্প করে পরে বাড়িতে একা থাকতে তারও ভালো লাগবে না তাই আর্শির সাথে তার বাড়ি চলে গেলো।

আর্শির বাড়ি তমার বাড়ি সমতূল্য তুচ্ছ, তমা বাড়ির ভেতরে গিয়ে খাটের উপর বসে। তমাকে দেখে আশরাফ দৌঁড়ে আসে। আশরাফের কথা তমা জানে তাই তার জন্য অনেকগুলো চকোলেট কিনে নিয়ে আসে। চকোলেট পেয়ে সে অনেক খুশি হয়। মুখে ছোট্ট করে ‘ থ্যাংক ইউ ‘ বলে চলে যায়।

তমাকে দেখে আয়েশা বেগম খুবই খুশি হয়। ওর কথা আর্শির মুখে অনেক শুনেছে সে। তমার পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে। তমা আয়েশা বেগমের মুখের দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে থাকে। তার নিজের মা কখনো তার পাশে বসে এমন ভাবে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়নি।

আয়েশা বেগম তমার জন্য নিজে হাতে ঘরে থাকা কিছু টুকিটাকি খাবার এনে দেয়। তিনজনে মিলে আবার গল্প শুরু করে দেয়।
______
ক্লাসে বসে আপন মনে পড়তে ছিল আর্শি। হন্তদন্ত হয়ে ক্লাসে ছুটে আসল তূর্য এসেই আর্শির পায়ের কাছে বসে পরল। দুই হাত নিজের হাতের মুঠির মধ্যে নিয়ে আমতা আমতা বলতে শুরু করল।
‘ আমাকে ক্ষমা করে দাও বোকাপাখি আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি তখন রাগের মাথায় তোমার গায়ে আঘাত করে ফেলেছি আমি। প্লিজ বোকাপাখি আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমি কি করবো বলো যা করলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিবে? বলো না বোকাপাখি তুমি যা বলবে আমি তাই করবো। ‘

আর্শি হতবাক হয়ে তূর্যর কান্ড দেখছে সে কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে পাগলের মতো করছে নিজেই নিজের গালে থাপ্পড় দিচ্ছে আবার আর্শির দু-হাত টেনে নিয়ে তার গালে চড় দেওয়াচ্ছে। হতভম্ব হয়ে গেছে আর্শি ভয়ে দিশাহীন হয়ে বলল, ‘ আমি আপনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি এখন চলে যান আমার ক্লাস থেকে ‘

তূর্য ভ্রুখানিক কুঞ্চিত করে প্রশ্ন ছুড়ল, ‘ তুমি আমাকে মারো তারপর তুমি আমাকে ক্ষমা করো৷ ‘

আর্শি অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, ‘ তার কোনো প্রয়োজন নেই আমি আপনাকে এমনি ক্ষমা করে দিয়েছি। আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরেছেন এটাই অনেক, তাছাড়া কাল তমা পরে আমাকে সবটাই বলেছে কেনো আপনি এত ক্ষেপে গিয়ে ছিলেন। ‘

এই কথার পিঠে তূর্যর আর কোনো কথা বলার নেই তবুও সে বলল, ‘ বোকাপাখি সত্যি ক্ষমা করেছো তো? ‘

আর্শি ছোটো করে উত্তর দিলো, ‘ হুম ‘

তূর্য ক্লাস থেকে বেরিয়ে চলে গেলো।
________
বাড়িতে ফিরতেই ঝামেলার সম্মুখীন হতে হলো আর্শিকে, তার বাবা বাড়িতে এসে হাজির, এসেই টাকার খোঁজ করছে, আর্শি বাড়িতে ছিল না। তাই আয়েশা বেগম ও আশরাফের সাথে খুবই বাজে ব্যবহার করে। আর্শি বাড়িতে আসতে ওর সাথেও শুরু করে দেয়। ওর এসব আর ভালো লাগে না বিতৃষ্ণা হয়ে গেছে। কালই একটা টিউশনির টাকা পেয়েছে হাতে সেখান থেকে গুনে ৩০০টাকা সে তার বাবার হাতে দিয়ে দেয়। টাকা পকেটে গুজে সেও হেঁটে বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যায়। বাড়ির সাইডে একটা বড় গাছের আড়াল থেকে সবটা দেখছিল, আর্শির বাবাকে ফলো করে। সে যেখানে যায় সেখানে গিয়ে তার সাথে আলাদা করে কথা বলে। তার প্রতিদিনের খাওয়ার খরচ সে দিবে বিনিময়ে তার সাথে উনার বড় মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। লোভে পরে পরে আসিফ আলী রাজী হয়ে যায়। আজ পেটপুরে খেয়েদেয়ে মাঝরাতে বাড়ি ফিরে।

সকালে সকালে বাড়িতে একটা ঝামেলা সৃষ্টি করে। বাড়িতে আর্শির বিয়ের কথা তুলতেই একটা তুলকালাম সৃষ্টি হয়৷ কোনো ভাবেই আয়েশা বেগম এ বিয়েতে রাজি নয়। আর আর্শি তো আরও রাজি নয়। যে নিজে নেশাখোর সে আর কত ভালো ছেলে খুঁজে আনবে বিয়ের জন্য এটা সে ভালো করেই আন্দাজ করতে পারছেন। বিয়েতে অমত করায় আসিফ আলি আয়েশা বেগমের গায়ে হাত তুললেন। ঘরের কোণায় এক লাঠি ছিল সেটা দিয়েই তার উপর আঘাত করতেছেন। মারের আঘাতে ঘায়েল হয়ে মুখ থেকে অস্ফুটস্বর বেরিয়ে আসছে। আশরাফ পাশে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে চিৎকার দিয়ে আপা আপা বলে ডাকতে থাকে, ভাইয়ের ডাক শুনে রুম থেকে ছুটে বেরিয়ে আসে আর্শি। মাকে মারতে দেখে বাবার পায়ে পরে যায়। কান্না ভেজা কন্ঠে বলে উঠে, ‘ বাবা আমার মাকে মেরো না। তুমি যা বলবে আমি তাই করবো যাকে বলবে তাকেই বিয়ে করবো। দয়া করে আমার মাকে মেরো না। ‘

লাঠি টা দূরে ছিটকে ফেলে দিয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, ‘ এই তো আমার মেয়ের মতো কথা। ‘

বলে শয়তানি হাসি দিয়ে বাসা থেকে প্রস্থান করলেন।
মা ও ভাইয়ের গলা জড়িয়ে ধরে কান্না কাটি জুড়ে দেয় তারাও কাঁদতে শুরু করে।
__________
দুইদিনের মধ্যেই বিয়ে তাই আর্শিকে কলেজে যেতে নিষেধ দিয়েছেন তার বাবা। বিয়ের কথা আর্শি আর কাউকে না বললেও শুধু তমাকে জানিয়েছে।
তমা ক্লাসে বসে বাকিদের সাথে মনমরা হয়ে কথা বলছিল। গত কাল আর্শি কলেজে আসেনি আর আজকেও কোথাও দেখছে না দেখে সোজা ক্লাসে গিয়ে উপস্থিত হয় তূর্য, তূর্যকে দেখে থতমত খেয়ে যায় সবাই। ব্যস্ত পায়ে হেঁটে তমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে, ‘ আর্শি কলেজ কেনো আসছে না? ও কি অসুস্থ? ‘

তমা কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ করে রয়। তা দেখে রাগে বেঞ্চের উপর পাঞ্চ মারে আর চেচিয়ে বলে, ‘ আর্শি কোথায়? ‘

দুই চোখ খিচে বন্ধ করে নেয় তমা। আপনা আপনি মুখ দিয়ে বলি ফুটতে থাকে, ‘ ওর বাবা ওর জন্য ছেলে দেখেছে আর তার সাথেই ওর আগামীকাল বিয়ে ‘

