টিভি না পেয়ে বিয়েতে তুমুল ঝগড়া, বরকে ফিরিয়ে দিলেন কনে

যৌতুক প্রথা বিবাহের পবিত্র বন্ধনকে অভিশপ্ত করে। এই যৌতুক প্রথা বর্তমান সমাজে মৌখিকভাবে অতীব ঘৃনিত, কিন্তু অন্তরালে এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে, যৌতুক ছাড়া বিয়ে অকল্পনীয়। এই প্রথাটাকে সমাজ অতি উচ্চভাবে গ্রহন করেছে। গরিব বাবা–মা মেয়ের জন্মের পর থেকেই যৌতুক নিয়ে ভীষণভাবে চিন্তিত থাকে। যৌতুক প্রথা একটি সামাজিক আভিশাপ। এই যৌতুক প্রথা বর্তমানে পারিবারিক সংস্কৃতি ও মানসিক ব্যাপারে রুপ নিয়েছে।এবার যৌতুক নিয়ে ঘটলো তেমনি একটি বিপত্তিকর ঘটনা।

 

বিয়েতে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, সোনার গয়না, আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছে।কিন্তু বিপত্তি ঘটে টিভি না পাওয়ায়। আর এ নিয়ে দুই পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি। এ ঘটনার জেরে মেয়ে আর যেতে চায়নি শ্বশুরবাড়িতে। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ভারতের পুরাতন মালদহের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের খয়রাতি পাড়ায়।

ঘটনায় দুই পক্ষই একে অন্যকে দোষারোপ করছে। মালদহ থানার আইসি শান্তিনাথ পাঁজা  অবশ্য বলেন, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, খয়রাতি পাড়া এলাকার নিশীথ কুণ্ডুর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় মঙ্গলবাড়ির এক তরুণীর। তরুণীর বাবার ইংরেজবাজার শহরে কাপড়ের দোকান রয়েছে।

গত সোমবার দু’জনের বিয়ে হয়। মঙ্গলবার ছিল অনুষ্ঠান। মেয়ের পরিবারের দাবি, বিয়েতে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, সোনার গয়না, আসবাবপত্র দেওয়া হয়েছে।

তবে দাবি অনুসারে টিভি দিতে না পারায় উত্তেজিত হয়ে পড়ে পাত্র পক্ষ। বিয়ে পর্ব হয়ে গেলেও তারা মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে অস্বীকার করে। তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল ঝগড়া, এমনকি হাতাহাতিও হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

এ পরিস্থিতিতে পাত্রীও শ্বশুরবাড়ি যেতে আপত্তি জানায়। পাত্রীর এক আত্মীয় বলেন, সামান্য টিভির জন্য মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যেতে অস্বীকার করে ছেলের বাড়ির লোকজন। সেই পরিবারে আমরা মেয়েকে পাঠাতে চাই না।

পাত্রের পাল্টা বক্তব্য, আমাদের কোনো দাবি ছিল না। বিয়ের পর মেয়ের বাড়ির লোকজন আমাকে ঘরজামাই থাকার প্রস্তাব দেয়। আপত্তি করতেই মারধর করে।

ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শঙ্কু সিংহ বলেন, বিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের একটা গোলমাল হয়েছিল।বিষয়টি দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, যৌতুক প্রথা নিয়ে যে সকল আইন বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান তা যৌতুক প্রথা নির্মূলে যথেষ্ঠ কার্যকর কোন ভুমিকা রাখতে পারছে না। যৌতুক বর্তমানে পারিবারিক সংস্কৃতি ও মানসিক ব্যাপারে রুপ নিয়েছে। সার্বিক ভাবে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মনের পরিবর্তন না হলে এই প্রথা বিলুপ্ত হবে না। ফলে যৌতুক প্রথা বন্ধ করতে সমাজকে সচেতন করতে হবে। সম্মিলিত ভাবে উদ্যোগ না নিলে যৌতুক প্র‍থা নামক অভিশাপ থেকে সমাজকে কখনোই মুক্ত করা সম্ভব হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *