জুনুন (Crazy_Lover),সূচনা_পর্ব

0
607

#জুনুন (Crazy_Lover),সূচনা_পর্ব
#শারমিন_আক্তার_বর্ষা

প্রথম বার যখন তাকে দেখবেন মনে হবে সে খুবই ইগোস্টিক মেয়ে। সাধারণ পরিবারের মেয়ে আর্শি, খুবই সহজ সরল মনের দিক থেকে খুব ভালো। তবে সবার সাথে তেমন একটা মিশে না। নিজেকে সবার থেকে আলাদা রাখতেই সে পছন্দ করে। সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখে, নিজে থেকে কখনো কারো সাথে কথা বলবে না তবে তার সাথে কথা বলতে গেলে সে মৃদু হেঁসে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে আবারও চুপ হয়ে যায়। সব সময় নিজের মধ্যেই থাকে আমাদের কলেজে এডমিশন নিয়েছে আজ প্রায় ছয় মাস প্রথম দিন থেকেই তাকে আমার ভালো লাগে কখন যে ভালোলাগা ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে বুঝতেই পারিনি। দুইদিন লেগে ছিল আর্শির নামটা জানতে, কারণ ও নতুন যখন এসেছিল সেদিন অনেক ভয়ে ভয়ে ছিল যা ওর ফেস দেখে বুঝা গিয়েছিল। এত মাসে যত টুকু চিনেছি দেখেছি ওকে, কখনো কারো সাথে ব্যবহার লুস করতো না। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতো কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতো না. কিন্তু কেউ ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করলে ও কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা বলতো না। আমি তুর্য, পুরো নাম তুর্য আহমেদ।
এবার কাহিনিটা বলি:

আর্শি বেশ অনেক দিন ধরেই লক্ষ্য করছে একটা ছেলে মানে আমি ওকে follow করছি বেশ কিছু দিন ধরেই আঁড়চোখে আমাকে দেখলে তাকিয়ে থাকে। আমিও সাহস করে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যাই না। আমার বন্ধ নিহাল একটা মেয়েকে প্রপোজ করেছিল। আর সে মেয়ে মাঝ রাস্তায় আমার বন্ধু নিহালকে আমারই সামনে ঠাসসস করে চড় মেরেছিল। সেদিনের পর থেকে মেয়েদের থেকেই দশ হাত দূরে থাকি। কিন্তু আর্শি মেয়েটাই অন্য রকম।

আর্শি ফাস্ট লক্ষ্য করেছিল আমি ওকে যখনই দেখতাম মুচকি মুচকি হাসতাম আর শুধু তাকিয়ে থাকতাম। সে থেকেই ওর সন্দেহ শুরু হয়। এই রকমই চলতে থাকলো অনেক দিন। হুট করে একদিন দেখলাম ও কলেজে হিজাব পরে আসছে চোখ দুটি ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না ম্যাজাজ অনেক খারাপ হয়েছিল কিন্তু করার মতো কিছুই ছিল না।
হঠাৎ, একদিন আর্শির কাছে ওর এক ক্লাসমেট নিপা কে আমার মনের কথা সব বলে ওর কাছে পাঠাই, সে গিয়ে বলল, ‘ ওই সিনিয়র তুর্য ভাইয়াটা তোকে ভালোবাসে। ‘

আর তা শুনে আর্শি রাগে গজগজ করতে করতে বলে,
‘ ওই উনার কি মুখ নাই ভিতূ নাকি উনি? ‘
নিপা বলল, ‘ কেন? ‘
তখন আর্শি বললো, ‘ উনি নিজে না বলে তোকে কেনো পাঠিয়েছে বলতে উনি নিজে বলতে পারে না? ও নিজের মুখে যেদিন বলবে সেদিনই জবাব দেবো যা গিয়ে বলে দিস। ‘
নিপা এসে আমাকে ঠিক এই কথা গুলোই বললো।
তার অনেক দিন পর্যন্ত তুর্যকে চিন্তিত দেখা গেলো আর তা লক্ষ্য করল আর্শি।
তার ১সপ্তাহ পর, আমি সুযোগ বুঝে আর্শির কাছে গেলাম। ও তখন ক্লাস এ একা একা বসে বই পড়ছিলো।
আমি জিজ্ঞেস করি, ‘ কেমন আছো? কি করছো? ‘
একটা ছেলের আওয়াজ শুনে মাথা তুলে উপরে তাকিয়ে এক নজর দেখে প্রত্যত্তরে বলল, ‘ ভালো আছি! বই পড়ছি দেখতে পারছেন না? ‘

আনি: হুম বই পড়ছো তা তো দেখতেই পারছি, বায় দ্য ওয়ে যে কারণে আমি এখানে এসেছি শুনো, আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই অনেক দিন ধরে বলবো ভাবছিলাম। আজ ভাবলাম বলেই ফেলি।

আর্শি: কি বলবেন বলেন আমি শুনছি! (বইয়ের মধ্যে মুখ গুঁজে রেখেই বলল)

আমি: আমি তোমাকে. আমি তোমাকে. ইয়ে মানে আমি তোমাকে।
আর্শি কপাল ভাজ করে কিছুটা রেগে গিয়ে বললো, ‘ কি আমি তোমাকে আমি তোমাকে লাগিয়ে রেখেছেন? আমি তোমাকে বাধ দিয়ে আগে কিছু বলবেন? আমি তোমাকে এই পর্যন্ত তিনবার বলে ফেলছেন। আর না বললে যান আমার ক্লাস থেকে।

আমি তার মুখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম ফের অনেক্ষণ পর বললাম, ‘ আই লাভ ইউ আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি অনেক বার বলতে চেয়েছি কিন্তু বলতে পারিনি আর তুমিই তো সেদিন বললে আমি নিজের মুখে বললে তুমি জবাব দিবে তাই আজ সাহস করে বললাম। ‘

আমার কথা শুনে রীতিমতো আর্শি মনে হচ্ছে কোমায় চলে গেছে তাই তার হুশশ ফিরিয়ে আনার জন্য চোখের সামনে ডান হাত দিয়ে তুড়ি বাড়িয়ে প্রশ্ন ছুড়লাম। ‘ কি হলো, চুপ করে আছো কেনো? কিছু বলো উওর দিবে না? ‘

আর্শি এখনও চুপ করেই রয়েছে। কিছুক্ষণ পর ভ্রুকুটি কুঞ্চন করে বিরক্তি নিয়ে বলল, ‘ যান তো আপনি আমার ক্লাস থেকে। ‘

আমিও কম কিসে বলেই ফেললাম, ‘ উওর না নিয়ে যাবো না! না মানে না যাবোই না ‘

আমাকে হতবাক করে দিয়ে আর্শি বলল, ‘ না গেলে নাই, বইসা থাকেন আমিই যাই। ‘

আমি আর্শিকে যেতে না দিয়ে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরলাম আর বললাম, ‘ দাঁড়াও, দাঁড়াও! তোমার ক্লাস রুম ছেড়ে তোমাকে যেতে হবে না। আমিই চলে যাচ্ছি কিন্তু আমি মাঝে মাঝে আসবো আমার উওর জানার জন্য বুঝেছো আমার কিন্তু উত্তর চাই। সেটা যাইহোক হ্যাঁ অথবা না আমার উত্তর চাই, যতদিন সময় লাগে নাও সমস্যা নেই আমি সময় দেবো কিন্তু উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো। ‘ এই বলে আমি আর্শির ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে আসলাম।

তুর্য চলে যাওয়ার পর আর্শি হাসতে লাগলো।
তারপর হতে মাঝে মাঝেই তুর্য আর্শুির ক্লাস এ আসে উওর জানার জন্য কিন্তু আর্শি কিছুি বলতো না, তুর্যকে দেখলে নিজেকে গুটিয়ে নিতো, এভাবেই চলতে লাগল, প্রতিনিয়ত তুর্যকে ক্লাসে আসতে দেখে সবার সন্দেহ হতে লাগে। তারপর একদিন আর্শি তুর্যর কাছে গিয়ে রিকুয়েষ্ট করল।
‘ একটা বলার জন্য আসছি প্লিজ মন দিয়ে শুনবেন! ‘
তুর্য: ‘হুম বলো। ‘
বেঞ্চের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল।

আর্শি: ‘ আপনি আর আমার ক্লাসে যাবেন না আর যদিও যান তবে আমার থেকে দূরে থাকবেন। অনেকেই আমাকে অনেক কথা বলেছে। অনেক সন্দেহ করছে আপনার সাথে আমার রিলেশন চলছে কিন্তু এইসব সত্য নয়। আমি হাত জোর করে বলছি। আমাকে আর বিরক্ত করবেন না। আমি কলেজে পড়তে এসেছি প্রেম পিরিতি করতে নয়। ‘

বলে আর্শি হনহনিয়ে চলে গেলো। মাত্রারিতিক্ত রাগ ও ক্ষোভ নিয়ে তুর্য বেঞ্চের উপরের বই ও ব্যাগ ফ্লোরে ছুড়ে মারল। কোনো ভাবেই এই প্রত্যাখান তুর্য মেনে নিতে পারবে না। সে আর্শি কে ভালোবাসে আর যে কোনো কিছুর মূল্যে আর্শিকে তার চাই। এতদিন আর্শি শুধু তার প্রতি তুর্যর ভালোবাসা দেখেছে আজ থেকে জুনুন দেখবে।

চলবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here