কথাগুলো বলে আবারও চোখ খুলে। চোখ বড়বড় রসগোল্লার মতো করে দুইহাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে।
তূর্য রাগী গলায় বিড়বিড় করে বলল, ‘ করাচ্ছি ওকে বিয়ে! ‘ বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়,
_______
সন্ধ্যার পর, আশরাফ বায়না ধরে আইসক্রিম খাবে৷ তাই ভাইকে সাথে নিয়ে দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে। পাশাপাশি হেঁটে বাড়ি ফিরছিল, তখনই একটা কালো গাড়ি এসে পাশে থামে গাড়ি থেকে দু’জন লোক নেমে আর্শিকে টেনে গাড়িতে উঠিয়ে নেয়।
আশরাফ আইসক্রিম মাটিতে ফেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ির দিকে দৌঁড় দেয়। বাড়িতে পৌঁছে তার মায়ের কাছে গিয়ে সম্পূর্ণ ঘটনা বলে, আতঙ্কে চিৎকার দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় আয়েশা বেগম।

একটা রুমের মধ্যে আর্শিকে রেখে তারা চলে গেছেন। হঠাৎ চোখ মেলে লাফিয়ে উঠল সে, উঠে দেখে চারদিকে শুধু ফুল আর ফুল পুরো রুমটাই ফুলে সজ্জিত, পুরো বিছানা জুড়ে শুধু ফুল। আর্শিকে সিঙ্গেল সোফার উপর আধশোয়া করে রেখেছিল। সোফার সামনে ছোট টেবিল তার উপরে বিয়ের লেহেঙ্গা, পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে শুধু ফুল আর লেহেঙ্গা এতটুকুই দেখতে পেলো।

আর্শির ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দরজা ঠেলে কেউ একজন সিটি বাজাতে বাজাতে ভেতরে আসল। পেছনে ঘুরে তূর্যকে দেখে আঁতকে উঠল আর্শি সিটি বাজানো বন্ধ করে বলল, ‘ বোকাপাখি তুমি ভাবলে কি করে? তোমার বিয়ে অন্য কারো সাথে আমি তূর্য বেঁচে থাকতে হতে দেবো? ‘

আর্শি শুকনো ঢোক গিলে প্রশ্ন ছুড়ল, ‘ মানে? আপনি আমাকে এখানে তুলে এনেছেন? ‘

ডেভিল হাসি দিয়ে বলল, ‘ ইয়েস বেবি! ‘

আর্শি চেঁচিয়ে বলল, ‘ কেনো? ‘

‘ ওমা, এই ফুলে সজ্জিত বাসর ঘর দেখেও তুমি বুঝতে পারছো না কেনো? তোমার সাথে বাসর করবো বলে। ‘

‘ কিহহহ ‘

‘ হুহ ‘ মুখের ডেভিল হাসি দিয়ে এক পা দু পা করে আর্শির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভয় পেয়ে একপা করে পিছিয়ে যাচ্ছে আর্শি। পেছনে ছোট টেবিলের সাথে পা লেগে পরে যেতে নিলে তূর্য আর্শিকে ধরতে যাবে তার আগে সে নিজেই নিজেকে সামলে নেয়। তা দেখে বাঁকা হেঁসে আর্শির দিকে কিছুটা ঝুকে এক হাত বাড়িয়ে দিতে লাগল। আর্শি ভয়ে জড়সড় হয়ে নিজেকে যথাযথ গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তূর্য একদম আর্শির কাছে চলে গেছে তূর্যর গরম নিশ্বাস আর্শি চোখে মুখের উপর পরছে, আর্শি ভয়ে চোখ জোড়া খিচে বন্ধ করে নিয়েছে, তূর্য তখন এক হাত তুলে আর্শির ডান পাশে রা.

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here