দিনমজুরের ৬ মেয়ে: কেউ ডাক্তার, কেউ DSP, কেউ মেয়র!

দিনমজুরের ৬ মেয়ে: কেউ ডাক্তার, কেউ DSP, কেউ মেয়র!

শিক্ষা সব চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে তুমি গোটা বিশ্ব পাল্টাতে পারো।’ নেলসন ম্যান্ডেলার অমর বাণী-ই সত্যি করে দেখালেন এমন একজন মানুষ যাকে পড়াশোনা চালানোর জন্য খেতমজুরের কাজ করতে হয়েছে। যিনি দলিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও গ্রামের প্রথম ব্যক্তি হিসাবে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেন।

যেখানে মেয়ে সন্তানকে অভিশাপ বলে মনে করা হয়, সেখানে নিজের ৬ কন্যা সন্তানকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এমন নীরবে কাজ করে যাওয়া এক ‘হিরো’কে নিয়েই এই নিবেদন। খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।

ভারতের রাজস্থানের জয়সলমের জেলার চেলাক গ্রামে এক দলিত পরিবারে জন্ম রূপরাম ধনদেবের। খেতমজুর বাবা পরিবারের খুন্নিবৃত্তি করতেই দিন গুজরান করতেন। তবুও সেটা সম্ভব হত না। গ্রামের

পাঠশালায় পড়াশোনা শুরু করেন রূপরাম। সেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লাগাতার প্রথম হওয়ার পর পাঠাশালার প্রধান শিক্ষকের নজরে পড়েন রূপরাম। প্রধান শিক্ষক গিয়ে তার বাবাকে অনুরোধ করেন যাতে ছেলের পড়া বন্ধ না হয়। ২৭৫ কিমি দূরে নাচনা গ্রামে এক সরকারি স্কুলে ভর্তি হয়ে যান রূপরাম। সেখানেও জারি থাকে তার প্রথম হওয়ার দৌড়।

এর পর আর গ্রামের গণ্ডিতে তাকে বেঁধে রাখা যায়নি। জয়সলমেরে হাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় সেই গ্রামের স্কুলের শিক্ষকই তাঁকে সাহায্য করেন। তাঁর পরামর্শেই অঙ্ক নিয়ে দশম শ্রেণিতে ভর্তি হন। একাদশ শ্রেণিতে দুরন্ত ফল করেন। পরে শিক্ষকদের পরামর্শেই তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া শুরু করেন। রূপরামের কথায়, ‘সেটাই ছিল আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এটাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আমার পরিবারে কেউ লেখাপড়া জানতেন না। তাই কারও সঙ্গে পরামর্শ করতে পারতাম না। শিক্ষকদের কাছ থেকে যে সাহায্য পেয়েছি তা জীবনে ভুলব না।’

Admin