ভালোবাসা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধাদের সঙ্গে ইসলামীর শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রম ভালোবাসা

ভালোবাসা দিবসে বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধাদের সঙ্গে ইসলামীর শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রম ভালোবাসা

আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সারাদিন ভালোবাসার দিন। সারাদেশে যখন ঢাক-ঢোল পিটিয়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। পরিবারের সদস্যরা যখন সবাই সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত, ক্যাম্পাসের প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিরা ব্যস্ত একে অন্যকে নিয়ে; ঠিক তখনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) লেকের অন্য পাড়ে দেখা মেলে এক অন্য ভালোবাসার আয়োজন।

আয়োজন জুড়ে আছে কুষ্টিয়ার উদয়ন বৃদ্ধাশ্রমের ২৬ জন ভালোবাসা বঞ্চিত মা। তারা সবাই কারো না কারো মা, তাদেরও পরিবার ছিল। ছিল স্বপ্ন-সুখের সংসারও। কালের পরিক্রমায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সবাই। কারো ছেলের দ্বিতল ফ্ল্যাটে মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। তারা ভালোবাসা বঞ্চিত, পরিবার সমাজ থেকে। তাদের খোঁজ কেউ রাখে না। হয়তো অনেকে রাখে অনেকটা বিবেকের তাড়নায়।

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে যেখানে ভালবাসার ছড়াছড়ি সেই ভালোবাসা থেকে একটু ভালোবাসা মায়ের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমধর্মী ভালোবাসা ভাগাভাগির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান কিছু শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই লেকের পাড়ে দিনটিকে উদযাপন করেন তারা। ভালোবাসা ভাগাভাগি করতে বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা মধ্যাহ্ন ভোজ, বস্ত্র বিতরণ ও খেলাধুলা, গান ও গল্প আর আড্ডায় মেতেছিলেন সারাদিন।

এ সময় মায়েদের চোখে আনন্দের অশ্রু আর মুখে তৃপ্তির হাঁসি লক্ষ্য করা যায়। বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের মধ্যে অনেকে নিঃসন্তান রয়েছেন। আবেগ-আপ্লুত হয়ে তারা নিজ সন্তান ভেবে অনেককে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম ভালোবাসা দিবসের ভালোবাসা। ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সোনালী আক্তার বলেন, গতানুগতিক ভালোবাসার বাহিরে এসে অসহায় মায়েদের নিয়ে সময় কাটানোর ইচ্ছেটা অনেক দিনের। সেই ইচ্ছেটার পূরণ হলো বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। এই অসহায় মায়েদের মুখের দিকে তাকালে আমার মায়ের মুখচ্ছবি আমি দেখতে পাই।

দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশিদুজ্জামান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী লেখক ও গবেষক ডা. সারিয়া সুলতানা ও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল অফিসার রিপন উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাহানারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহম্মদ শরীফ। দিবসটিকে যখন গতানুগতিক ধারায় পালন করে চরেছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে এমন ব্যতিক্রম আয়োজনে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর ভালোবাসা দিবসে সবাই নিজ নিজ পরিবারের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করেন। তবে এসব মায়েরা সেই ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত থাকেন। সেই মায়েদের মাঝে খাবার বিতরণ, বস্ত্র ও সময় দিয়ে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগটি অসাধারণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমনি হওয়া প্রয়োজন। ড. রাশিদুজ্জামান বলেন, আমরা বৃদ্ধাশ্রম চাই না, আমাদের প্রতিটি গৃহ গৃহাশ্রম হয়ে উঠুক। সমাজের বিত্তবানরা একটু সহযোগিতার হাত বাড়ালে এসব মায়েদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ যা করল তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *